Now Reading
বিশ্বের নিকৃষ্ট কিছু কারাগার



বিশ্বের নিকৃষ্ট কিছু কারাগার

একজন মানুষের প্রতি অবিচার সমস্ত মানব জাতির প্রতি অবিচার। অপরাধ করলে সাজা পেতে হবে এ কথার সাথে সম্ভবত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অপরাধিও দ্বিমত প্রকাশ করবে না। বিশ্বাসি মানুষজন চাইবে অপরাধি যেন পৃথিবীর পাশাপাশি পরকালেও শাস্তি ভোগ করে। অবিশ্বাসিগণ পৃথিবীতে ন্যায় বিচার হলেই সন্তুষ্ট। কিন্তু ন্যায় বিচার কি সবসময় হয়? অপরাধির অপরাধের তুলনায় তাকে অধিক সাজা দেওয়া হলে তা কি নতুন আরেকটি অপরাধ নয়? অপরাধের সাজা সবচেয়ে প্রচলিত শাস্তি হল অপরাধিকে কারাবন্দি করা। আর আধুনিক কালে কারাগারে নতুন নাম দেওয়া হচ্ছে সংশোধনাগা। অর্থাৎ কারাগার হবে এমন একটি জায়গা, যেখানে অপরাধি তার পাপের ফল ভোগ করার পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ পাবে। কিন্তু কারাগারি যদি যাবতীয় মানবধিকার বিবর্জিত হয় সেখানে অপরাধি ফিরে আসার সুযোগ কি আদো থাকে? অপরাধিকে পুনরায় অপরাধি বানায় এরকম কয়েকটি নিকৃষ্ট কারাগারের গল্প নিয়ে আজকের আয়োজনঃ
সাবানেতা কারাগার, ভেনেজুয়েলাঃ ২০১৯ সালের শুরু থেকে বিশ্ব সংবাদ মাধ্যম গুলোতে ভেনেজুয়েলার খবর খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। কেননা দেশটি অর্থনৈতিক ভেঙ্গে পড়েছে, সাধারণ মানুষ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেমেছে। তবে আইন শৃঙ্খলার দিক থেকে ভেনেজুয়েলার অবস্থা আরো আগের থেকে খারাপ। ২০১৫ সালে এক সমিক্ষায় দেখা গিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ মানুষ খুনের ঘটনা ঘটেছিল ভেনেজুয়েলাতে। এই একটি তথ্য থেকে অনুধাবন করা যায় ভেনেজুয়েলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটুকু দূর্বল। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে সেখানকার কারাগারগুলোতে কয়েদি থাকার ধারণক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে দূর্বল কারাগারের জন্য ভেনেজুয়েলার কুখ্যাতি আছে। এই কুখ্যাতি তো এমনিতে হয় নি। ভেনেজুয়েলার ৮০ ভাগ কারাগার পুলিশের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে। সেগুলো পরিচালিত হয়, সশস্ত্র কারাবন্দিদের দ্বারা। ভেনেজুয়েলার এই ভয়ংকর কারগারগুলো মধ্যে একটি হলো এই সাবানেতা কারাগার। মাত্র ৭০০ জন বন্দি রাখবার মত অবকাঠামো ও সুবিধাদি আছে এই কারাগারে অথচ এখানে বন্দির সংখ্যা ৩৭০০ জনেরও বেশি। এই কারাগারে কয়েদির তুলানায় কারারক্ষি অত্যন্ত কম। প্রতি ১৫০ জন কারাবন্দির বিপরিতে কারারক্ষি মাত্র ১ জন। ফলে বন্দিদের মাঝে মারামারি, রক্তারক্তি হলেও কারা কর্তিপক্ষ লোহার রেলের অপর পাশ থেকে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। অবস্থা বেশি খারাপ হলে এবং খুনাখুনি হয়ে গেলেও অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয় নাম মাত্র কারা কর্তিপক্ষের।
রিকারস আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্কঃ রিকারস আইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম কারাগার। এখানে মূলত অল্প মেয়াদি দন্ডাদেশ প্রাপ্তদের রাখা হয়। যাদের শাস্তি ১ বছরের কম বা বিচার কার্য চলছে এখনো এ ধরনের আসামিদের রাখা হয়। এটি আমেরিকা তথা বিশ্বের একটি কুখ্যাত কারাগার। এই তালিকায় রিকারস আইল্যান্ডের নাম থাকাটা অন্যগুলোর চেয়ে অধিক দূর্ভাগ্যজনকও বটে। কেননা এই কারাগারে ছোট খাট অভিযুক্ত আসামিদের রাখা হয় সাময়িক সময়ের জন্য। ফলে কারাগারের নির্মম পরিহাসের কারণে অধিকাংশ অপরাধি তার অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা ভোগ করতে হয়। রিকারস আইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হল, এখানে গ্যাংদের ছেয়েও অধিক হিংস্র এখানকার পুলিশ অফিসার এবং এখানকার কারারক্ষিরা। বন্দিদের সংশোধনের নামে তারা অমানবিক শারিরীক, মানসিক অত্যাচার চালায় বন্দিদের উপর। ২০০৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেধন প্রকাশ করেছিল যেখানে বলা হয়েছে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বন্দিদের পরিবার কর্তৃক কারা কর্তিপক্ষদের বিরোদ্ধে ৭টি শারিরীক নির্যাতনের মামলা হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনের পর মূলত আলোচনায় আসে এই কারাগার। ২০১৩ সালে এই কারাগার নিয়ে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস। যেখানে সর্বশেষ এক বছরে শতাধিক বন্দি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে রিকারস আইল্যান্ডের সবচেয়ে হিংস্র রূপটি প্রকাশ পেয়েছিল কালিপ ব্রাউডারের উপরের নির্যাতনের সিসি টিভি ভিডিও ফুটেজ ফাঁস হওয়ায়। কালিপ ব্রাউড যখন চুরির দায়ে অভিযুক্ত হন, তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর। আদালতে তার মামলা চলমান ছিল বিধায় তাকে এই কারাগারে রাখা হয়েছিল। অথচ ছোট অপরাধে কি ভয়ানক সাজাটা ভোগ করল ব্রাউডার। ফাঁস হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় কখনো কখনো কারারক্ষীরা কখনো কখনো আসামীদের গ্যাং বিনা উস্কানিতে ব্রাউডারকে খুব শারিরীক অত্যাচার করছে। এভাবে মার খেতে খেতে একবছর কাটানো পর ব্রাউডারকে বরং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নির্জন কারাবাসে রাখা হয় পরবর্তী দুই বছর। এসময় একাধিকবার আত্যহত্মাও করার চেষ্টা করেন ব্রাউডার। তিন বছরের মাথায় তার বিরূদ্ধে করা মামলাটি খারিচ হয়ে যায় কিন্তু তিনটি বছর যে অকথ্য নির্যাতন ব্রাউডার হয়েছিলেন তার ক্ষতি পূরণ পৃথিবীর আদলতে সম্ভব নয়।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment