চট্টগ্রামের কিছু মজার ব্যাপার

Please log in or register to like posts.
News

চট্টগ্রাম বা চিটাগাং – শব্দটার মধ্যে কেমন জানি একটু ভাব আছে তাই না? এই শহরের সবকিছুই যেন অন্যরকম, একেবারে বাংলাদেশের অন্য সব শহর থেকে আলাদা। আমাদের এই প্রিয় শহরের কিছু ব্যাপার আছে যা শুধু আমাদের পরিচয় বহন করে না বরং আমি মনে করি এই ব্যাপারগূলো অনেক গবের্র। সেই সাথে এই জিনিষগুলো অনেক মজার।

প্রথমেই বলা যেতে পারে, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা। একেবারেই আলাদা। কেউ চট্টগ্রামে অনেক বছর না থাকলে বোঝার কারো সাধ্য নেই। বাংলাদেশের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাগুলো তাও বোঝা যায় কিন্তু চট্টগ্রামের ভাষা বোঝার সাধ্য চট্টগ্রামের মানুষেরই আছে। এটাকে আঞ্চলিক ভাষা বলার চাইতে একটা নিতুন ভাষা বলা যায়। আমি চট্টগ্রামের ভাষার পুরো ইতিহাস হয়তো জানিনা কিন্তু যতটুকি শুনেছি আমাদের ভাষায় পারস্য ভাষার অনেক সংমিশ্রন আছে। ক্ষমা করবেন যদি আমি ভুল বলে থাকি এবং কমেন্ট সেকশনে ভুলটা ধরিয়ে দিবেন প্লিজ। এরপর, আরেকটা মজার ব্যাপার হলো, চট্টগ্রামের মানুষরা যখন শুদ্ধ বাংলা বলে, তখন তাদের মধ্যে অন্যরকমের একটা ভাষার টান থাকে যেটাকে আমরা বলি চাট্গায়া টান। বড় অদ্ভুত ব্যাপার হলো, চট্টগ্রামে কয়েকবছর থাকলে এই টান চলে আসে যে কারো। অনেকে এই ব্যাপারটা নিয়ে বিব্রত বোধ করে কিন্তু আমি বলি এটা একটা Awesome ব্যাপার! আমার আগে চট্টগ্রামের কোন টান ছিলনা। জীবনের বেশীরভাগ সময় কাটিয়েছি পশ্চিমা দেশ্গুলোতে এবং এখনো কিন্তু কিছুদিন আগে দেশে ব্য্বসা সম্প্রসারন করার পর থেকে, চট্টগ্রামে থাকা হয় এবং মেশা হয় সবার সাথে। যদিও আমি চট্টগ্রামের ভাষা বলতে পারিনা কিন্তু বুঝতে পারি। আর বলতে না পারলে কি হবে, আমার বাংলায় এখন চট্টগ্রামের টান স্পস্ট এবং আমি অনেক জায়গায় ইচ্ছা করে সেই টান ব্য্বহার করি একটু একটু। আর কেউ কটুক্তি করলে আলতো হেসে একেবারে ব্রিটিশ ইংলিশে জবাব দেই কড়া ভাবে। কিন্ত হেসে হেসে।

এই তো গেল ভাষার কথা, এবার অন্য আরেকটা ব্যাপার। যেমন ধরেন, বাংলাদেশে বা অন্য কোন দেশে আরেকজন বাঙ্গালীর সাথে কথা বলছি এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন “আপনার হোম ডিস্ট্রিক্ট কি?” যদু বলি, চট্টগ্রাম তখন বেশীরভাগ সময় কি রিপ্লাই পাই জানেন? “ওরে বাবা, চট্টগ্রাম, ওখানে তো সব জমিদার মানুষ”। ব্যাপারটা আমি বড়াই করে বলছিনা বা এমনও না যে আমি বড়লোক, কিন্তু ব্যাপারটার মধ্যে একটা ভাব আছে। নিজস্ব ভাব না, পুরো চট্টগ্রামের ভাব আমার মনে হয়। আসলে তখন চট্টগ্রামের জন্য একটু গবর্ বোধ করি আর কি!

এবার আসেন, আরেকটা অন্যরকম ব্যাপার যেটা আমার সাথে খালি চট্টগ্রামবাসীরা না, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একমত হবে, আর সেটা হলো চট্টগ্রামের অথিতি পরায়নতা। আমার মনে হয়, আমাদের অথিতি আদর আপ্যায়ন সবজায়গায় সমাদৃত। ভাই, পকেটে টাকা থাকুক না থাকুক, গরীর হই আর বড়লোক, কোন মেহমান আসলে সেইরকম খাতির করতে আমাদের হবেই। নিজের ওজনের চাইতে কয়েকশোগুন বেশী আদর-আপ্যায়ন এটা একেবারে সাধারন ব্যাপার। কোন অথিতি, চিনি না চিনি, শত্রু বা মিত্র যাই হোক না কেন, আপ্যায়নে কোন কমতি থাকেনা। খাবারের আইটেম হোয়া চাই দশ্টা বা তারো বেশী তা না হলে লজ্জায় আমাদের মাথা কাটা যাবে! এই জিনিষটা আমার এত ভালো লাগে তা বলে বোঝাতে পারবনা। এই ধরনের আন্তরিকতা গুলো আমি বাংলাদেশের আর কোথাও খুজে পাই না। সিলেটে দেখা যায় ব্যাপারটা কিন্তু চট্টগ্রামের মত না আমার মনে হয়। এটা অনেক বড় একটা গুন আমার মতে।

এরপর আসা যাক, চট্টগ্রামের বিয়ের অনুষ্ঠান। আরে ভাই, এক হাজার মানুষ যদি মিনিমাম না আসে তাহলে সেটা কোন বিয়েই না! আর বিয়ে অনুষ্ঠান যদি ১ সপ্তাহ ধরে না চলে তাহলেই বা কেমনে হবে। আর খাবারের আইটেম, দশটার কম আসম্ভব ব্যাপার। ছেলে পক্ষ আর মেয়ে পক্ষ যাই হোক না কেন, দরকার হলে বাড়ী বিক্রি করে দিব তাও বিয়ে হতে হবে বিয়ের মত। এটা হলো চট্টগ্রামের মানুষের Normal Attitude এবং এসব আসলে এক ধরনের আন্তরিকতার সংস্কৃতি। এবং এটা আর কোথাও দেখা যায় না। অন্যান্য শহরে হয়তো বড়লোকদের বিয়ে হয় ধুমধামে কিন্তু চট্টগ্রামে, ধনী বলেন আর গরীব বলেন, মিনিমাম স্টাইল হলো মেজবান আর ম্যাক্সিমাম, কোন একটা স্টেডিয়ামে হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। আমি তো এমনও দেখেছি, মাইকিং করে পুরো চট্টগ্রামে বিয়ের দাওয়াত দিতে। খালি যে অনেক অথিতি ব্যাপারটা তা না, একেবারে বাস ভাড়া করে অথিতিদের নিয়ে আনার দায়িত্বও নেয়া

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?