কারেন্ট ইস্যু

বাংলাদেশের নারীরা কতটা নিরাপদ?

অনেক মেয়ের মুখ থেকেই এমন শুনেছিঃ

  • মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই পাপ!
  • কেন যে মেয়ে হয়ে দুনিয়াতে এলাম!
  • কেন যে আল্লাহ আমাকে মেয়ে করে দুনিয়াতে পাঠালেন!
  • আমার যেন মেয়ে সন্তান না হয়!

এরকম কথা আপনিও কোন না কোন মেয়ের মুখ থেকে শুনে থাকতে পারেন। এগুলো বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টের কথা, আর্তনাদের মত ঠিক। যে কষ্টের ব্যাখ্যা একজন পুরুষের পক্ষে দেয়া কখনোই সম্ভব নয়।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে মেয়েরা সত্যিই কতটা নিরাপদ?

এমন প্রশ্নে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষ পরিচালিত নারীবাদী সংস্থাগুলো হয়তো ঠিকই বলে উঠবে, হ্যাঁ, আমাদের দেশের মেয়েরা সুরক্ষিত! অথচ, পত্রপত্রিকা কিংবা সংবাদ মাধ্যমে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখতে পাই। পত্রিকা বা টেলিভিশন খুললেই দেখিঃ বাল্যবিবাহ, যৌতুক, এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং, ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন সহ নানাবিধ খবর।

তবে এতকিছুর ভিড়ে, বর্তমান সময়ে যেটি সবচাইতে নিয়মিত খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো ধর্ষণ। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশেও যেন এটি একটি মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সরকার বা প্রশাসন কতটা কার্যকর এক্ষেত্রে?

যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় প্রধান নেতা নারী হওয়া স্বত্তেও প্রতিদিন আমাদেরকে এমন খবর দেখতে হয়, সে দেশের নারীরা কতটা অসহায়, তা একবার সুস্থ মাথায় চিন্তা করলেই বোঝা যায়। প্রশাসন পর্যায়ে আসার আগেই এ খবর ধামাচাপা পড়ে যায় কোন না কোন এক পর্যায়ে গিয়ে! কিংবা প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখায় না। ফলে ঠিক যেমন চলছে, তেমনটারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে আর ফাকঁতলে অপরাধীরা মনের আনন্দে আরো বেশি অপরাধ করার সাহস দেখায়।

আইনের লোকজনের কথা বলছেন? তারা কি করছে?

তারা থানায় আর অফিসে বসে আঙ্গুল চুষছেন। আইনের রক্ষকই যেখানে ভক্ষক, তখন তো আর এই প্রশ্নের জবাব থাকেনা তাইনা? এইতো সেদিনও- ২৫ এপ্রিল ২০১৭ তে বিবিসি বাংলায় নিউজ এসেছে, “ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক নারী কনস্টেবল ডায়েরিতে লিখে গেলেন আত্মহত্যার কারণ” ( লিংকঃ http://www.bbc.com/bengali/39702056 )

এছাড়াও ২০১৫ সালেও এমন একটা খবর এসেছিলঃ (আপনাদেরও মনে পড়তে পারে)  চার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে খিলগাঁও থানার প্রাক্তন এএসআই কলিমুর তার প্রাক্তন স্ত্রীকে (নারী কনষ্টেবল) একটি বাসায় নিয়ে গণধর্ষণ করেন। এটি নিয়ে তখন বেশ লেখালেখি হয়েছিল।

আর সময়ের সবচাইতে বড় খবর হলোঃ বনানীতে নিজের বন্ধুদের দ্বারা দুই শিক্ষার্থীর ধর্ষণ হবার ঘটনা। এটি নিয়ে নতুন কিছু বলতে চাইনা। এটি বর্তমানের চাঞ্চল্যকর খবর। তবে এটুকু বলতে চাই, দুই বছর ধরে যে মানুষের সাথে বন্ধুত্ব, সেও কিনা এমন করতে পারলো? বন্ধুত্বের স্থান তাহলে কোথায় নামিয়ে ফেলা হচ্ছে ভেবে দেখেছেন?

আমাদের বিবেকবোধের এতটাই অবনতি হয়েছে যে, আমরা যে কি, মানুষ নাকি অমানুষ বা জানোয়ার- আমাদের পরিচয়ই আমরা ভুলে গেছি!

ইভটিজিং, সেও তো দৈনন্দিন খবর। সত্যি কথা, আমার বোন ক্লাস নাইনে পড়ে। আমার বাবা মা কে সবসময় তার সাথে সাথে থাকতে হয়। কারণ? তার স্কুলের পাশে বখাটের উৎপাত! আমার বোনকে একা পেলে কেউ যে কোনদিন ওড়না ধরে টান দেবেনা কে এই গ্যারান্টি দিবে? আমার সমাজ? আমার সরকার? নাহ, কেউ না। আমি জানি, আমার দেশে নারীর নিরাপত্তা বলে এখন আর কিছুই নেই।

বাংলাদেশ আর বাল্যবিবাহ- যেন একই সুতোয় গাঁথা । মেয়ের বয়স ১১-১২ হতে না হতেই বিয়ে দেবার জন্য তোড়জোড় লেগে যায়। একটা অশিক্ষিত-কুশিক্ষিত সমাজে এখনো এটি খুব বেশি বিরাজমান। যখন ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটা মেয়েকে বিয়ের পিড়িঁতে বসতে হয়, তখন সে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কেন বলবেনা- মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই বুঝি পাপ ছিল?

আচ্ছা , একটা মেয়ের বিয়ে দেয়াটা কি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ? তাই যদি হয়েও থাকে, তবে তার তো একটা বয়স আছে। আর বিয়ে কিংবা যেকোন ক্ষেত্রে নারীর মতমতের কি কোন প্রয়োজন নেই? একটা কিশোরীর বিয়ে দেয়া হলে সে কতখানি শারীরিক-মানসিক ধকল সামলাতে পারে?

ওহ! আরেকটা ব্যপার বলতে তো ভুলেই যাচ্ছিলাম, যৌতুক । যা কিনা একটি সামাজিক ব্যাধি নামে পরিচিত। যেখানে অশিক্ষিত-মূর্খ কিংবা কুশিক্ষিতের দোষ দিলে তা হয়ে যাবে একতরফা বিচার। বরং সুশিক্ষিত নামের এক শ্রেনীর কুলাঙ্গার অমানুষেরা এটাকে ট্রাডিশান কিংবা কালচারে পরিণত করে ফেলেছে। মানুষ অনুকরণপ্রিয়। তাই এই শ্রেণীর মানুষের দেখাদেখি তাদের চারপাশের মানুষগুলোও পাল্লা দিয়ে যৌতুক প্রথার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে চলেছে।

আরো কত কিছু বলার আছে। লিখতে গেলে ঠিক শেষ করা যাবেনা হয়তো। বাসের ভেতর শরীরে হাত দেয়া, বাস থেকে নামা বা ওঠার সময় এমনকি পরিবারের ভেতরেই অসংখ্য নারী প্রতিদিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মোটামুটি সবাই মুখ বুজেঁ সহ্য করে যায়। কেউ আত্নহত্যার মত পথ বেছে নেয়। খুব কম নারীই আছে সাহস করে প্রতিবাদ করে। নারীর প্রতি এই অসম্মান, নির্যাতন কবে ,কিভাবে বন্ধ হবে? আমি মনে করি, নারীকে প্রতিবাদী হতে হবে। সময় এসেছে প্রতিবাদ করার, রাস্তায় ফেলে কোমরে শাড়ির আচঁল কিংবা ওড়না বেধেঁ নির্যাতনকারীকে আমজনতার সামনে ঝাটাপেটা করার। সময় এসেছে নারীর সুশিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর।

তবে এতকিছুর পরেও, আপনাদের কাছে সর্বশেষে একটি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি,

এ সমাজ কি কখনোই নারীর মূল্যায়ন করতে শিখবেনা? নারীকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে জানবেনা?

হায়রে অভাগা জাতি! মায়ের জাতটাকে সম্মান করতে শিখলিনা!

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

Shahidul Hasan

যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

Tondra Bilashi

কোটা বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে কি?

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy