সমসাময়িক চিন্তা

সেলফি আসক্তিঃ একটি মানসিক ব্যাধি?

সেলফি এখন আর শুধু মাত্র একটি শব্দ নেই। সেলফি উন্মাদনা চলছে শিশু , কিশোর ,যুবক যুবতী থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের মাঝেও। সাম্প্রতিক সময়ে এটি একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এখন বাজারে এমন বই ও আপনি পাবেন যা কিনা সেলফি নিয়েঃ “ভালো সেলফি তোলার উপায়” টাইপের যেখানে এর খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বর্তমানে অনেক মানুষ আছে যারা কিনা সেলফি তুলে পোষ্ট দেয়ার জন্যে ফেসবুক-তারকা বনে গেছে।

কোন ফটোগ্রাফার ছাড়াই ছবি তোলার এই ব্যাপারটি প্রথমত মজা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি মানুষের মাঝে এক প্রকার জটিল আসক্তির মত ছড়িয়ে গেছে। যা থেকে মানসিক বিষণ্ণতা থেকে শুরু করে আত্নহত্যার মতোও ঘটনা ঘটছে।

দিনে দিনে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে যে হারে এর প্রবণতা বাড়ছে তা সত্যিকার অর্থেই ভাববার বিষয়। সেলফির প্রতি দিনে দিনে আসক্ত হয়ে পড়ার ফলে তারা মানসিক ও শারীরিক নানা জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে যা তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরুপ।

আজকাল মানুষ ইন্টারনেটে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব দেখাতে সচেষ্ট থাকে। তারা তাদের বাস্তবিক জীবনের চাইতে ভার্চুয়াল জীবনের প্রতি বেশি পরিমাণে সময় দিচ্ছে এবং এর ফলে তারা একমুখী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ওজন কমে যাওয়া, বিষাদ্গ্রস্ত হয়ে পড়া, আত্নকেন্দ্রিকতা সহ নানা প্রকার রোগের কারণ এই সেলফি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেউ যখন একটি সেলফি পোষ্ট করে, তখন সে আশা করে তার সেলফি মানুষ বেশি বেশি দেখুক, পছন্দ করুক কিংবা মন্তব্য করুক। যখন সে ইতিবাচক সাড়া পায়, তখন আরো বেশি ফটো বা সেলফি পোষ্ট আপলোড করা শুরু করে, আর এর মাধ্যমে সে তার জীবনের আনন্দকে খুজেঁ পায়। কিন্তু যখনই এর বিপরীত ঘটে, অর্থ্যাৎ তার পোষ্টগুলোতে আশানুরুপ সাড়া না পায়, তখন তার মধ্যে বিষণ্ণতা কিংবা মানসিক অশান্তি শুরু করে দেয়ঃ কেন এমন হচ্ছে? এই সেলফিটা কেন মানুষের ভালো লাগলো না? কি সমস্যা এতে? তখন সে এটা মুছে দিয়ে আবার নতুন একটা ছবি দেয়। এভাবেই এটি চলতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে অনেক আত্নহত্যার কথাও উঠে এসেছে মিডিয়াতে। তাই এই সেলফি আসক্তিকে চিকিৎসক কিংবা মনোবিজ্ঞানীরা মানসিক ব্যাধি হিসেবেই আখ্যায়িত করছেন।

সেলফি আসক্তিতে পুরুষের চাইতে নারীরা এগিয়ে। তারাই এর পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে থাকে। ব্যক্তিত্ববোধে কিংবা সাজসজ্জা সহ নানা ক্ষেত্রে সেলফি তাদের কাছে বর্তমানে সৌন্দর্য প্রকাশের বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাতে ফেসবুক এর মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট মূখ্য হিসেবে কাজ করছে।

আমাদের সন্তানেরা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ কিংবা সম্পর্ক আদান প্রদানের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ও সামাজিক মিডিয়াগুলোর উপর নির্ভর করতে শিখছে। এক গবেষণায় সেলফি এবং মানসিক অসুস্থতার মাঝে একটি সংযোগ দেখানো হয়েছে; তাই, আমি আপনাদের উপর এই প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি- আমরা কি আমাদের সন্তানদের জন্যে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যৎ তৈরী করছি যা কিনা তাদের মানসিক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে? তাই যদি হয়, তবে এই সমস্যা প্রতিরোধে আমরা বাবা-মা, পেশাজীবী, সমাজ আমাদের সন্তানদের জন্য ঠিক কি করছি?

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

MD. SHOHIDUL ISLAM

সম্মান আর সময় দুটোই কমিয়ে দিতে পারে ফেসবুক !

Saif Mahmud

চট্টগ্রামে সড়ক কতটা নিরাপদ?

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy