Now Reading
সুস্থ থাকার ১০টি উপায়



সুস্থ থাকার ১০টি উপায়

কথায় আছে, “সুস্থ শরীর, সুস্থ মন”

শরীর সুস্থ থাকলে আমরা যে কোন কাজ অনায়াসে করতে পারি। আর এর জন্য প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার মেনে চলা যা আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক, যে ১০টি উপায় মেনে চললে আমরা সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারবো।

১। বদ অভ্যস থাকলে তা দূর করাঃ

আমরা নিজেরাই নিজেদের অজান্তে অনেক সময় অনেক কিছুকে বদ অভ্যাসে পরিণত করে ফেলি। এই বদ অভ্যাস গুলো আমাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব ত্যাগ করতে হবে। যেমনঃ ধূমপান, মদ্যপান, অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও আরো অনেক অস্বাস্থ্যকর বদ অভ্যাস। এগুলো ছাড়তে আপনার হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে কিংবা লাগবে, কিন্তু যদি সত্যিকার অর্থেই সুস্থভাবে জীবনধারণ করতে চান, তবে এর কোন বিকল্প নেই। অন্য দিকে, এমন কিছু অভ্যাস আছে যা এত খারাপ নয়, কিন্তু খুব বেশী দূরে নিয়ে গেলে সহজেই সমস্যা হতে পারে। যেমন, চিনি, কোমল পানীয়, ক্যাফেইন, বিভিন্ন প্রকার জাঙ্ক ফুড। সুতরাং, এখনি সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কি আপনার বদ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে সুস্থ সুন্দর থাকবেন নাকি অবহেলায় নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলবেন।

২। নিয়মিত শরীর চেকআপ করানোঃ

বছরে কমপক্ষে একবার শরীর চেকআপ করানো জরুরী। আপনি সুস্থ থাকলেও নিয়মিত পরীক্ষা করান, যাতে যখন কিছু অস্বাভাবিক মনে হবে, তখন আপনি এটি সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আপনার ডাক্তারের সাথে সমস্যা সম্পর্কে আলাপ করতে পারবেন। নিয়মিত শরীর চেকআপ করা হলে রোগ প্রকট হবার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বা সুচিকিৎসা দ্বারা সুস্থ থাকা সম্ভব।

৩। পর্যাপ্ত ঘুমঃ

ঘুম আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে জোরালোভাবে প্রভাবিত করে। ঘুমের অভাব- বিপাক, মেজাজ, স্বৃতিশক্তি, শারীরিক দক্ষতা, চাপ হরমোন, এমনকি রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে ভালো রাখে ,পুনরুজ্জীবিত করতে পারে যা কিনা একটি জাগ্রত শরীরের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।

৪। ব্যায়ামঃ

ব্যায়াম শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখা ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম হৃদরোগ এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, কঠোর পরিশ্রম বা অনুশীলন পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক রাখে এমনকি নিয়মিত ব্যায়াম যুদ্ধ-বিষণ্নতা কাটাতে সাহায্য করে।

৫। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণঃ

আপনার খাদ্যের মধ্যে তাজা ফল, শাক-সবজি এবং শস্য খাবার রাখুন এবং এগুলাকে আপনার সামগ্রিক খাদ্যের প্রধান অংশ করার চেষ্টা করুন। এছাড়াও পোল্ট্রি, মাছ এবং মটরশুঁটি খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। সুষম খাবার খান; সম্পূর্ণরূপে পাকস্থলী পূর্ণ হওয়ার আগে খাওয়া বন্ধ করুন এবং খাদ্য হজম করার সুযোগ দিন। কৃত্রিম মিষ্টি বা রং, লুকানো শর্করা বা অত্যধিক চর্বি থাকা অত্যন্ত প্রক্রিয়াকৃত খাবার এড়িয়ে চলুন।

৬। প্রতিদিন নিয়মিত সকালের নাস্তা করুনঃ

একটি স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা দিয়ে আপনার দিন শুরু করুন যা আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে শারীরিক ও মানসিক শক্তি যোগাতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্যকর নাস্তা রক্তের শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল এবং একটি সুস্থ ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৭। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুনঃ

আমাদের শরীরের বেশিরভাগই পানি। বিশুদ্ধ পানি সুস্থ শরীরের বিকাশের জন্য সর্বোত্তম ও স্বাস্থ্যকর পানীয়। এটি আমাদের অঙ্গ এবং পাচনতন্ত্রের জন্য প্রাকৃতিক বিশুদ্ধকারী। আমাদের মস্তিষ্কের জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘাম ও প্রসাবের মাধ্যমে টক্সিন ত্যাগের মাধ্যমে এটি শরীরকে সুস্থ ও জীবাণুমুক্ত রাখে।

৮। মানসিক চাপ কমানঃ

মানসিক চাপ আমাদের শরীরের জন্য হুমকিস্বরুপ। ধ্যান্, ব্যায়াম, করতে ভালোবাসেন এমন কিছু কাজ , প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘোরাফেরা, শখের কিছু করার মাধ্যমে আপনি মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে পারেন। কখনোই প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করতে যাবেন না। আপনি যাদেরকে পছন্দ করেন, এমন ব্যক্তিদের আশেপাশে থাকার চেষ্টা করুন।

৯। নিজেকে প্রকাশ করুনঃ

আপনার আবেগগুলোকে বোতলবন্দি করে রাখলে তা মানসিক চাপ থেকে শুরু করে শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অস্বস্তিকর অনুভূতি বা আবেগ হতে বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, রোগের উপসর্গ, এমনকি শারীরিক ব্যথা হতে পারে। সুতরাং, চেষ্টা করুন, নিজের আবেগ অনুভূতিকে সবার সামনে প্রকাশ করতে।

১০। সঙ্গতি এবং সংশোধনঃ

একটি সুস্থ সুন্দর জীবনধারা বজায় রাখার জন্য  ধৈর্য ও সঙ্গতি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তন বা ভালো অভ্যাস গুলো ধীরে ধীরে আনুন, একবারে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটাতে গেলে মন ও শরীর উভয়ের ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হবার সম্ভবনা থাকে। নিজের ভুলগুলো স্বীকার করুন এবং নিজেকে সংশোধন করতে সচেষ্ট থাকুন।

About The Author
Ferdous Sagar zFs
Ferdous Sagar zFs
Hi, I am Ferdous Sagar zFs. I am a Proud Bangladeshi living in abroad for study purpose. I love to write and it's my passion or hobby. Thanks.
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment