Now Reading
৩৬৫ দিনে ৪,৫১৭ কিলোমিটার দৌড়



৩৬৫ দিনে ৪,৫১৭ কিলোমিটার দৌড়

আমরা সবাই একটা সুস্থ সবল ও শরীর পেতে চাই। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে পড়া-লেখা ও দৈনন্দিন কাজে শরীর চর্চা আর ঠিকঠাক হয়ে উঠেনা। আপনি হইতো ব্যায়াম করতে চান এবং জানেন ব্যায়ামের উপকারিতা। তবুও প্রতি সকালে ঘুম থেকে উঠে জিম অথবা দৌড়াতে ইচ্ছে করে না। সকলের মনে এটাই চলে আসে, আজ না, কালকে থেকে যাওয়া যাবে। কিন্তু এভাবেই দিন গুলো কেটেই যায়। ইচ্ছা শক্তির অভাবে আমরা আমাদের ভালোর জন্য রোজ ৩০ মিনিট সময়ও কাজে লাগাতে পারি না। তবে আজ আমরা এমন কিছু মানুষের উদাহরণ নিয়ে কথা বলব, যাদের মনোবল ও ইচ্ছা শক্তি আমাদের জন্য উৎসাহ হতে পারে।

হেলা সিদেবেঃ শরীর চর্চা করার সব রকম ব্যায়ামের মধ্যে দৌড়ানোটা তুলনা মূলক একটু কঠিন। প্রথম প্রথম দৌড়ানো শুরু করা আবার বেশ কঠিন হয়। কিন্তু এটা কিভাবে সহজ হতে পারে তা হেল সিদেবের থেকে শিখতে হবে। হেলা সিদেবে ৩৬৫ দিন অর্থাৎ ১ বছর রোজ দৌড়ানোর লক্ষ্যটা অর্জন করতে পেরেছেন। এমনকি কোন রকম খারাপ আবহাওয়া, ঝড়, বৃষ্টি, ও তার কোন প্রকার শারীরিক অসুস্থতাও তাকে থামাতে পারেনি। হেলা বলেছে যে, দৌড়ানো শুরু করার প্রথম দিকের দিনগুলো খুব কষ্টকর ছিল ও তার ইচ্ছেও করতো না। যেমন টা আমাদের করে থাকে। সে প্রথম প্রথম ১০ মিনিটের বেশি দৌড়াতে পারতো না। ধীরে ধীরে দৌড়ে তার পক্ষে মাত্র দেড় কিলোমিটার যাওয়া সম্ভব হতো। এভাবে রোজ এক মাস দৌড়ানো অভ্যাস করার পরে ধীরে ধীরে সে বেশিক্ষন সময় ধরে দৌড়াতে সক্ষম হয়েছিল। প্রথমে সে দেড় কিলোমিটার দৌড়াতে পারলেও ধীরে ধীরে ১০ কিলোমিটারের দূরত্ব অতিক্রম করতে শুরু করল। এখন সে দিনে ১৩ কিলোমিটার দৌড়াতে পারে। আপনি শুনলে হইতো অবাক হবেন, হেলা এক বছরে প্রায় ৪,৫১৭ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করছিল। আজ সে রানার এর পাশাপাশি একজন ফুটবল খেলোয়ার। তার জীবনে প্রথম থেকে সবকিছু সহজ ছিল না। হেলা আফ্রিকার পশ্চিম ভাগের মালি নামক একটি শহরে জন্মেছিল। সে রোগা পাতলা এবং তার উচ্চতা তুলনা মূলক কম ছিল। ১৩/১৪ বছর বয়সে সে যখন আমেরিকা এলো হেলার নিজের শরীরের প্রতি তার দৃষ্টি ভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে গেল। আয়নার সামনে দাড়িয়ে সে যেন নিজের মধ্যে একজন খেলোয়ারকে দেখতে পেত। তার স্কুলের ফুটবল টিমের সবাই তার থেকে উচ্চতায় বেশি ছিল। এই উইক পয়েন্টাকে সে লুকানোর জন্য সে নিজেকে আরো বেশি ফিট এবং এক্টিব রাখবে বলে স্থীর করে এবং রোজ তার ব্যায়ম গুলো করা শুরু করে। কিছু দিনের মধ্যে সে বুঝতে পারে তার শরীর আগের থেকেও বেশি সক্রিয় এবং পেশিবহুল হতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তন তাকে জিমে ভর্তি করায় এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করে যাওয়ার প্রেরণাও করে তুলেছে। পাশাপাশি সে তার পড়াশুনাও চালিয়ে গেছে। আজ সে একটা সুস্থ সুন্দর পেশিবহুল সুন্দর দেহের অধিকারি। যা তাকে জীবেনে সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।

জেসিকা কসঃ একবার ভেবে দেখুন তো, যদি আপনার দুটো হাত না থাকে তবে আপনার জীবন কেমন কাটবে? জন্মগত ভাবে হাত না থাকার দূর্ভাগ্য নিয়ে জন্মে ছিল জেসিকা কস। জেসিকার যখন ১৪ বছর বয়স তখন থেকে সে দৈনন্দিন জীবনের কাজ কর্ম হাতের বদলে পা দিয়ে করা শুরু করল। সে কোনদিনও কৃত্রিম হাত ব্যবহার করেনি। খাওয়া, পান করা, বোতলের সিবি খোলা, পিয়ানো বাজানো, গাড়ি চালানো এমন কি চোখের কন্টাক্ট ল্যান্স খোলার মত যাবতীয় কাজ তিনি পা দিয়ে করতে শিখেছিলেন। শুধু তাই নয়, মডার্ন স্কিলগুলোতেও নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি কম্পিউটার কিবোর্ডে ২৫টা ওয়ার্ড প্রতি মিনিটে টাইপ করতে পারেন। ২০০৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব এরাজোনা থেকে সাইকোলজি নিয়ে গ্রেজুয়েট কম্পিলিট করেন। জেসিকা ছোট বেলা থেকে প্লেনে চড়তে ভয় পেতেন। তাই সে প্লেন চড়ার ভয়কে কাটানোর জন্য নিজেই প্লেন চালানো শিখবে বলে মনোস্থির করেন এবং সফলও হন। ১০ই অক্টোবর ২০০৮ সালে তিনি পাইলেটের সার্টিফিকেট পান। গিনেস বুকে দ্যা অনলি পাইলট টু ফ্লাই উইথ দেয়ার ফিট এ রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তিনি। ইউএসএ তাকে ইন্সপিরেশন ফর ওমেন হিসেবে তাকে ২০১২ সালে পুরস্কৃত করে।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment