ছোটবেলার বন্ধুগুলো !

Please log in or register to like posts.
News

আমার ছোটবেলা কেটেছে গ্রামের বাড়িতে । খুবই চটপটে ছিলাম বাড়িতে থাকতাম না ! সারাদিন গ্রামে দৌড়ে বেড়ানই ছিল আমার কাজ ! বন্ধুদের সাথে নিয়েই পুরো গ্রাম দৌড়ে বেড়াতেম । বাড়িতে গেলেই আব্বুর শাসন শুরু হয়ে যেত । এই ভয়ে গ্রামের প্রতেবেশিদের বাসায় খেয়ে নিতাম আব্বু বাসায় থেকে চলে গেলে একেবারে বিকেলে বাড়িতে যেতাম ! সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে আবার বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে বাসার সামনে ক্রিকেট খেলা শুরু করে দিতাম । তখনকার সময়, সারাদিন বন্ধুদের সাথে দৌড়াদৌড়ি আর খেলাধুলা করেই দিন কাটত ! আর সন্ধ্যা বেলায় আমার সাথে কোন বন্ধুদেরকে পেতামনা । বাড়িতে ভাই আর বোনকে বিরক্ত করা ছাড়া কোন কাজ থাকতোনা ! কিন্তু কতক্ষণ জ্বালাবো আম্মার আর আব্বুর বকনিতো আছে । রাতরে আমি একা হয়ে যেতাম কোন বন্ধুদের সাথে তো দৌড়াদৌড়িও করতে পারতাম্না আবার খেলতেও পআরতাম্না। একাকী  হয়ে যেতাম !

কিন্তু, আমার এই বন্ধুগুলোর সাথে খুব বেশিদিন থাকতে পারলামনা । মাত্র ৬-৭ বছর এদের সাথে কাটিয়েছিলাম । ভাল ভবিষ্যৎ আর পড়া লেখার জন্য আমার সপরিবারে শহরে চলে এসেছিলাম । কিন্তু ওদের মত বন্ধু কখনই পাইনি । গ্রাম থেকে চলে আসার পর অনেকবার গ্রামে ঘুরতে গেছি কিন্তু ৩-৪ বছর পেরানোর পরে আর যাওয়াই হতোনা । কেমন জানি ভাল লাগতনা, চলে আসার আগে বন্ধুরা আমাকে প্রায় বলতো, শহরে গেলে আমাদেরকে মনে থাকবে ? থাকবেনা কেন অবশ্যই থাকবে । গ্রামে আসলে তোমাদেরকে দেখার জন্যই আসব এগুলো বলতাম ঠিকই কিন্তু শহরে আসার ৩-৪ বছর পরেই গ্রামের প্রতি আসক্তি কমে যায় ।

কিন্তু, এখন আপসোস হয় যে, তখন আমি কেন তাদেরকে মনে করতামনা, দেখতে যেতামনা । ভুলেই গেছিলাম ! আপসোস হওয়ার কারন, গত বছরে যখন দীর্ঘ ৫ বছর পর গ্রামে ঈদ করতে গেছিলাম ! তখন এটি আমি উপলব্দি করেছিলাম । সে সময় আমার বন্ধুরা আমাকে রোদে থাকতে দিতনা ! এই রোদে যদি অসুস্থ হয়ে যাই তার জন্য । আমি ছবি তোলার জন্য বিলে গেছিলাম তো আমার কিন্তু আমার এক বন্ধু আমাকে জোর করে রাস্তার পাশে গাছের ছায়াই বসাল, তো আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি আমাকে রোদে থাকতে দিবেনা কেন ? অসুখ হয়ে যাবে একটাই কথা অসুখ হয়ে যাবে । আমার শৈশবের বন্ধুরা আমাকে যেন কোন আঁচড় পরতেই দিবেনা । এরাকম অবস্থা ! এখনো তাদের সেই বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবটা থেকেই গেছেছিল ! আমি কৃতজ্ঞ ।

তো আমাকে রোদে থাকতে দিবেনা, তাই যেই গাছের ছায়ায় বসে ছিলাম সেখানে বসে থেকেই আমার এই ছবিটি তোলা হয়েছিল । সেই ছোটবেলার বন্ধু যাদের সাথে খেলেছিলাম, দুষ্টমি করেছিলাম ইত্যাদি ।

বন্ধুদের সাথে বসে থেকে এই রাস্তাটীর ছবি তুলেছিলাম, যেখানে আমরা মানুষকে বোকা বানাতাম ! কীভাবে বোকা বানাতাম সেই বিষয় নিয়ে একটা গল্প বলি,

আমার আব্বু প্রতিদিন রাতরে বাসায় ফেরার সময় বিস্কিট নিআসতেন । তো আমরা কি করতাম সেটা হল, বিস্কিটের প্যাকেটটী সাবধানে খুলে বিস্কিট সব বের করে নিতাম ! তারপর ঐ ফাঁকা প্যাকেটে আমরা বালি, খোয়া ইত্যাদি এই ধরনের জিনিস ঢুকিয়ে বিস্কিটের প্যাকেট এর মত বানিয়ে ফেলতাম ! কিন্তু ভেতরে বিস্কিট থাকতোনাে ! আমাদের শেষ কাজটি ছিল, রাস্তার মাঝে প্যাকেটটি রেখে আসা যাতে কেও ওটা বিস্কিট এর প্যাকেট মনেকরে নিয়ে যায় । একটা সুবিধা ছিল যে, আমাদের বাড়ির সামনেই বড় রাস্তাটা ছিল । রাস্তা ফাঁকা থাকলেই আমরা ধ্রুত কাজ শেষ করে ফেলতে পারতাম এবং কোথাও লুকিয়ে যেতাম । যাতে দেখতে পাই কে প্যাকেটটা নিচ্ছে । ছোট ছিলাম তো তাই বন্ধুরা মিলে এসব দুষ্টমি করেই অনেক মজা পেতাম ।

আর এটাও হল সেই রাস্তা । এই রাস্তাটিতে কতগুল যে বালি ভরা বা খোয়া ভরা প্যাকেট রেখেছিলাম তার কোন ঠিক নাই ।  এই রাস্তাটির ছবি দেখলেই মনে আমার বন্ধুরা আমার পাশে বসে আছে । প্রকৃত বন্ধু হিসেবে আমি তাদেরকে পেয়েছি । বন্ধুরা আমার কাছে না থাকলেও তাদের এই সৃতিতে ভরা একটি মাত্র ছবিই আমার কাছে যথেষ্ট ! তারা আমার পাশে আছে ছবিটিই আমাকে এটা বলছে !

 

 

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?