হিজড়ারা আজ আমাদের সমাজে অবহেলিত কেন..?? আমারা কি জানি বা জানতে চেষ্টা করেছি কখনো ..??

Please log in or register to like posts.
News

হিজড়া হিজড়া বলে যাদের আমরা অবহেলা করি আমরা কি জানি এই হিজড়া সম্পর্কে?? তাদের এই শারীরিক অসামঞ্জস্যতার পেছনে কি রয়েছে সেটা জেনে কি আমরা তাদের অবহেলা করছি?? আসলে জানেন কি আমরা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক হাতে গুনা কয়েকটা পুস্তকের শিক্ষাই আবদ্ধ ,মানবিক বা কারিগরি শিক্ষার ধরা ছোয়া আমাদের মাঝে নেই। সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে আসলে এটা আমাদের এক ধরণের লজ্জায়। সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব গুলোই ভালো। ধর্ম,বর্ণ, জাতি, পদমর্যাদা, অর্থের ভেদাভেদ তাদের মধ্যে নেই। যায় হোক প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে কম বেশি সবাই আমরা জানি। বয়স, লিঙ্গ, জাতি,সংষ্কৃতি বা সামাজিক অবস্থান এর উপর আর দশজন যে কাজগুলো করতে পারে ইম্পেয়ার্মেন্ট এর কারণে সে কাজগুলো প্রাত্যহিক জীবনে করতে না পারার অবস্থায় হল ডিসেবিলিটি বা প্রতিবন্ধিতা। ইম্পেয়ার্মেন্ট হল দেহের কোন অংশ বা তন্ত্র যদি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে; ক্ষণস্থায়ী বা চিরস্থায়ী ভাবে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায় সে অবস্থাটিকে বোঝায়। এখন ঠান্ডা মাথায় ও সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয় যে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মত হিজড়া ও একধরণের প্রতিবন্ধী। তাদের এই প্রতিবন্ধতাকে বলা হয় যৌন প্রতিবন্ধী। তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধী বললেও অবশ্য ভুল হবে না। কারন যৌন প্রতিবন্ধতা মানব দেহের শারীরিক সমস্যার একটি ফল। কিন্তু সমাজের বাস্তব পরিস্থিতি স্থিতিশীল বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় এর ভিন্ন মতামত। সমাজের আশেপাশের মানুষের কাছে যৌন প্রতিবন্ধী শিশুরা নিগৃহীত ,বঞ্চিত ও লাঞ্চিত।

যৌন প্রতিবন্ধতাকে সমাজে অভিশাপ বলে মনে করা হয়। যার ফলে একজন যৌন প্রতিবন্ধী শিশুর ঠাঁই হয় পতিতাপল্লী বা হিজড়া সমাজে। সেরা জীব হিসেবে আমরাতো মুক্ত চিন্তার ধারক ।কখন ও কি হিজড়া হয়ে জন্ম নেয়ার পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা ধর্মীয় ব্যাখ্যার জানার চেষ্টা করছি??চেষ্টা করেছি কি এটা জানার যে তাদের জন্মের পেছনে কতটুক তাদের হাত রয়েছে?? চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যৌন প্রতিবন্ধতা : ক্রোমোজোমের ত্রুটির কারণে জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যাদের জন্মপরবর্তী লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়, মূলত তারাই হিজড়া। হিজড়া শব্দের অন্য একটি অর্থ হচ্ছে ‘ট্রান্সজেন্ডার’। ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলতে এমন এক লৈঙ্গিক অবস্থাকে বুঝায় যা দৈহিক বা জেনিটিক কারণে মেয়ে বা ছেলে কোন শ্রেণিতে পড়ে না। আরেকটু বিশ্লেষণ করে বললে, XX প্যাটার্ন ডিম্বাণুর সমন্বয়ে কন্যা শিশু আর XY প্যাটার্ন থেকে সৃষ্ট হয় ছেলে শিশু। ভ্রুণের পূর্ণতার স্তরগুলোতে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে ছেলে শিশুর মধ্যে অন্ডকোষ আর কন্যা শিশুর মধ্য ডিম্বকোষ জন্ম নেয়। অন্ডকোষ থেকে নিসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্বকোষ থেকে নিসৃত হয় এস্ট্রোজেন। ভ্রুণের বিকাশকালে নিষিক্তকরণ ও বিভাজনের ফলে বেশকিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সৃষ্টি হয়, যেমন- XXY অথবা XYY। এর ফলে বিভিন্ন গঠনের হিজড়া শিশুর জন্ম হয়। ইসলামিক ব্যাখ্যা : হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, হিজড়ারা জ্বিনদের সন্তান। কোন এক ব্যক্তি আব্বাস (রা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কেমন করে হতে পারে। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ”আল্লাহ্ ও রাসুল (সা.) নিষেধ করেছেন যে, মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সঙ্গম না করে, সুতরাং কোন নারীর সঙ্গে তার ঋতুস্রাব হলে শয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দারা ঐ নারী গর্ভবতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে।” (মানুষ ও জ্বিন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় ‘খুন্নাস’)। (সূরা বানী ইসরাইল- আর রাহমান- ৫৪) বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ১৭ লাখ। সরকারি উদ্যোগে যৌন প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা ১০ হাজার ।তবে বেসরকারি হিসাব মতে দেশে বর্তমানে যৌন প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। যৌন প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ার পেছনে সেই মানুষটার কোন হাত ছিল না।এটা সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক। আর যদি আঙ্গুল তোলতে হয় তবে সর্ব প্রথম স্রষ্টা অতঃপর পিতামাতার দিকে আঙ্গুল তুলুন। স্রষ্টার উপাসনা বন্ধ করে দিন ,তিনি কেন হিজড়াকে তার সৃষ্টির তালিকায় রেখেছে যেটা কিনা সভ্য মানব সমাজ মেনে নিতে পারেন না এবং সেই হিজড়ার পিতামাতাকে ঝাটা দিয়ে পিটিয়ে সমাজ থেকে বের করে দিন ,তারা কেন হিজড়া সন্তান জন্ম দিল এই দোষে। পারবেন করতে?? হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা অন্য যেই ধর্মের অনুসারী হোন না কেন , যদি প্রকৃত অর্থে ধার্মিক হয়ে থাকেন তবে স্রষ্টার সৃষ্টির অবমাননা করবেন না। মনে রাখবেন ,স্রষ্টার সৃষ্টির অবমাননা কেবল সৃষ্টিরই অবমাননা নয়,আপনি যেই স্রষ্টার উপাসনা করেন তার ও অবমাননা।

ভুলে যান তাদের লিঙ্গ কি। মাথায় এটা রাখুন কেবল, তারাও আপনার মত মানুষ।এত নামাজ, রোজা,পূজা ,প্রার্থনা করে দিনশেষে হয়ত এই একটা সৃষ্টির অবমাননা আপনার পরকালের সুখের জীবন কেড়ে নিতে পারে।যৌন প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিলেও তাদের রয়েছে স্বাভাবিক জীবন যাপন এর অধিকার। যেটা কেবল সম্ভব হতে পারে আমাদের মত সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের সুস্থ চিন্তা দ্বারা। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে বলা হয়েছে প্রত্যেকটি শিশুর নিরাপত্তার সাথে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করে পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে পুরোপুরি অংশগ্রহণের অধিকার আছে। তাদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি এবং সর্বস্তরের মানুষের নীচ চিন্তাভাবনা পরিহার করে এগিয়ে আসতে হবে।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?