Now Reading
জীবন সাফল্য পেতে ইচ্ছা শক্তি টাই বড়,পরিস্থিতি নয়।



জীবন সাফল্য পেতে ইচ্ছা শক্তি টাই বড়,পরিস্থিতি নয়।

বাবা মার আদরের সন্তান সবুজ।ছোট বেলা থেকে অনেক মেধাবী ছাত্র সে।সকল পরিক্ষায় সে প্রথম হয়ে আসছে।কয়েক বছর আগের কথা তখন সবুজ নবম শ্রেনির ছাত্র ছিল।বেশ প্রানবন্তই ছিল ছেলে টা।পড়া কে প্রাধান্য দেয়ার পাশাপাশি বন্ধুদের সাথে ফাযলামি, দুষ্টামি আর মায়ের সাথে হাল্কা অভিমান আর বাবার সাথে সারা দিনের সব কথা শেয়ার করা এই ছিল তার তখনকার সবুজের জিবন।সে মার থেকেও তার বাবাকে বেশি ভালবাসত।সারা দিনের সমস্ত অভিযোগ তার বাবাকে শোনাতো।সবুজের বাবা হাসতো।তখন সবুজ তার বাবাকে বলত তুমি হাসছো কেনো,তখন তার বাবা বলতো এমনেই।আসলে তার সারা দিনের অভিযোগই ছিল তার মাকে নিয়ে।এভাবেই সে সুখের দিনগুলি পার করতেছিল।কে জানত তার জিবনেও অন্ধকারের কালো মেগ ঝেকে বসবে।সবুজ  যখন দশম শ্রেনির পরিক্ষা করে এবং তার ফলাফল দেবার দিন এসে যায়।তখন তার থেকে তার বাবা বেশি ভেঙে পরেছিল।সেই অবস্থাতেও তার বাবা সবুজের মনোবল হারাতে দেয় নি।একটা কথাই তার বাবা বার বার বলতে ছিল,তুই ই পারবি।ফলাফল প্রকাশিত হলো।

সবুজ জিপিএ ৫ পেয়েছে।সবুজ এক ছুটে এসে তার বাবাকে জরিয়ে ধরলো।তখন বাবা খুশিতে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারল না।তার বাবা ছোট একটা প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করে।বেতন যা পায় এক ছেলে আর স্ত্রি কে নিয়ে চলে যায়।পাস করার পর শুরূ হয় ভাল কলেজে পড়ার যুদ্ধ।বাবার কষ্ট হবে তাতে কি?ছেলেকে ভাল কলেজে পড়াতে কে না চায়।ভাল একটা কলেজে পড়তেছে সবুজ এখন।বাবার প্রায় প্রতি মাসে আয় করা সব টাকাই তার ছেলের কলেজে দিতে হয়।তবুও তিনি খুশি এই ভেবে তার ছেলেও আর ১০ টা ছেলের মতো ভালো কলেজে পড়ে ।সবুজের পড়াশুনা ভালই চলছিলো।রেজাল্ট ও ক্লাস এর সবার উপরে।

 

হঠাৎ সে খবর পায় তার বাবা এক সড়ক দুর্ঘটনা তে আহত হয়েছে।বাঁচার আশা খুব কম।সে পাগলের মত ছুটে চলে যায়।বাবাকে দেখে সবুজের মনে হচ্ছে তার উপরে আকাশ ভেঙে পরেছে।একটু খানি জমি ছিল তাদের থাকার জন্য তাও তার বাবার চিকিৎসার জন্য বিক্রি করে দিতে হয়।সব টুকু দিয়েও তার বাবাকে বাঁচাতে পারে নাই সবুজ ও তার মা।পরিবারের মধ্যে এক মাত্র তার বাবাই ইনকাম করতো।এখন তাও নাই।পরিবারের খরচ ছেলের কলেজের বেতন,সব মিলিয়ে দিশেহারা মা কিছু করতে না পেরে মুখ লুকিয়ে শুধু কাদে।ছেলে বুঝতে পারে তার আর পড়াশুনা করা হবে না।সে কলেজ বাদ দিয়ে চলে আসলো।মা না করছিল কলেজ বাদ দেওয়ার জন্য,তবুও মেনে নিতে হইছিল কি বা করার আছে।এত টাকা অসহায় মা কোথায় থেকে পাবে।ছেলে মনে মনে ভেবে নিয়েছিল সে আর পড়বে না।তার পড়াশুনা এবারেই শেষ।তবুও মার অনেক বলার পর সে গ্রামের একটা সাধারন কলেজে এ এডমিশন নেয়।এখানেও টাকার জন্য তার পরীক্ষার ফি জমা পরে যায়।তখন সবুজ বুজতে পারে তার নিজের কিছু করতে হবে।তাই সে কিছু ছাত্র পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।তাতেও সে সফল হতে পারে না হাজার হলেও গ্রাম এলাকা তো।তবুও সে চেস্টা করতে থাকে।একসময় সে সফল হয়।সে এখন অনেক গুলা ছাত্রকে পড়ায়।কোন ভাবে সে নিজের খরচ চালাতে এবং মাকেও প্রতি মাসে কিছু টাকা দিতে পারে ।বাবা হারা সন্তান তার মাকে নিয়ে কোন ভাবে দিনগুলো কাটাতে থাকে।আর ছেলের সাথে সাথে মা ও ভবিষৎতের সুখের আসায় অপেক্ষা করতে থাকে।এমন ভাবে সে এইচ এস সি তেও অনেক ভাল রেজাল্ট করে।এবং ভাগ্য তাদের চেস্টার কাছে হার মানে।সবুজ এর মেডিকেল এ চান্স হয়।তখন ছেলে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।তবে এ কান্যা দুঃখের না পরম সুখের।তাদের সকল বেদনার অবসান ঘটতে চলেছে।তার প্রিয় বাবার স্বপ্ন পূরন হওয়ার দিন এগিয়ে আসছে।

 

এভাবেই সে ভাল ভাবে মেডিকেল পড়া শেষ করে।সে এখন অনেক বড় ডাক্তার।তার কেবিনে এখন সে তার বাবার ছবি রাখে আর কোন অপারেশনে যাওয়ার আগে তার বাবার ছবিতে ছালাম করে যায়।সে এই ভেবে আনন্দ পায় সে তার বাবার দেখা সপ্ন পূরন করতে পাড়ছে,হাজার প্রতিকূলতার মাঝেও।শুধু তার ইচ্ছা শক্তির জন্য।তাই হাজার প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিকূলতাকে জীবনের সাথি হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত ।জীবনে সাফল্য পেতে নিজের ইচ্ছা শক্তি টাই বড় পরিস্থিতি নয়।

About The Author
Asif sikdar
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment