Now Reading
ভক্ষক যখন রক্ষক !



ভক্ষক যখন রক্ষক !

ব্যাঙের জুস পেরুর একটি ঐতিহ্যবাহী পানীয় , যা মাকা গাছেড় শিকড় আড় মধুর সাথে ব্যাঙের কাচা মাংস মিশিয়ে তৈরি হয় । এটি সাধারনত যৌণ ঊত্তেজক পানীয় হীসেবে বিক্রি করা হয় । যদিও দাবি করা হয় এই পানীয় শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু হাড়ের রোগ পর্যন্ত , সব ধরনের রোগের উপশম করতে পারে! কিন্তু এর কোণো বৈজ্ঞাণীক ভিক্তি নাই ।
এই পানীয় তৈরিতে লেক টীটীকাকাড় জলজ ব্যাঙ ব্যাবহ্রত হয়। লেক টীটীকাকাড় এই ব্যাঙ যা স্ক্রটাম ফ্রগ নামে পরিচিত । একসময় সংখ্যায় অনেক বেশি থাকলেও বর্তমানে IUCN এর অতি বিপদাপন্ন (critically endangered) প্রাণীদের তালিকায় চলে এসেছে । পেরুর জীববিজ্ঞ্যাণিদের মতে , বর্তমানে এই ব্যাঙের সংখ্যা ৫০,০০০। যদিও সঠিক সংখ্যা নির্নয় করা কঠীণ , কারণ এরা এই সুগভীর হ্রদের একদম তলদেশে বসবাস করে ।
এখনও যতগুলো ব্যাঙ বেঁচে আছে , তাদের আরো একটি হুমকির স্মমুখিন হতে হচ্ছে । ২০১৬ সালে প্রায় ১০,০০০ মৃত্যুর ব্যাঙ লেকের পানিতে ভেসে ঊঠেছিল । তাদের মৃত্যুর কারন ছিলো দুষণ । লেকের পানিতে অনেক ময়লা আবর্জনা , যেমন – বাচ্চাদের ডায়েপার , পলিথিন , প্লাস্টীকের সিরিঞ্জ , বোতল ইত্যাদিও ব্যাঙের আশেপাশে ভেসে ছিল । মরে ভেসে উঠেছিল অনেক মাছ ওঁ ।
ঊভচর প্রানী অনেকটা স্পঞ্জের মত । পানিতে যা কিছু থাকে তার সবই তারা শুষে নেয় , বলেণ টম ওয়েভার, ডেনভার চিরিয়াখানার সরিস্রিপ ওঁ মাছের এসিস্টেন্ট কীউরেটর , যেখানে সর্বপ্রথম লেক টীটীকাকার জলজ ব্যাঙের সফল প্রজনন করা হয় । ওয়েভার আরো বলেন ব্যাঙের ম্রিত্যু বেশ সাধারণ ব্যাপার , বিশেষ করে বর্ষাকালে জানুয়ারি থেকে মার্চ । ব্রিষ্টির পানিতে খনি আর গবাদি পশুর বর্জ্য ধুয়ে হ্রদে আসে । এছাড়াও প্লাস্টিকের ময়লা আবর্জনাতো থাকেই । এসকল দূষণের কারনে পানিতে দুষনের মাত্রা বেড়ে যায় । যার ফলে অনেক জলজ উদ্ভীদ মারা যায় , যেগুলো পানিতে অক্সিজেনের পরিমান ওঁ কমে যায় । ব্যাঙ চামড়ার মাধ্যমে পানি থেকে অক্সিজেন শোষণ করে । পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়ায় ব্যাঙের মৃত্যুর হারওঁ বাড়ছে ।
সম্প্রতি একটা আশ্চর্য ঘটনা লক্ষ করা গেছে । যে সকল নারীরা একসময় এই ব্যাঙের শিকারি ছিলেন , তারাই এখন উলের তৈরি খেলনা ব্যাঙ , পাপেট ইত্যাদি নিয়ে মাসে কয়েকবার লেকের পাড়ে আসছেন বিক্রি করে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য । তারা ক্রেতাদের জানাচ্ছেন কেন এই ব্যাঙ রক্ষা করা অতি প্রয়োজন।
এই নারীরা ২০১৫ সাল থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি শুরু করেন , যখন ডেনভার চিরিয়াখানার জীব বিজ্ঞ্যানীরা প্রেজেন্টেশন এর মাধ্যমে লেক টীটিকাকার জলজ ব্যাঙের চক্র , এদের রক্ষা করার উপায় সম্পর্কে তাদের জানায় । এই দলের প্রধান , নেডীলা এডেলা এপাজা জানান , এসব হস্তশিল্প বিক্রি করে খুব বেশি লাভ হয়না । কিন্তু তারপরো তারা এই কাজ করেন , কারন তারা এখন সচেতন । তারা ব্যাঙ সংরক্ষন এর মাধ্যমে পরিবেশের উন্নতি করতে চান । লেক টীটীকাকার এই ব্যাঙ সংরক্ষন তাদের কাছে আরেকটি কারনে গুরুত্বপুর্ন মনে হয় – এই ব্যাঙ লেক টীটী কাকার অন্যত্ম আকর্ষন । ব্যাঙ বিলুপ্ত হয়ে গেলে পর্যটক আসাও হয়ত কমে যাবে ।
টাকাসায়া গ্রামের এলভিরা পুমা , ব্যাঙ ধরে জীবন্ত বিক্রি করতেন এবং পাচটি ব্যাঙের জন্য ৩০ সেন্ট করে পেতেন । তারা বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে আসছেন । তাদের কোণো ধারনাই ছিলোণা এই ব্যাঙ এতটা বিপাদপন্ন । ডেণভার চিড়িয়াখানার গবেষক দলের কাছ থেকে তারা সর্বপ্রথম এর উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারেন । জানার পরে পুমা এবং তার গ্রামের অন্যান্য নারীরা ব্যাঙ ধরা বন্ধ করে হস্তশিল্প বিক্রি শুরু করেন । যদিও জীবন্ত ব্যাঙ বিক্রি করায় লাভ বেশি ছিল তার পর ওঁ পূমার পরিবার আর কখনো ব্যাঙ ধরবেনা বলে জানায় ।
এরপরওঁ, ব্যাঙের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে । ২০১৮ সালের শেষ কয়েক মাসে প্রায় ৪০০০ ব্যাঙ উদ্ধার হয়েছে দক্ষিন পেরু থেকে রাজধানী লীমা যাওয়ার পথে । প্রতিদিন আরো অসংখ্য জীবীত অথবা ম্রিত ব্যাঙ পেরুর বিভিন্ন বাজার থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে । লেক টিটিকাকা ব্যাঙ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পেরু সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে । বলিভিয়ার সাথে লেক পরিস্কার করার একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে । এছাড়াও তারা ব্যাঙের ছবি সম্বলিত কয়েন তৈরি করছে ।
লেক টীটীকাকা জলজ ব্যাঙ পেরুর ঐতিহ্যের অংশ । তাই পুর্বে যারা পাচারকারী ছীল , সেই নারীরাই এখন এই ব্যাঙ রক্ষায় উঠে পড়ে লেগেছেন ।

About The Author
Raihan Yasir
Raihan Yasir
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment