Now Reading
হতাশা থেকে মুক্তির উপায়!



হতাশা থেকে মুক্তির উপায়!

আমাদের জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন আমরা কারণে অকারণে হতাশাবোধ করি। বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। জীবন তখন দূর্বিষসহ হয়ে ওঠে। কোনকিছুতেই আনন্দ খুজেঁ পাওয়া যায়না। নিজেকে অসহায় মনে হয়। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এখন এই হতাশা কিংবা মানসিক বিষণ্ণতা- রোগে আক্রান্ত। তবে এটি কোন স্থায়ী রোগ নয়।

কখনও কখনও ঔষধ, মেডিটেশান কিংবা কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আপনার কিছু আচরণগত পরিবর্তন যেমনঃ আপনার দৈনন্দিন কার্যকলাপ, জীবনধারা, এমনকি ভিন্নভাবে চিন্তা করার মাধ্যমে আপনি সহজেই এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

এই দশটি টিপসের মাধ্যমে আপনি সহজেই নিজের চেষ্টাতে হতাশা থেকে মুক্তি পেতে পারেনঃ

১। রুটিনমাফিক জীবনযাপনঃ

রুটিনমাফিক জীবনযাপন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি মানসিক বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন, তবে একটি দৈনিক সময়সূচী আপনার জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। কেননা, এটি সহজেই অনুমেয় যে এলোমেলো জীবন মানেই অসুস্থ অস্বাস্থ্যকর জীবন। যা কখনোই জীবনের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

২। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করাঃ

যখন আপনি হতাশ হবেন, তখন আপনি মনে করতে পারেন যে আপনি কিছুই করতে পারেন না। আর এই ব্যাপারটিই আপনার নিজের সম্পর্কে খারাপ মনে করে তোলে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইলে, নিজের জন্য একটি দৈনিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ছোট ছোট লক্ষ্য ধরে এগোতে থাকুন, দেখবেন আপনি অনেক বড় কিছু করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। যখন আপনি ভাল অনুভব করা শুরু করবেন, তখন আপনি আরো চ্যালেঞ্জিং কিছু করার চেষ্টা করুন।

৩। ব্যায়ামঃ

ব্যায়াম করার ফলে আপনার শরীরে এনডরফিন্স  নামক একটি রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ ঘটে যার ফলে আপনি ভালো অনুভব করতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিষণ্ণতার জন্য যা একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে।

৪। স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণঃ

সত্যি কথা বলতে এমন কোনো জাদুকরী খাবার নেই যা খেলে আপনি হতাশা থেকে মুক্তি পাবেন। যদিও কোনকিছুই নিশ্চিত নয়। মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডফলিক এসিড  সমৃদ্ধ খাবার বিষণ্ণতা হ্রাস করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৫। পর্যাপ্ত ঘুমঃ

পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে তথা আপনার শরীরকে প্রশান্তি এনে দেয় যা কিনা মানসিক বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করে। খুব সামান্য ঘুম মস্তিষ্কের জন্য খারাপ তো বটেই বিষণ্ণতা আরো বাড়িয়ে দেয়। আপনার জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনতে শুরু করুন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান এবং প্রতিদিন একই সময়ে উঠে পড়ুন। এই সময়ে হাতের কাছ থেকে মোবাইল দূরে রাখুন, বাতি নিভিয়ে দিন, নিঃশব্দ পরিবেশ তৈরী করুন যেন কোনোকিছুই আপনার ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটাতে পারে। এভাবেই ধীরে ধীরে ঘুমের অভ্যাস গড়ে উঠবে।

৬। দায়িত্ব নিনঃ

যখন আপনি হতাশায় ভুগবেন, তখন হয়তো সকল দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যেতে চাইবেন, সেটা বাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্র যেকোন স্থান থেকেই হতে পারে। কিন্তু না, এটা করবেন না। দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আপনি জীবনের আনন্দ খুজেঁ পাবেন, একটি সুন্দর জীবনযাপনে এটির প্রভাব অনেক বেশি। সময়গুলোকে সুন্দর কাজের মাধ্যমে অতিবাহিত করার ফলে জীবনের গতি ফিরে আসে।

৭। নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জঃ

আপনি যখন মানসিক বিষণ্ণতার সাথে যুদ্ধ করছেন, আপনার মনে বিভিন্ন ধরণের নেতিবাচক চিন্তার উদয় হবে। আর এটাই স্বাভাবিক। যখন আপনি হতাশ হবেন, তখন আপনি সবচাইতে খারাপ সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। মনে এই ধারণার জন্ম নিবে, আপনি মূল্যহীন মানুষ, আপনাকে দিয়ে কিচ্ছু হচ্ছেনা বা হবেনা। আপনার নেতিবাচক চিন্তাভাবনা জীবনে কি খারাপ ফলাফল বয়ে আনতে পারে সেই প্রেক্ষিতে ইতিবাচক চিন্তার অনুশীলন করুন।

৮। কাউন্সিলিং বা চিকিৎসকের পরামর্শঃ

অনেক সময় চিকিৎসক এই রোগ ভালো করার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকেন বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ দেবার মাধ্যমে। কাউন্সিলিং এর দ্বারা নিজের ভেতরের আবেগ-অনুভূতি, পাওয়া-না পাওয়া, মানসিক কষ্ট সহ নানা রকমের পার্শ্বিক দিক গুলো বের হয়ে আসে যা বিষণ্ণতাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

৯। নতুন কিছু করাঃ

যখন হতাশ হয়ে পড়েন, নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন, নিজেকে ভিন্ন কিছু করার জন্য তাগিদ দিন। যেমনঃ আপনি জাদুঘরে যেতে পারেন, একটা বই পড়তে পারেন পার্কের বেঞ্চে বসে, একটি রেষ্টুরেন্টে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারেন; নতুন ভাষা শিখতে পারেন। যখন আমরা নিজেদেরকে নতুন বা ভিন্ন কিছু করতে চ্যালেঞ্জ করি, তখন মস্তিষ্কে রাসায়নিক পরিবর্তন হয়। নতুন কিছু করার চেষ্টা করা [মস্তিষ্কের রাসায়নিক] ডোপামিনের  মাত্রা পরিবর্তিত করে, যা পরিতোষ, উপভোগ এবং শেখার সাথে সম্পর্কিত।

১০। আনন্দ-ফুর্তির ভেতর থাকার চেষ্টা করাঃ

কোন কাজের ভেতরেই যদি আপনি মজা না পান, তবে ধরে নিতে হবে এটা বিষণ্ণতার উপসর্গ। সে ক্ষেত্রে আপনি বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরে বেড়াতে পারেন, ভালো কিছু মুভি দেখতে পারেন, আপন মানুষের সাথে ডিনারে যেতে পারেন। ধরুন, একটা গান শুনে আপনার ভালো লাগছে, তখন গানটা শুনতে শুনতে আপনি আপনার কাজ সম্পন্ন করে ফেলতে পারেন। সর্বদা চেষ্টা করতে হবে হাসি খুশি থাকার।

বিষণ্ণতা কোন দীর্ঘমেয়াদী রোগ নয়। মনের সাথে পাল্লা দিয়েই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব কারণ, বিষণ্ণতা বা হতাশা বলতে গেলে বেশিরভাগই মানসিক, সাথে কিছুটা পারিপার্শিক যেটা মনের উপর প্রভাব ফেলে বলেই একে সর্বোপরি মানসিক বিষণ্ণতা বলা হয়। তাই একমাত্র মানসিক জোর, ইচ্ছাই পারে এর থেকে পরিত্রাণ দিতে।

About The Author
Ferdous Sagar zFs
Hi, I am Ferdous Sagar zFs. I am a Proud Bangladeshi living in abroad for study purpose. I love to write and it's my passion or hobby. Thanks.
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment