Now Reading
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই নায়কেরা



বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই নায়কেরা

একসময় টিভিতে খেলার খবরের আগেই একটা দৃশ্য দেখতাম।যেটা হল, মার্টিন সুজি বল করেছেন শান্তর পায়ে লাগে এবং ১ রান নিয়ে পাইলট এবং শান্তর সাথে গোটা বাংলাদেশের উল্লাস। সেই জয়টা ছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়।
১৯৯৭ সালে কেনিয়াকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো টাইগাররা। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার ম্যাচ ছিলো এটি।

১৩ এপ্রিল আকরাম খানে নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল সেদিন বিশ্ব ক্রিকেটকে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলো। কুয়ালালামপুরের অনুষ্ঠিত ফাইনালে কেনিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো টাইগাররা। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

আর আগে ব্যাট করে স্টিব টিকলোর ১৪৭ রানের ওপর ভর করে ২৪১ রানের বড় সংগ্রহ পায় কেনিয়া। টাইগারদের পক্ষে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন মোহাম্মদ রফিক।

জবাবে, ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ পড়ে বৃষ্টির বাধায়। তাই ২৫ ওভারে আকরাম খানদের সামনে টার্গেট দাড়ায় ১৬৬ রান। রফিক, নান্নু,আমিনুল, আকরাম খানরা সেই রান তাড়া করতে নেমে জয়ের কাছে পৌঁছেও গেলো।

শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ঠিক তখনই প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যাটকে চুম্বন করেন পাইলট। শেষ ৩ বলে প্রয়োজন ২ রান। স্ট্রাইকে হাসিবুল হোসেন শান্ত। এলোপাথারি চালালেন ব্যাটে বলে কোনো সংযোগ নয় ডট বল। শেষ ২ বলে এখন ৩ রানের প্রয়োজন। কোচ আবারও বার্তা দিলেন ব্যাটে বলে কর। ইনিংসের শেষ ওভারের চুতর্থ বল। গুড লেন্থ বল। দারুন এক পুলে প্রায় সীমানা ছাড়া করেছিলেন। কিন্তু অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে সেটা বাচান কেনিয়ার ফিল্ডার। যার ফলে ২ রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় শান্তকে। এবার ইনিংসের শেষ বল মহাকাব্য রচনার হাত ছোয়া দূরত্বে। ১ বলে ১ রান। স্ট্রাইকে হাসিবুল হোসেন শান্ত। প্রস্তুত মর্টিন সুজি। আম্পায়রকে অতিক্রম করে বল করলেন লেগ স্ট্যাম্পে ইয়র্কার, তরিঘরি করেই প্রান্ত বদল করলেনই দুই ব্যাটসম্যান। এরই সাথে ইতিহাস রচিত হল। বাংলাদেশ অবশেষে পঞ্চমবারে এসে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে নিল।

আজকের এই বাংলাদেশ টিমের পিছনে এই হিরোদের ভূমিকা অনেক।রফিক ,নান্নু আমিনুলদের হাত ধরেই আজকের ক্রিকেটের সোনালী দিন শুরু হয়েছিলো। আমাদের অনেক বাঁধা পেরিয়ে আজকের এই দিনে আসতে হয়েছে । বাংলাদেশ টিমে আছে মাশরাফি ।মানুষটা হারতে শিখেনি
৭টা অপারেশন তাকে হার মানাতে পারেনি।মাঝেমাঝে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি এই প্রজন্মে জন্মেছি বলে।এই প্রজন্মে জন্মেছি বলেই মাশরাফির মতো মানুষ সামনে থেকে দেখতে পেরেছি।যে কিনা ১১ বার পায়ের অপারেশনের পরেও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য একনাগাড়ে খেলে যাচ্ছেন।তাও আবার একই যায়গাতে ১১ টিবার অপারেশন।
যখন খেলতে নামেন তখন প্রতিবার খেলার আগে সিরিঞ্জ দিয়ে হাটু থেকে পুজ বের করে পায়ে কালো রঙের ব্যান্ডেজ পড়ে খেলতে হয়। টিমে আছে সাকিব ,তামিমদের মতো লড়াকু বাঘেরা । আছে মুশফিকদের মতো খেলোয়াড় । ঠিক যেই সময় পুরো দেশ মাশরাফির ঘন ঘন ইন্জুরী নিয়ে চিন্তিত এবং একজন দীর্ঘদেহী পেসার যে ১৪০-১৫০ গতিতে বল করতে পারবে এমন পেসার এর অভাবে ভুগছে ঠিক সেই সময়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিপিএল আরও এর মাধ্যমে আর্বিভাব বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার হিরো তাসকিন । আছে ফিজদের মতো বোলার।আমরা বধ করেছি ভারত ,পাকিস্তান ,সাউথ আফ্রিকার টিমকে ।

ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন সেই সব হিরোদের যাদের কাঁধে ভর করে আজকের এই বাংলাদেশ ক্রিকেট ।

পিকচার সোর্স ঃ
Sportskeeda.com

About The Author
Atikur Rahman Titas
Atikur Rahman Titas
I am Atikur Rahman Titas .I love to write

You must log in to post a comment