Now Reading
আমি একজন ধর্ষিতা এই সমাজ কখনো আমাকে মেনে নিবে..?



আমি একজন ধর্ষিতা এই সমাজ কখনো আমাকে মেনে নিবে..?

হ্যাঁ আমি ধর্ষিতা। আমার গর্ভে এক ধর্ষকের সন্তান বড় হচ্ছে। কি হবে এই সন্তান?? আমারই মত আরেক ধর্ষিতা নাকি, আমাকে যে ধর্ষণ করেছে তার মত এক ধর্ষক?? পাড়া গাঁয়ে বসবাস আমার। সবে মাত্র সপ্তম শ্রেণীতে পা দিয়েছিলাম। কিন্তু গ্রামের মেম্বারের ছেলের জন্য আমার জীবনে কাল নেমে আসলো।মেম্বারের ছেলে উত্যক্ত করাই আমার বাবা বিচার দেয় মেম্বারের কাছে। হ্যাঁ, বিচার হয়েছিল। বিচারে বলা হয়েছিল আমার চরিত্র খারাপ, আমি মেম্বারের ছেলেকে নাচায়।

এই কথা শুনার পর বাবা আর একমাস ও অপেক্ষা করেনি। দেখতে খারাপ ছিলাম না, ছেলে পক্ষ দেখতে এসেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে গেল। ছেলে ভালো, টাকা-পয়সা ভালোই রোজগার করে।কিন্তু বয়সটা একটু বেশি। খুব বেশি না,আমার বয়সের তিনগুন ছিল মাত্র। পাড়াগাঁয়ে আমাদের একমাত্র বিনোদন মাধ্যম ছিল বিটিভি। সেই সুবাদে মিনা কার্টুন দেখতাম এবং মিনার ভক্ত ও ছিলাম। মা বাবাকে অনেক বিনতি করি,আমি পড়ালেখা করতে চাই। শুনেনি কথাটা। বড়বোন বলেছিল, নিজের কপাল নিজে পুড়িয়েছিস; আরো যাইয়া মেম্বারের ছেলের সাথে প্রেম কর। হাল ছেড়ে দেয় নি তখন ও। ভেবেছিলাম হয়ত আমি বেগম রোকেয়ার স্বামীর মত একটা স্বামী পাবো। কতটা নির্বোধ আমি। আশা নিয়ে বসে আছি আমার জীবনে কোন সাখাওয়াত হোসেন আসবে। বিয়ের দিন সারা বাড়ি ঝলমল করছে।

অনেক মেহমান আর তাদের সাক্ষী রেখে বিয়েটা হয়ে গেল। গায়ে হলুদ, বিয়ে সব মিলিয়ে শরীরের উপর খুব ধকল গিয়েছিল। সব রীতি রেওয়াজ সম্পন্ন করে রাত ২ টাই আমাকে আর আমার বরকে বাসর ঘরে পাঠানো হল। ভেবেছিলাম কাপড় পাল্টে , হাতমুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়ব। আমার সেই ভাবনায় সেগুরে বালি ঢেলে দিল আমার স্বামী। কাপড় বদলে ঘরে আসতেই হামলে পড়ল আমার উপর কিছু বোঝার আগেই। কুকুরের মতো কামড়াচ্ছিল সারা গায়ে। ব্যাথায় চিৎকার করতেই লাথি দিয়েছিল। তারপর আর চিৎকার করিনি। শুধু কেঁদেছি ,নিঃশব্দে । টানা তিন ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করছিল আমায় আমার স্বামী। তিনঘন্টা পর সুখ উপভোগ করে ঘুমিয়ে পড়লেন তিনি।

দাঁড়াতে গিয়ে টের পেলাম আমি নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারছিনা।গোপনাঙ্গ থেকে কিছু একটা গড়িয়ে পড়ল। হাত দিয়ে দেখি রক্ত। গরু জবাই করলে যেমন করে রক্ত ঝরে সেভাবেই রক্ত ঝরছিল। ভোর সাড়ে পাঁচটা তখন। কি করব,কাকে বলব বুঝতে না পেরে মেঝেতে শুয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল স্বামীর লাথিতে। যদিও ইচ্ছে করে দেয় নি। সে জানত না আমি মেঝেতে শুয়েছিলাম। ব্লিডিং এর কথা শুনে সে তার ভাবীকে ডেকে রুম থেকে চলে গেল। আমি বেশি কিছু জানতাম না এসব বিষয়ে ।। বিয়ের দিন বোন কানে কানে বলেছিল স্বামী যা চাইবে তা করতে দিতে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই । গা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছিল। তাও গোসল করে শাশুড়ির খেদমত করতে গেলাম। গায়ে এক বিন্দু শক্তি নেই যে দাঁড়িয়ে থাকব। ঐ পশুর কাছে যেতে ইচ্ছে না করলেও যায়। ওহ পশু না তো, স্বামী তো সে আমার । রাত দিন মানে নি পশুটা। সুযোগ পেলেই যৌনাঙ্গে হাত দিতো।

আমিও কেন জানি মানতে পারছিলাম না এসব। প্রতিরাতে অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। খুশি করতে হয়েছে তাকে। এভাবে করে সপ্তাহে ৫ দিন মাসে ২০ দিন টানা ধর্ষণের পর বিয়ের তৃতীয় মাসের মাথায় আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়। গর্ভে আসে ধর্ষকের সন্তান। হয়ত সে আমার মত আরেকটা ধর্ষিতা আর না হয় আমার পশুসম স্বামীর মত আরেকটা ধর্ষক। আমার আর স্কুলে যাওয়া হয় নি। কারণ আমি আমার মত আরেকটা ঝরা ফুলের জন্ম দিতে যাচ্ছি। গর্ভবস্তায় ও আমার স্বামীকে আমার খুশি করতে হয়েছে। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব এতবার শারীরিক মিলনের সময় একটা দিনও আমি হাসতে পারিনি বা মন থেকে তার কাছে যায় নি। কুকুরের মতো ধর্ষণ করে, মাকে বলাতে ,মা বলেছিল স্বামীকে নারাজ করে,তার বিরুদ্ধে কটু কথা বললে জান্নাত পাব না কখন ও। আসলে আমার না জান্নাতের দরকার নেই, শুধু এই ধর্ষণ থেকে মুক্তি চাই আমি। আরেকটা ধর্ষিতা বা ধর্ষককে আমি জন্ম দিতে চাই না। ওহ হ্যাঁ বলাই তো হয়নি, ডাক্তার সাহেব বললেন এই সন্তান আমার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আমার শাশুড়ি এসব বাজে কথাই কান দেন নি। আমাকে কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়েছে। কবিরাজ তাবিজ দিয়েছে আর বলেছে কোন এলোপ্যাথিক ঔষধ খেলে কাজ হবে না তার তর্জমার। সবশেষে খুশির খবর এটাই আমি ধর্ষিতা বা ধর্ষকের মা হতে যাচ্ছি এবং আমার স্বামী এখন আর আমাকে ধর্ষণ করে না একদম। তার চাহিদা সে পতিতাপল্লীতে গিয়ে পূরণ করে আসে। সন্তান প্রসব করে যদি বেঁচে ফিরি ইনশাল্লাহ আবার ও আমি আমার স্বামীকে খুশি করতে পারব, এবং তার ও আর পতিতাপল্লীতে যেতে হবে না।

About The Author
Arman Siddique