Now Reading
একজন মিসবাহ উল হক



একজন মিসবাহ উল হক

৪৩ বছর পর্যন্ত ক্রিকেট খেলা যেনতেন কথা না। সেটাও বর্তমান যুগের ব্যস্ত ক্রিকেটে। একসময় ছিলো যখন ক্রিকেট খেলতো তিন চারটা দেশ, বছরে দুই চারটা সিরিজ থাকতো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেতো ক্রিকেটাররা, সেই সময়ে পঞ্চাশ বছর বয়সেও টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন তিনজন ক্রিকেটার, যার ভেতর বিখ্যাত ডব্লিউ জি গ্রেস অন্যতম।
স্পোর্টসম্যান হিসেবে তাই মিসবাহ উল হকের প্রশংসা করতেই হবে। মিসবাহর আগে সবচেয়ে বেশি বয়স পর্যন্ত টেস্ট খেলার রেকর্ড আরেক পাকিস্তানির, মিরন বকস, ১৯৫৫ সালে অবসরের সময় তার বয়স ছিলো ৪৭ বছর ৩০২ দিন। আজ শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন মিসবাহ

পাকিস্তানের মতো একটা ক্রিকেট দল যেখানে মাঠের ঘটনার চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনা বেশি আলোচিত হয় সেখানে মিসবাহ একজন ব্যতিক্রম বলা যায়। মিসবাহ যখন আসে ক্রিকেটে ২০০১ সালে তখন পাকিস্তানের প্লেয়ারদের ভেতর ম্যাচ মাতানোর স্বর্নযুগ চলছে। শারজাহ কাপকে কেন্দ্র করে ফিক্সিং ক্রিকেটে পরিচিত হয়ে উঠে, যার প্রেক্ষিতে বন্ধ হয় শারজাহ কাপ। আইসিসির রিপোর্টে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য, একটা ক্যাচ ফেলার জন্য ১ লাখ ডলার পর্যন্ত নিয়েছিলো পাকিস্তানের প্লেয়াররা! ১২ ম্যাচে তদন্ত চালিয়ে অন্তত ৫ টি ম্যাচ পাতানোর প্রমান পাওয়া যায়।

সেই সময় ক্যারিয়ার শুরু, এরপর লর্ডসে বিখ্যাত স্পট ফিক্সিং এর পর অধিনায়ক হওয়া, এবং সর্বশেষ পিএসএলে নিজ দলের প্লেয়ারের ফিক্সিং এ জড়িয়ে পড়া, সবসময় মিসবাহ ছিলো ব্যতিক্রম। আজকে অনেক সময় ধরে চিন্তা করেও মিসবাহর কোন নেতিবাচক ঘটনা মনে পড়লো না। পাকিস্তানের ক্রিকেটার হিসেবে বিরল ঘটনা! এমনকি অবসর নিয়েও কোন নাটক হচ্ছেনা আফ্রিদির মতো। আগে একবার অবসর নিতে চেয়েছিলা, পিসিবি নিজেই অনুরোধ করে রেখে দিয়েছিলো। এরপর এবার অবসরে যাচ্ছেন। লর্ডসের ঘটনার পর দলের ইমেজ ফেরাতে চেষ্টা করেছেন, যার কারনে বিদায় বেলায় সারজিল খান, নাসির জামশেদ, খালিদ লতিফদের ফাঁসি চেয়েছেন ফিক্সিং করে থাকলে। সরাসরি বলেছেন, একসময় ম্যাচ পাতানোর পরেও ওয়াসিম আকরাম, আরশাদ খানদের মতো ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এইসব ঘটনা বারবার ঘটছে।
মিসবাহ উল হকের অন্য একটা রেকর্ড আছে, নিয়মিত ব্যাটসম্যান হয়েও ১৬২ ওয়ানডে খেলে তার কোন সেঞ্চুরী নাই! ৪০+ গড় এবং ৪০+ ফিফটি করেও সেঞ্চুরী নাই একমাত্র তারই। (সর্বোচ্চ ৯৬*, গড় ৪২, ফিফটি ৪২)।


যাইহোক এমনিতে আমি পাকিস্তানের ক্রিকেটের ফলোয়ার না, পছন্দের তালিকায় পাকিস্তানের কোন ক্রিকেটার নাই। সত্যি বলতে পাকিস্তানের খেলাই দেখা হয়না। মিসবাহ উল হকের অবসরের উপর আর্টিকেল পড়তে পড়তে লেখাটা মাথায় আসলো। ক্রিকেটার হিসেবে, স্পোর্টসম্যান হিসেবে, ফিটনেস এর জন্য মিসবাহ পাকিস্তানের বিতর্কে ভরা ক্রিকেট ইতিহাসে একটা উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। সে দেশের ফিক্সারগুলা মিসবাহকে দেখে যদি কিছু শিখতো!!

About The Author
Atikur Rahman Titas
Atikur Rahman Titas
I am Atikur Rahman Titas .I love to write
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment