Now Reading
বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাব্বির রহমান



বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সাব্বির রহমান

একটা দলে সবচেয়ে ভরসাপুর্ণ অথবা সেরা খেলোয়াড় কে তিন নাম্বারে তথা ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং এ পাঠানো হয়। সাব্বির যখন দলে আসে তখন লোয়ার অর্ডারে টেলএন্ডার দের সাথে ব্যাটিং করতে হতো। প্রথমে টি-টুয়েন্টি তে তিনি তিনে ব্যাটিং এ আসেন। আস্তে আস্তে তার সামর্থ্য প্রমাণের মাধ্যমে ওয়ানডেতে তিনে নিয়মিত ব্যাটিং শুরু করেন। সাব্বির এর উপর আমাদের এবং টিম ম্যানেজমেন্ট এর পরিপূর্ণ আস্থা আছে।

ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করে তিনি খারাপ করছেন না। প্রায় প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু রান করে দিচ্ছেন। কিন্তু এই কিছু রান করার অবস্হানে কি বাংলাদেশ আছে?

বাংলাদেশ পরাশক্তিতে পরিণত হচ্ছে। এখন ওয়ান ডাউনে ৪০/৫০ রান করে দিলে হয় না। ম্যাচে শক্ত অবস্হানে পৌছতে হলে তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান এর বিকল্প খোজা উচিৎ হবে না। সাব্বির যে পরিমাণ ম্যাচ তিন নাম্বারে খেলেছে ওর কাছ থেকে বড় রান পাওনা হয়ে গেছে। এ পজিশনে ব্যাট করে সাব্বির এর সেঞ্চুরি করা বা আরও লম্বা করা দরকার তার ইনিংস। এতোদিনেও একটা সেঞ্চুরি দেখতে না পেরে আমি যথেষ্টই হতাশ। তাই আমি সমালোচনা করতে চাই।

উল্ল্যেখ্য যে, আয়ারল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে। এমন কার্যকরী ইনিংস আন্তর্জাতিক ম্যাচেও দেখতে চাই। প্রস্তুতি ম্যাচে করা সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ চারশোর কাছাকাছি একটা স্কোর করতে পেরেছে। পরবর্তী ব্যাটসম্যান রা রিল্যাক্সড হয়ে মারতে পেরেছে। এর সুফল আমরা পেয়েছি।শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সাব্বিরের স্কোর ৮৬ বলে ১০০!! যার মধ্যে ১৬ টা চার এবং ১ টা ৬! যার মানে ১৭ বলে ৭০ রান আর বাকি ৩০ রান ৬৯ বলে!!
আমাদের প্লেয়াররা এই দিক দিয়েই অনেক পিছিয়ে আছে। ৩ এবং ৪ নাম্বারে পজিশনের প্লেয়ারের কাজ থাকে ইনিংস বিল্ড আপ করা এবং উইকেট পতনের হাত থেকে দলকে রক্ষা করা। তাদের এবিলিটি থাকতে হবে সিঙ্গেল বের করার। যাতে রানের চাকা সচল থাকে। খেলায় ডট বল থাকবেই। কিন্তু সাব্বিরের প্রবলেমটা হল ডট বল সে পোষাতে চায় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে!! যার জন্য সবসময় ভাল একটা শুরু করেও সেটা লম্বা করতে পারে না। আশা করি সাব্বির তার ল্যাকিংস গুলা খুব দ্রুত ওভারকাম করতে পারবে। এবং সিঙ্গেলের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে।

যেসব সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগারেরা হেব্বী খেইলা ৩০০ প্লাস রান করে করে প্রতিপক্ষ্যকে নাযেহাল করে ছাড়েন;
সেই সব সিরিজের শুরুর ম্যাচ থেকেই অতি উৎসুক টাইগার সমর্থক মানে আমাদের প্রত্যাশা ও থাকে আকাশ ছোয়া;
আমাদের ধারনা প্রতি ম্যাচেই তিনশো করবে টীম বাংলা,
জয় ছাড়া কোন কথাই হবেনা;

অথচ খেলার যে ছন্দ পতন আছে তা আমরা ভুলে যাই;
বাংলাদেশ টীম যে এখন ও কোন টূর্ণামেন্টের শুরুতে সহজ হতে শেখেনি, একটু সময় নেয়, সেসব আমাদের ভাববার সময় কোথায়?
২০১৫ সালের জয়ের যে ধারাবাহিকতা বাঙ্গালী দেখেছে, তাতে জয় ভিন্ন অন্য কোন ফলাফলে নগদ গালী দিতে দ্বিধা করেনা! ভুলে যায় জিততে ভুলে যাওয়া বাংলাদেশের অতীত’টা!

অনুরোধ হচ্ছে প্রথম দুই একটা ম্যাচ যদি ম্যাশ বাহিনী হেরে ও যায়, দয়া করে আমরা গালী, সমালোচনা, নিন্দা, তমুক কে নেয়নাই কেনো? অমুক রে বাদ দিতে হবে এমন বলবোনা। না অনলাইনে, টিভি পত্রিকায়।

ওরা খেলা শেষে রুমে ফিরে যখন স্বদেশী টিভি-পত্রিকায় ওদের নিয়ে তোলা প্রশ্ন গুলো দেখে ; তখন আরো বেশি অস্থির হয়র পারফর্ম করতে গিয়ে কিছুই করতে পারেনা। আবার সৌম্যের মত চরম ট্যালেন্ট কেউ কেউ ঘাবড়ে গিয়ে ম্যাচের পর ম্যাচ ফ্লপ মারতে থাকে। এতে ক্ষতি হয় কিন্তু ক্রিকেটের দেশের।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া কে দেখবেন ভিরাট কোহলী কিংবা ডেভিড ওয়ার্ণার গোটা সিরিজ ধরে ও ফ্লপ মারলে স্টেডিয়াম টু মিডিয়া; কেউ টু শব্দটি করেনা। এতে করে ওয়ার্ণার বা ভিরাটেরা অতি দ্রুৎ আত্ববিশ্বাস নিয়ে দানবীয় ইনিংসে ভর করে ফিরে আসে। তাতে লাভ হয় কিন্তু ওদের দেশের।

About The Author
Atikur Rahman Titas
Atikur Rahman Titas
I am Atikur Rahman Titas .I love to write
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment