Now Reading
এপিজে আব্দুল কালাম আযাদ স্যারকে নিয়ে কিছু স্মৃতি



এপিজে আব্দুল কালাম আযাদ স্যারকে নিয়ে কিছু স্মৃতি

যখনই কোন সফল কাজ করতেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে দু রাকাত নফল নামায পড়ে নিতেন। ভারতের ১২০ কোটি মানুষের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে যেভাবে  আল্লার কাছে সোপে দিয়েছিলে তা এসব যুগে বিস্ময়কর ই মনে হয়।

আসলে এপিজে আব্দুল কালাম(আল্লাহ ওনাকে উত্তম যাজা দান করুক)  একজন বিস্ময়কর নেতাই ছিলেন পুরো বিশ্বে। যিনি জীবনে মানবতার উন্নয়নের জন্য অগণিত পদক্ষেপ নিয়েছেন কিন্তু ৮৩ টি বছরে এক বারের জন্যও বিতর্কিত হননি।

বিশ্বে এরকম প্রেসিডেন্ট পাওয়া আসলেই খুব বিরল।
বাছপাই প্রধানমন্ত্রী হবার পর রাষ্টপতি কে হবেন তা নিয়ে সবার মনেই নানা জল্পনা কল্পনা চলতে থাকে।  বাছপাই বলেন, আমি এমন একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবো যাকে নিয়ে কোন বিতর্ক নেই, কেউ প্রশ্ন তুলবেনা। সবাই চিন্তিত হলেন, আসলে লোকটা কে হতে পারে।

বাছপাইয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে জানানো হল, প্রেসিডেন্ট হবেন “আব্দুল কালাম”।  সোনিয়া গান্ধী সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্বাগত জানালেন।
শুধু তাই নয় প্রেসিডেন্ট হবার জন্য তিনি বাছপাইয়ের কাছে ধরণা দেননি। বরং তাকে বানানো হয়েছিল।

আর আমাদের দেশে সৈরশাসন করে দেশ লুট করে বুড়ো বয়সেও একবার রাষ্ট্রপতি হবার জন্য অনেক তাড়ছিড়া লাইনে দাঁড়ায়।জানিনা সারাদিন যাদের দাদা, বাবা বলে তাদের কাছ থেকে এরা কোন শিক্ষা নেয় কিনা।

প্রেসিডেন্ট আব্দুল কালামকে নিয়ে স্মৃতির শেষ নেই।  বর্ণণা করলে অনেক করা যাবে, তবে বিশেষ কিছু এখানে উপস্থাপন করতে চাইছি।যদি পড়তে পারেন পুরোটা হয়ত কিছু অনুপ্রেরণার ভাগিদার হতে পারবেন। আমার কিন্তু হাত ব্যাথা করে টাইপ করে তেমন লাভ নেই।
উপকার বেশি হবে আপনাদের।

১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর জন্ম নেন এই মহামুনি। মাত্র ৮ বছরের মাথায় যাকে দারিদ্রের তাড়নায় নামতে হয়েছিল পেপারের কাগজ বিক্রি করতে। শ্রেদ্ধেয় এপিজে সাহেব তার wing of fire বইয়ের প্রথমেই বলেন, আমি জন্ম গ্রহণ করেছিমাদ্রাজের(বর্তমান চেন্নাই) এক মিডেল ক্লাস ফ্যামিলতে। কত অকোপটে স্বীকার করেছেন নিজের পুর্বাবস্থা।  সত্যি বিস্ময়ের জন্ম দেয়।  যাই হোক ৮ বছরের ছোট্ট সময় অভুক্ত থাকার যাতনা পেটে নিয়ে ঘুরলেও তিনি স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেন নি। শুধু স্বপ্নই দেখেন নি তা বাস্তবে রূপান্তরের চেষ্টা করে গেছেন আজীবন।

ইচ্ছাছিল পাইলট হবেন। জঙ্গি বিমান চালাবেন। দারিদ্রের অভিশাপকে আশীর্বাদ বানিয়ে পড়ালেখা করেছেন “এরোন্যাটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ” এর মত এক্সপেন্সিভ সাবজেক্টে।

এবার তার লাইফের একটা টার্নিং পয়েন্ট তুলে ধরবো…..
ইন্ডিয়ান বিমান বাহিনীতে  উচ্চ পদস্থ জঙ্গি বিমানের পাইলট হিসাবে ৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।  উনি ইন্টারভিউ দিলেন  আর ৮ম স্থান অধিকার করলেন।
একটুর জন্য স্বপ্ন পুরণ আর হলনা।মাথায় যেন বাজ ফেটে পড়লো। চিরজীবন যেই স্বপ্ন লালন করেছেন তার এত কাছে গিয়ে ফিরে আসার যাতনাটা ভুক্তভোগীরাই ভাল বোঝে।
তো অবসন্ন মন নিয়ে হাটতে হাটতে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন, এক মন্দির সামনে পড়ল। সেখানে এক পুরোহিত তাকে দেখে বুঝে ফেললেন ছেলেটা অনেক বিষন্ন। সেই পুরোহিত শ্রদ্ধেও এপিজে সাহেবকে পিঠে হাত বুলিয়ে সান্তনা দিলেন আর বললেন তুমি এখানে চান্স পাও নি তার মানে এইনা তুমি জীবনে আর কিছুই করতে পারবেনা।ঈশ্বর হয়ত তোমাকে দিয়ে এর চেয়েও বড় কোন সেবা নিতে চাচ্ছেন, তাই ভেঙ্গে পড়ার কোন কারণ নেই”

আজ ডক্টর আব্দুল কালাম আমাদের মাঝে আর নেই।  কিন্তু তিনি যদি সত্যিকার অর্থে পাইলট হতেন তাহলে হয়ত তার আর ১২০ কোটি মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়া হতনা। তাই আমাদের বন্ধুদের বলবো কোন জায়গায় চান্স পাওয়া মানে এই নয় আপনি এর অযোগ্য। এর মানে হতে পারে সেই কাজ আপনার যোগ্য না।
আরো অনেক প্রেরণার আঁধার হয়ে রয়েছেন এপিজে আব্দুল কালাম।

রাজনৈতিকদের জন্যও তিনি এক আদর্শ, সুস্থ রাজনীতির একজন পদপ্রদর্শক।

তাকে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি হতে বলার পর তিনি বলেন আমি এই পদ আবার নিলে আমার মাঝে ক্ষমতার লোভ জন্মাতে পারে।যা ক্ষতিকর।  তাই তিনি দ্বিতীয়বার আর রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন নি।

শেষ জীবন পর্যন্ত মেধাবীদের অনুপ্রেরণা জাগিয়েছেন দেশ ও মানবতার জন্য কিছু করার।

আপনারা হয়ত জানেন,  বাংলাদেশ হোক বা ভারত এইসব দেশে যে দল থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সেই দলই রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা লিখে দেয়। আর সেই বক্তব্যই রাষ্ট্রপতি পাঠ করেন।

ড,আব্দুল কালামের ব্যাপারেও এমনটা হবার কথা ছিল।  কিন্তু তিনি তা করেন নি। রাইটারকে বলেছেন তুমি আমাকে বক্তৃতা লিখে দিবে কেন?  আমার চেয়ে বেশি জানো? তো রাষ্ট্রপতি হলেনা কেন?
আমি কিছু জানি, আমার বক্তৃতা আমিই লেখব আমিই দেব।  তাতে কোন দলের পক্ষে বা বিরুদ্ধে গেলেও কিছু করার নেই।

সেই উদ্বোধনি বক্তৃতায় তিনি বলেন,
“আমি নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তরূণদের তাদের জীবনের লক্ষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। কেউ বলেছে আমি ডাক্তার হবো, কেউ বলেছে আমি ইঞ্জিনিয়ার হব, কেউ বলেছে স্যার আমি আপনার মত বৈজ্ঞানিক হব। কিন্তু কেউ বলেনি আমি দেশের রাষ্টপতি বা প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের সেবা করবো।
তাহলে বুঝুন!  দেশে রাজনীতি বিদদের অবস্থান কোথায়??

এই কথাটা বলার পর বাছপাই, সোনিয়া গান্ধী সহ বড় বড় নেতারা সেদিন লোকসভায় মাথা নত করেছিলেন। আর দ্বিতীয়বারের জন্য ঠিকভাবে মাথা তোলেন নি।

এটার নাম হল রাজনীতি।সকল প্রকার ব্যাক্তি স্বার্থের উপরে উঠে যে জনগনের জন্য কথা বলতে পারবেন তার কাছে সরকারি দল, বিরোধীদল সকলেই শ্রদ্ধাবনত হতে বাধ্য, যদি তাদের মাঝে বোধটুকু থাকে।

আজ আমাদের রাজনৈতিকদের শিক্ষা নিতে হবে এপিজে আব্দুল কালামের কাছ থেকে।  ক্ষমতার মোহকে তুচ্ছ করে শিখতে হবে কিভাবে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সোপে দিতে হয়। কিভাবে মানবতার জন্য কাজ করতে হয়। তবেই হবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। চিরজীবন কষ্টে থেকেও পাব” স্প্রিচুয়াল পিস”।
যা গোটা পৃথিবীর বিনিময়েও পাওয়া সম্ভব নয়।

আসুন আমরা এপিযে আব্দুল কালামের এই জীবন থেকে ত্যাগের শিক্ষা লাভ করি, স্বপ্ন দেখার শিক্ষা লাভ করি। আর তাঁর রূহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করি।

About The Author
মুহাম্মাদ জুবায়ের আহসান
Zubair Ahsan