Now Reading
তরমুজ সমাচার



তরমুজ সমাচার

গরমের তীব্রতা বাড়ছে দিনের পর দিন। রাস্তাঘাট, বাসা, অফিস, কর্মক্ষেত্র সবখানেই জীবন যায় যায় অবস্থা। গরম, তীব্র কাঠফাটা রোদে গলাটা শুকিয়ে তৃষ্ণার্ত। আর ঠিক এই সময়ে মিষ্টি, ঠান্ডা কিছু খেতে সবাই চায়। এক্ষেত্রে সবার পছন্দের তালিকার প্রথমেই থাকে ‘তরমুজ’।

চিকিৎসা বিজ্ঞান আমাদের বলে, তরমুজ এমন এক ফল যাতে খুবই কম ক্যালরি থাকে, বলা চলে ০.১%। আর তরমুজের ৯২ শতাংশের বেশীই থাকে পানি। খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকর এই ফল। ভিটামিন এ, সি এবং পটাশিয়ামের উচ্চমানের সমৃদ্ধি থাকায় এ ফল খুবই স্বাস্থ্যকর। মৌসুমি ফল হিসেবে এই ফল দেহের পানিশূন্যতা দূর করে দেহকে সতেজ এবং মাথার ব্রেইনকে থান্ডা মেজাজে রাখে।

কিন্তু, রাস্তা থেকে যে তরমুজ আপনি কিনে খাচ্ছেন তা কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত?

তরমুজের গুনাগুণ যেমন বলে শেষ করা ভার, ঠিক তেমনি ভেজাল তরমুজের অপকারিতাও বলে শেষ করা যাবেনা। সাধারণত, তরমুজ লাল এবং মিষ্টি করার জন্যে এতে মেশানো হয় সেকারিন। যা ইনজেকশন এবং ছোট সুঁই এর মাধ্যমে কৌশলে তরমুজের ভেতরে পুশ করা হয়। এতে তরমুজের মিষ্টতা বেড়ে যায়। পাশাপাশি তরমুজের রঙ টকটকে লালবর্ণ ধারণ করে। আর মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই টকটকে লাল তরমুজ কিনতে পছন্দ করে মিষ্টি ভেবে। কিন্তু, সেকারিন মেশানো এই লাল মিষ্টি তরমুজের কারণে একজন ব্যক্তির দেহে পাকস্থলীতে আলসার থেকে শুরু করে শরীরে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর্যন্ত সম্ভাবনা থাকে।

তাই, মৌসুমি ফল হিসেবে তরমুজ কিনে খেতে সাবধানতা বজায় রাখা খুবই জরুরী। অন্তত পক্ষে নিজ পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থের কথা বিবেচনা করে হলেও ভেজাল তরমুজ হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।

কিভাবে বুঝবেন তরমুজে ভেজাল?

সাধারণ মানুষের পক্ষে আসলে মোটেও সম্ভব নয় তরমুজের ভেজাল সনাক্ত করা। তবে, যদি টকটকে লাল তরমুজ কেনার পরিবর্তে কম লাল, সাদা ধরণের তরমুজ কেনা হয় তবে এই ভেজাল থেকে নিজেকে সহজে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে। তরমুজ বিক্রেতাকে বললেই কিন্তু সে কম লল তরমুজ আপনাকে দিবে। কারণ, মানুষ এধনের তরমুজ খুব কমই কিনে।

যা করবেন।

বাসায় এধরণের কম লালচে তরমুজ নিয়ে এসে দুফালি করে ফ্রিজ করে রাখুন। এরপর ১ ঘণ্টা বাদে ফ্রিজ থেকে বের করে স্লাইজ করে কেটে টুকরোগুলো একটি পাত্রে রাখুন। দু’চামচ বা আপনার নিজের পরিমাণ মতো চিনি দিন। হালকা বিট লবণ ছিটিয়ে দিন। এরপর একটু ম্যায়োনেট করে নেড়ে ৫ মিনিট ডীপ ফ্রিজে রাখুন। এবার বের করে পরিবারের সকলের সাথেই খেতে পারেন সুস্বাদু তরমুজ, ঠান্ডা ঠান্ডা।

মনে রাখুন, রাস্তার সেকারিন মেশানো টকটকে লাল তরমুজের চাইতে বাসায় হালকা সাদাচে ধরণের এই তরমুজ চিনি মিশিয়ে খাওয়া অনেক স্বাস্থ্যকর। এতে করে ভেজালের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি তরমুজের সকল খাদ্যগুণ অটুট থাকে। যা আপনার দেহে খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে আপনাকে সজীব ও প্রাণবন্ত রাখবে দীর্ঘক্ষণ।

আসুন জেনে নিই এক নজরে তরমুজের দারুণ সব উপকারিতা-

১) রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে ক্যারোটিনয়েড উপাদানের মাধ্যমে।

২) দেহে প্রাকৃতিক আঁশের অভাব দূর করে কোষ্টকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে।

৩) তরমুজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি খেলে দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে যায় সম্পূর্ণরূপে।

৪) ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।

৫) প্রোস্টেট ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।

৬) কোলন ক্যান্সার থেকে ৯০% নিরাময় দান করে তরমুজ।

৭) ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতো ক্ষতিকারক বিষয়ের নিরাময় হিসেবে বিরাট ভুমিকা রাখে তরমুজ।

৮) দেহে খনিজ লবণের অভাব পূরণ করে।

৯) অপ্রয়োজনীয় চর্বি ও মেদ সারাতে সাহায্য করে এর ক্যারোটিন।

১০) মস্তিষ্ক সচল রাখতে তরমুজের ভিটামিন বি৬ চমৎকার ভুমিকা পালন করে।

১১) দেহের রক্তশূন্যতা দূর করে।

১২) উচ্চরক্তচাপ কমিয়ে দেহকে স্বাভাবিক ভারসাম্যপূর্ণ রাখতেও সাহায্য করে।

 

 

 

 

About The Author
Tahmid Ibrahim
Tahmid Ibrahim
একজন লেখক। লিখতে ভালোবাসি। পছন্দের সবকিছু নিয়েই কমবেশি লিখি। মানুষ উপকৃত হয় এমন লেখালেখিতেই আমার আনন্দ।