Now Reading
মৃত্যু!



মৃত্যু!

মৃত্যুঃ মৃত্যু এমন একটা অপ্রিয় ঘটনা, যার সম্মুখীন হতে কেউ চাই না। কিন্তু যদি এমনটা হয় মৃত্যু এমন রূপ ধারণ করে যার দিকে যেতে আপনি বাধ্য হবেন। যাকে দেখার পর আপনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলবেন। কি হবে তখন? কি করবেন তখন? আজ যার সম্পর্কে আমরা বলব তার ভয়ে মেক্সিকোর উত্তর ভাগের বাচ্চারা শিউরে উঠে। সে নিজের সোন্দর্যের জন্য যতটা জনপ্রিয় ছিল, ততটা বদনাম ছিল নিজের কুকর্মের জন্য। আজ আপনারা জানবেন লা-লরনা সম্পর্কে।
রূপের অপসরা এই মহিলা বসবাস করতো মেক্সিকোর উত্তর ভাগে। এবং তার আসল নাম ছিল মারিয়া। মারিয়া তার সোন্দর্যের জন্য তার প্রতিবেশি এলাকাতে তো জনপ্রিয় ছিলই, তার শহরে থাকা প্রত্যেকটি যুবক মারিয়ার জন্য আকৃষ্ট ছিল এবং প্রত্যেক সন্ধ্যায় মারিয়া যখন তার নিজের পছন্দের সাদা গ্রাউন্ডটি পড়ে বের হতো, তখন তাকে আরো সুন্দর দেখাতো। একদিন বাজারে এক ধনী ব্যাক্তির সাথে আলাপ হয় মারিয়ার। যুবক মারিয়া দেখে মুগ্ধ হয় এবং মারিয়া যুবককে দেখে পছন্দ করে। এরপর যুবক মারিয়ার সামনে বিয়ের প্রস্তাব রাখে। এরপর খুব তারাতারি দুজনেই বিয়েও করে ফেলে এবং বিবাহিত জীবন আনন্দের সাথে কাটতে থাকে। মারিয়া ভিষন খুশি থাকতো। কারণ সে তার বিবাহিত জীবনে খুশি ছিল। মারিয়ার হাজবেন্ড তাকে ভিষন খুশি রাখতো। মারিয়ার দুই পুত্র সন্তান হয় কিন্তু কিছুদিন বাদে মারিয়ার বিবাহিত জীবনের সমস্যা শুরু হয়। তার হাজবেন্ড তাকে আর আগের মত ভালবাসতো না। একদিন মারিয়ার হাজবেন্ড কিছু কাজের ক্ষেত্রে অন্য শহরে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। মারিয়া অনেক দিন তার হাজবেন্ডের অপেক্ষা করে এবং বিচ্ছেদে কেঁদে কেঁদে তার নিজের অবস্থা খারাপ করেন।
তখন মারিয়া আগের মত সুন্দর ছিল না। এরকমই চলছিল বেশ কিছুদিন। একদিন নদীর পারে নিজের দুই পুত্রকে নিয়ে ঘুরবার সময় মারিয়া তার হাজবেন্ডকে অন্য মহিলার সাথে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে যেতে দেখে। তার হাজবেন্ড তার দুই পুত্রকে দেখে তাদের দিকে হেসে তাকাই। কিন্তু মারিয়াকে ইগনোর করে চলে যায়। সে যেন মারিয়াকে চিনেই না। এ ঘটনায় মারিয়া ভিষন কষ্ট পায় এবং সে রেগে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তার হাজবেন্ড থেকে পাওয়া শেষ চিহ্নটা সে শেষ করে দিবে। এই সিদ্ধন্তটি মারিয়া প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নেই। কারণ তার হাজবেন্ড তার সন্তানদের ভিষন ভালবাসতেন। মারিয়ার রাগরে বশে তার দুই সন্তানকে নদীর জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলেন। যখন মারিয়া বুঝতে পারে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। আর এই দুই সন্তানের তখন মৃত্যু হয়ে যায়। মারিয়া সন্তানের মৃত দেহ নদী থেকে বাহিরে আনার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। জলের স্রোত বেশি হওয়ায় মৃত দেহ জলের স্রোতে ভেষে যায়। মারিয়া নিজের এই কুকর্মের উপর আফসোস করে এবং পস্তায়। তারপর কিছুদিনের মধ্যে মারিয়ার মৃত্যু হয়।
হইতো এই জগন্য কাজের জন্য মারিয়ার আত্মা মুক্তি পর্যন্ত পায়নি এবং তার আত্মা ঐ নদীর ধারে তার আসে পাশেই ঘুরে বেড়াতো এমনটা দাবি করতো ঐ গ্রামের বাসিন্দারা। মারিয়ার মৃত্যুর কিছুদিন পর থেকে ঐ গ্রামের বসবাসকারি মানুষগুলো বলে সাদা গ্রাউন্ড পড়া মারিয়াকে তারা দেখতে পায়। প্রথম দিকে দিয়ে এসব কেউ বিশ্বাস করতে চাইতো না। কিন্তু কিছুদিন পর ঐ গ্রামের বাচ্চারা উধাও হতে থাকে এবং তাদেরও ক্ষতি হতে থাকে যারা বলে তারা সাদা গ্রাউন্ড পড়া একটা মহিলাকে দেখেছেন।
কিছুদিনের মধ্যে আরো একটি বাচ্চা উধাও হয় এবং গ্রামবাসি নদীর পাশে একটি ঝোপের ভিতর আলেকজেন্ডার নামক একটি অজ্ঞান বাচ্চাকে খুজে পায়। জ্ঞান ফিরার পর বাচ্চাটি যা বলল তা শুনার পর গ্রামের মানুষ সবাই অবাক হয়ে যায়। বাচ্চাটি বলল, সে নদীর ধারে বসে ছিল। হঠাৎ করে একটি মহিলা সাদা গ্রাউন্ড পরে কান্না করতে করতে নদীর ভিতর থেকে উঠে আসলো এবং মহিলাটির মুখ ভিষন ভয়ানক ছিল সেই সাথে ভয়ানক ছিল মহিলাটির কান্নার শব্দ। একটা সময় দেখতে পেল মহিলাটি একটা বাচ্চাকে নদীর জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলছে এবং এটা দেখে আলেকজেন্ডার অজ্ঞান হয়ে যায়। তাই এমন একটা সময় আসে, যে সময় তখন থেকে সেখানে বাচ্চাদের ঘর থেকে বের হতে দিত না

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment