Now Reading
অপ্রতিরোধ্য তামিম ইকবাল



অপ্রতিরোধ্য তামিম ইকবাল

আমি যখন খেলা বুঝতে শুরু করি তখন ক্রিকেট বিশ্বে বেশ কিছু ওপেনারের দোর্দন্ড প্রতাপ চলছে। শচীন, গাংগুলী, গিলি, হেইডেন, জয়সুরিয়া, সাইদ আনোয়ার, গেরি ক্রিস্টেন, স্টিভেন ফ্লেমিং, মারকাস ত্রেস্কোতিক। ওদেরকে দেখতাম আর আফসোস করতাম। আমাদের উদ্ভোবনী জুটি তেতে তখন জাভেদ ওমরের মত ব্যাটসম্যান যিনি পারলে ওয়ানডেতেও টেস্ট খেলেন আর আল শাহরিয়ার এর মত ব্যাটস্ম্যান যে ২ -৩ টা চার মেরেই ফুস। আর ছয় এর মার তো দূরের কথা। আফসোস থাকত বাংলাদেশ কখন এমন ব্যাটস্ম্যান পাবে যে ছয় মারতে পারে,, প্রতিপক্ষের বোলারদের ধসিয়ে দিবে মনোবল নষ্ট করে দিবে আর একই সাথে লম্বা ইনিংস খেলবে।। সময়টা ২০০৭ তখন একজন খানের নাম শুনলাম যে ডাউন দ্য উইকেটে উঠে ছয় মারতে পারে,, মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে ছয় মারতে পারে। তখন আবার পড়ালেখার এমন পর্যায়ে ছিলাম নিয়মিত স্কুলে যেতে হত আবার নিয়ম করে পড়তে বসতে হত। যার কারনে বিশেষ কিছু সময়ে কিছু ওভার ছাড়া খেলা দেখতে পারতাম না। ডিশ লাইনের সুবাদে শুধু হাইলাঈটস দেখতে পারতাম। এরপরে শুরু হইল ০৭ বিশ্বকাপ। আর অধীর আগ্রহে বাবা মায়ের নিষেধ উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ভারতের ম্যাচ দেখতে বসলাম। আর প্রথম কিছু ওভারে বাংলাদেশের এক তরুন ব্যাটস্ম্যান যা দেখালো তা শুধু মাথার উপর দিয়েই গেলো। তার আগ পর্যন্ত জানতাম স্পিন বলেই শুধু ডাউন দ্য উইকেটে উঠা যায়। এমন না য্ব তার আগে কেউ পেস বলে ডাউন দ্য উইকেটে নেমে ছয় মারে নি।।। কিন্তু নিজের চোখে প্রথম কাউকে দেখলাম। আর আরো অবাক হলাম এই শুনে এই বাহাতির বয়স ১৯ বছর ।  তিনি ২০০৭  সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ভারতের  বিপক্ষে প্রথম খেলায় ৫৩ বলে ৫১ রান  করেন, যা ভারতীয় দলকে পরাজিত করতে  অবদান রেখে  অন্যতম নায়ক বনে গেলো সেই তরুন বাহাতি এগ্রেসিভ ব্যাটসম্যান।

২০০৯ সালে   বাংলাদেশ টীম  ওয়েস্ট ইন্ডিজ   সফরে তামিম ইকবাল তার প্রথম টেস্ট  সেঞ্চুরি  করেন।  তামিমের ব্যাটিং বাংলাদেশকে  জয় এনে দেয়। এটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে  প্রথম টেস্ট জয় এবং দেশের বাইরে  প্রথম টেস্ট জয়।তামিম ১২৮ রানে তার ইনিংস শেষ করেন এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচ   নির্বাচিত হন । সেই ব্যাটস্ম্যান এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার সব ফরম্যাটেই।

 

জহির খাঁনের বল এগিয়ে এসে গ্যালারীতে বল পাঠানো দেখা থেকে থেকে ভালোবাসা শুরু,লর্ডসে সেঞ্চুরির পর লাফ দিয়ে সেই সেলিব্রেশন ।২০১২ সালের এশিয়া কাপে ফাইনালে ফিফটি করার পর ১..২..৩..৪ টি আঙুল দেখিয়ে সেই সেলিব্রেশন।পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর ২ হাত উপরে তুলে  সেলিব্রেশন । জাতীয় দলের হয়ে ২০০+  ,ওয়ানডেতে জাতীয় দলের হয়ে ১৫০,টি/২০ তে আছে ১০০+।  ক্যারিয়ারের ১০ বছরে নিজেকে প্রমানের কিছুই বাকী  রাখেননি তিনি ।

২০১১ সালে তামিম ইকবাল গ্রেম সোয়ান ও শেবাগকে  পেছনে  ফেলে  উইজডেনের বছরের সেরা পাঁচ ক্রিকেটের একজন  নির্বাচিত হন  ।

 

 

About The Author
Atikur Rahman Titas
Atikur Rahman Titas
I am Atikur Rahman Titas .I love to write