সাফল্যের গল্প

ইতিহাসে ডেসমন্ড থমাস ডস

ডেসমন্ড থমাস ডস,আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কোনো সৈনিক যিনি নিজের ইচ্ছায় শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে অপারগতা জানিয়েও ‘Medel of Honor’ পেয়েছিলেন।পেয়েছিলেন মানুষের ভালোবাসা।

ডসের জন্ম ১৯১৯ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি,আমেরিকার ভার্জিনিয়ায়।ছোটকাল থেকেই মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ডসের পিতাও ছিলেন সাবেক একজন যোদ্ধা।বাবা-মায়ের মধ্যকার কলহ তাকে আরো মানসিকভাবে ভেঙে দিত।এ ধারা বজায় থাকে মিলিটারিতে যোগ দেয়ার পরও সুঠাম দেহের অধিকারী না হওয়ায় শুনতে হতো সহযোগীদের নানান কটু কথা।হেয় করা হতো আরো নানা তুচ্ছ কারণে।যদিও তখনো তারা জানতো না এই ডসই হয়ে যাবে যুদ্ধের ময়দানে তাদের প্রাণ বাঁচাতে ঈশ্বরের পাঠানো দূত।কারন নিজ ব্রতের কারণে মিলিটারি ট্রেনিং এর সময়ই তিনি অস্ত্র হাতে নিতে অপারগতা জানান।যার কারণে তাকে চেইন অব কমান্ড মেনে না চলার অপরাধে আসামী করা হয়।পরে যদিও এ অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে তাকে নিযুক্ত করা হয় একজন কমবাট মেডিক হিসেবে।যে দায়িত্ব তাকে করে দেয় সকলের প্রিয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এর সময় জাপানে এক যুদ্ধে আমরিকান আর্মির সাথে জাপানি সৈনিকদের জাপানের ওকিনাওয়ায় হওয়া যুদ্ধে বোমার আঘাতে মৃতপ্রায় ৭৫ জনের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখেন।তিনি নিজেও কয়েকবার বোমার আঘাতে আহত হলেও নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন নিষ্ঠার সাথে।মজার ব্যাপার তিনি নিজ কমান্ডারকেও রক্ষা করেন যিনি তাকে ট্রেনিং এর সময় হেয় করেছিলেন।অনেকেই এরপর তাকে সম্মানের চোখে দেখতে থাকে।

এরপরও কিছু বছর কাজ করে গেছেন এ মহান বীর।এখনো তাকে ইতিহাসের অন্যতম বীর হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়।দেশের সেবা ককরার দৃঢ় ইচ্ছা থাকলেও রোগে আক্রান্ত হবার কারণে তার শারীরিক সক্ষমতা কমতে শুরু করে।১৯৪২ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।নিজের নানান বীরত্ব এর জন্য পান অসংখ্য মেডেল।মেডেল পেয়েছিলেন স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এর থেকেও।

ব্যক্তি জীবনে ডস বিয়ে করেন দুটি।যদিও প্রেম করেই করেছিলেন প্রথম বিয়েটি।ডেসমন্ড ডস মারা যান ২৩শে মার্চ,২০০৬ সালে।তার জীবনীকে তুলে ধরে একটি মুভিও তৈরি করা হয়েছে।মুভিটির নাম হ্যাক’স রিডজ।মুভিটিতে তুলে ধরা হয় তার জীবনের কিছু মূল বিষয় ও অর্জন।মুভিতে তার ভুমিকায় অভিনয় করেন এন্ড্রু গারফিল্ড।এছাড়া তার স্ত্রীর ভুমিকায় অভিনয় করেন তেরেসা পালমার।গত বছর মুক্তি পায় মুভিটি।

ইতিহাসের পাতায় আজীবন রয়ে যাবেন ডস।তিনি শিখিয়ে গেছেন কিভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে হয় নিজের জীবনের পরোয়া না করে।কিভাবে পালন করে যেতে হয় কঠিন দায়িত্ব নিজের কথা না ভেবে।দেখিয়েছেন কোনো কাজের জন্য নিজের ইচ্ছাই যথেষ্ট।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

NOBODY থেকে SOMEBODY. . . ( Based on A True Story )

Ashraful Kabir

আছাড় খেলেই হাটতে শেখা যায়!

Asif Shehzad

সাফল্যের গল্প ও মায়ের ত্যাগ

Fatematuz Zohora ( M. Tanya )

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: