Now Reading
আমাদের বাড়ী চিড়িয়াখানায় ঃ প্রানী বীশেষজ্ঞ ডক্টর রেজা খান



আমাদের বাড়ী চিড়িয়াখানায় ঃ প্রানী বীশেষজ্ঞ ডক্টর রেজা খান

বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ ডক্টর রেজা খান সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্ভবত তার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় বন জংগলে কাটিয়েছেন । প্রায় ৭৩ বছর বয়সী এ বীশেষজ্ঞ গত পহেলা জুন দুবাই পৌরসভা থেকে ৩০ বছরের চাকুরি জীবণ থেকে অবসর গ্রহন করেন । বন্যপ্রানীর দুর্ল্ভ প্রজাতি রেকর্ড ধারন করায় ডক্টর খান কয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেয়া হয়েছে সম্মাননা ।
বাংলাদেশের কৃতি সন্তান ডক্টর রেজা খান প্রথম দিকে আল আইন চিড়িয়া খানায় পাখি বিশেষজ্ঞ্যের দায়িত্ব পালন করেন , ১৯৮৩-১৯৮৯ এর মাঝামাঝি সময়ে । এরপর , ১ জুন ১৯৮৯ সালে যোগদান করেন ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়া দুবাই চিরিয়াখানার (যা দুবাই পৌরসভার অধীণে পরিচালিত হতো ) বীভাগীয় প্রধান এর দায়ীত্বে । পরে ঐ চিড়িয়াখানার প্রধান হিসেবে পালন করেন । পরবর্তিতে পৌরসভার প্রধান বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত হ্ন এবং প্রস্তাবিত ভবিষ্যত চিড়িয়াখানার জন্য অভ্যন্তরিন বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত হন । বর্তমান দুবাই সাফারির প্রাথমিক চিন্তা ওঁ ধারণা আসে তার কাছ থেকেই । পেশাদার , সাধারন অধিবাসি , সংবাদ মাধ্যম কিংবা কর্মকর্তাদের যারা বন্যপ্রানী সনাক্ত করতে অথবা এর সম্পর্কে আরো জানতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসেন , তাদের কাছে ডক্টর রেজা খান ছিলেন সর্বাধিক নির্ভযোগ্য । সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক দুর্ল্ভ বন্যপ্রানী এবং দ্রিশ্যের রেকর্ড করার জন্য প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে তিনি সুপরিচিত । নিজের তোলা ছবির সম্ভার নিয়ে তিনি বইওঁ লিখেছেন । ব্যাক্তিগত ডিএসএলআর ক্যামেরাটি নিত্যসঙ্গি । ডক্টর খান তার ক্যামেরা ছেরে কখনও দূরে যান না । প্রবল মানসিক শক্তি সম্পন্ন এ বিশেষজ্ঞ কারো সাহায্য নেওয়া ছাড়াই ফিল্ড ওয়ার্কে নিজের সকল কাজ সম্পাদনের চেষ্টা করেন ।
দুবাই পৌরসভার প্রধান বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ্যের দায়ীত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর ডক্টর খান পরিকল্পনা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশে ভাগাভাগি করে সময় দিবেন । সে সাথে চালিয়ে যাবেন মাঠ পর্যায়ের গবেষনা ও পরামর্ষ প্রদানের কাজ । সাম্প্রতিক গালফ নিঊজকে ডেওউয়া একটি বিশেষ সাক্ষাতকারে ডক্টর রেজা খান বলেন স্বাধীন মানুষ হয়ে ্যাওয়ার পর দুবাই চিড়িয়াখানা এবং দুবাই সাফারিকে মিস করবো । কিন্তু আমি এখনও আরো পাখি দেখছি , পাচ নাতি নাত্নিকে সময় দিচ্ছি এবং পুড়ো সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমন করে বেড়াচ্ছী । একী সাথে আমি বাংলাদেশেও ফিরে যাচ্ছি বাকি সময়টা কাটাতে । বাংলাদেশের একটি জাতীয় চিড়িয়াখানা নিয়ে নতুন বিশেষ পরিকল্পনা আছে এবং খুব সম্ভবত আমি এর সাথে জড়িত হবো ।
পাখির প্রতি ডক্টর খানের রয়েছে বিশেষ আগ্রহ । দ্য গ্র্যাট বার্ডম্যান অব ইন্ডীয়া সেলীম আলীর অধীণে ১৯৭৪ শালে বম্বে ন্যাচারাল সোসাইটিতে যোগদান করেন । ১৯৮৩ সালে ডক্টর খান যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ছিলেন , তখন সেলিম আলীর কাছ থেকে তিনি একটি বার্তা পান , ‘’পেট্রো ডলার তোমাকে ডাকছে ‘’ ( পেট্রোডলার বলতে তেল সম্রিদ্ধ দেশগুলোকে বোঝায়, যেমন ঃ সংযুক্ত আরব আমিরাত । ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর আল আইন চিড়িয়াখানায় পাখি বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগদান করেন ডক্টর রেজা খান । আমি পকেটে মাত্র ৫০ ডলার নিয়ে এসেছিলাম এবং তাও আত্বীয়ের কাছ থেকে ধার করা । ১৯৮৪ সালের এপ্রিল মাসে যখন প্রথম বেতন পাই , তখন আমার পাসপোর্টে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার ছাপ পড়ে । তখনকার দিনে এরকমই দেরি হতো । বললেন – ডক্টর খান ।

এক মাস পর, স্ত্রী ওঁ তিন সন্তাণ তার সাথে যোগদান করেন । বড় ছেলে তখন সিক্সথ গ্রেডে , মেয়ে ফার্স্ট গ্রেডে ভর্তি হয় এবং সবচেয়ে ছোট ছেলের বয়স ছিলো তিন বছর । পরিবারটির বাসভবন ছিলো চীড়িয়াখানার মধ্যেই ।
গালফ নিউজকে রেজা খান বলেন , আমার বাচ্চাদের শিক্ষকরা জিজ্ঞ্যাসা করতেন , তোমরা কোথায় থাকো ?
বাচ্চারা ঊত্তর দিতো , আমরা চিড়িয়াখানায় থাকি । শিক্ষক রা খুবই রেগে যেতেন এবং আমাদের কল করে বলতেন ,আপনার বাচ্চারা আমাদের সাথে বাজে জোকস করার চেষ্টা করছে । আমাদের ব্যাখ্যা করতে হতো ্যে আমরা আসলেই চিড়িয়াখানাতেই থাকি ।
ডক্টর রেজা খান বন্যপ্রানী সংরক্ষনে ২০০১ সালে শেখ মুবারক পুরস্কার , ২০১১ সালে জাতীয় বঙ্গবন্ধু পুরস্কার , ২০১২ সালে চ্যানেল আই প্রক্রিতি সংরক্ষন পদক ২০১২ ও ২০১৬ সালে স্টার লাইফ টাইম অর্জন করেন ।
তিনি প্রথম বাংলাদেশে বন্যপ্রানীর চেকলিস্ট প্রিবর্ন করেন , যার ফল ওয়াইল্ড লাইফ অফ বাংলাদেশ – এ চেকলিস্ট, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮২ সনে অক্টোবরে প্রকাশ করে । এ পর্যন্ত তার ৫০ টার উপর বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ এবং ২৫টির মতো বই প্রকাশিত হয়েছে বাংলা , ইংরেজি ওঁ আরবী ভাষায় ।

৩০ জুন ডক্টর খান ঐ বাড়ীটার চাবি বুঝিয়ে দিয়েছেন কর্ত্রিপক্ষের কাছে । আগের দিন জু ভিলায় একটি তাকে ঘিরে একটি বিদায় পার্টী অনুষ্টিত হয় । এ বাড়ি ঘিরে তার যত স্রীতি , বলে ঊঠলেন অনেক মিস করবো ,স্পেশিয়ালি মিস করবো আমার দুটো গরিলা কে । আমি সব প্রানী কে ভালোবাসতাম তবে গরিলা গুলো কে ণীয়ে আমার সময় কেটেছে অনেক আনন্দের তারা আমার বন্ধু সুলভ ছিল , তাদের জব্দ করা হয়েছিলো ডূবাঈ বীমাণ বন্দর থেকে , একটি এসেছে ১৯৯৭ সণে আরেকটা এসেছে ২০০০ সালে ।

About The Author
Raihan Yasir
Raihan Yasir
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment