Now Reading
ডাইনোসর বিলুপ্ত হওয়ার রহস্য



ডাইনোসর বিলুপ্ত হওয়ার রহস্য

পৃথিবীর ইতিহাসে সমস্ত শক্তিশালী জীবের উদ্ভবের সাথে সাথে তাদের ধ্বংশের কথা বর্ণিত আছে। ডাইনোসরের ক্ষেত্রেও এর কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। আজ থেকে প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে জন্ম হয়েছিল ডাইনোসরদের। ১৪ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণি হিসেবে তারা পৃথিবীতে রাজত্ব করে। কিন্তু সর্বোচ্ছ শক্তিমানদেরও শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি। যদিও পৃথিবীর আবহাওয়া ছিল মনোরম এবং পর্যাপ্ত খাদ্যের কোন অভাব ছিল না। তবুও আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ডাইনোসরদের জন্য বেজে উঠেছিল মৃত্যুর ঘন্টা।
কি এমন ঘটেছিল সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে যা পৃথিবী থেকে ডাইনোসরদের সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দিয়েছিল। এটা জানতে হলে আমাদেরও ফিরে যেতে হবে সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে, সূযের পরিমিত আলো, সমুদ্র থেকে আগত ঠান্ডা বাতাস, পর্যাপ্ত খাবার অর্থাৎ বেঁচে থাকার অনূকূল পরিবেশে ডাইনোসররা পৃথিবীটা রাজত্ব করছিল। তাদের প্রবল দাপটে অন্যান্য প্রাণীরা অর্থাৎ স্তন্যপায়ি প্রাণীরা ছিল অত্যন্ত ভিতু। এরা মাটির নিচে বসবাস করতো। ডাইনোসররা আকারে বৃহত হলেও সরীসৃপ বর্গের অন্তর্ভূক্ত প্রাণি, এর ডিম প্রসব করে বংশ বিস্তার করতো। সুতরাং বেঁচে থাকার জন্য ডাইনোসরদের আলাদা করে কোন লড়াই করতে হয়নি। কিন্তু মহাবিশ্বের খামখেয়ালির হাত থেকে কারো নিস্তার নেই। তাই যখন ডাইনোসররা পৃথিবীতে তাদের সুখের জীবন অতিবাহিত করছে, তখন মহাবিশ্বে হঠাৎ নেমে এলো প্রলয়ের আশংঙ্কা।
পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি মাইল দূরে মঙ্গল আর বৃহস্পতি গ্রহের ঠিক মাঝখানে ঘটতে থাকা একটি গ্রহাণু বিপরীত দিক থেকে প্রবল বেগে ছুটে আসা অন্য একটি ছোট গ্রহাণুর সাথে ধাক্কা খায়। এর জন্য বড় গ্রহণুটি ভারসাম্য হারিয়ে প্রতি ঘন্টায় ২২ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বর্ষনজনিত বলের কারণে গ্রহাণুটি একটি জলন্ত অগ্নিপিন্ডে পরিণত হয় এবং এটার গতিবেগও বেড়ে যায় কয়েক হাজার গুণ। মাত্র সাড়ে চারমিনিটে গ্রহাণুটি আটলান্টিক মহাসাগরকে অতিক্রম করে। পৃথিবীতে আছড়ে পরার আগেই গ্রহাণুটির প্রচন্ড আলোর কিরনে পৃথিবীর হাজার প্রাণি তাদের দৃষ্টি শক্তি হারায়। কিছুক্ষনের মধ্যে গ্রহাণুটি মেক্সিকোরর মাটিতে আছড়ে পরে এবং প্রচন্ড শক্তিশালি বিস্ফোরণ ঘটায়। এই বিস্ফোরনটি ছিল অন্তত ১০টি হাইড্রোজেন বোমের বিস্ফোরনের সমান। বিস্ফোরনের সাথে সাথে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিস্ফোরনের ফলে ১৮০ কিলোমিটার চওড়া এবং ২০ কিলোমিটার গভির একটা গর্ত সৃষ্টি হয়। এই ভয়ংকর বিস্ফোরনের ফলে সৃষ্টি হওয়া গর্তটি সমস্ত ধাতু এবং পাথর ধূলোয় পরিণত হয়। আর আকাশে ধুলোর মেঘ সৃষ্টি করে। বিস্ফোরনের কিছুক্ষন পর পৃথিবীতে ভূ-কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-কম্পনের ফলে একদিকে সমুদ্রে সৃষ্টি হয় জলোচ্ছাস অন্যদিকে সমস্ত সক্রিয় অগ্নীগিরি জেগে উঠে শুরু করে অগ্নিপাত। একিসাথে শুরু হয়ে যায় ডাইনোসর নিধন যোগ্য। এই বিস্ফোরনের ফলে এর অগ্নিপাত শক্তির মাত্রা এত বেশি ছিল যে, এর ৮০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত জীব দেহ পুরে ছায় হয়ে যায়। স্থলভাগে বসবাস করা ডাইনোসরদের ধীরে ধীরে মৃত্যু ঘটে। ডানা ওয়ালা ডাইনোসররা এই অগ্নিপাত থেকে রক্ষা পেলেও মৃত্যুর কবল থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। বিস্ফোরেনের ফলে যে লক্ষ লক্ষ টন পাথর এবং ধাতু বায়ুমন্ডল ভেদ করে আকাশে পৌঁছে গিয়েছিল, বিস্ফোরনের ঠিক চল্লিশ মিনিট পর মাধ্যাকার্ষণের টানে সেগুলো জলন্ত অগ্নিগোলকের মত পুনরায় পৃথিবীতে বর্ষিত হতে থাকে। অন্যদিকে বিস্ফোরনের ফলে সৃষ্ট ধুলোর মেঘ প্রতি ঘন্টায় ৬ হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীতে আছড়ে পরে এবং পৃথিবীতে সূর্য রশ্মিকে পৌঁছাতে বাধা দেই। ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যায়। ফলে পৃথিবীর সমস্ত জীবদেহ ছায় তে রূপান্তরিত হয়। প্রাণী ও উদ্ভিদ নির্বিশেষে সকলের মৃত্যু ঘটে। এর পরে ভাগ্যক্রমে যে প্রাণীগুলো বেঁচে ছিল খাদ্যঅভাবে তাদেরও মৃত্যু ঘটে।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment