Now Reading
কিস করতে বলছি, হাত দিয়েছ কেন..? অপসংস্কৃতির কু-প্রভাব তরুণ প্রজন্মের ধংস করছে



কিস করতে বলছি, হাত দিয়েছ কেন..? অপসংস্কৃতির কু-প্রভাব তরুণ প্রজন্মের ধংস করছে

একটা দেশের মিডিয়া একটা দেশে পরিবর্তন করে দিতে পারে । যে দেশের মিডিয়া যত সচেতন হয়ে জনগনও সচেতন হয় । কিন্তু আমাদের দেশের মিডিয়া অন্য দিকে হাটছে ।

আমাদের দেশের ছোট ছোট ছেলে মেয়ে এখন এটা ভাবে একটা প্রেম না হলে চলে না । প্রেম করতেই হবে না করলে লোক কি বলবে । সবাই বলে পরিবার সচেতন না ,মা বাবা সচেতন না ।শুুধু মা বাবা সচেতন হলেই হবে না । আমাদের চার পাশে যেটা চলবে তারাও তা শিখবে । এখন দেখি প্রেম ছাড়া নাটক হয় না । ছোট থাকতে আমরা কত সুন্দর সুন্দর নাটক দেখতাম । ঔ নাটকেও প্রেম ভালোবাসা থাকতো কিন্তু এতোটা প্রকাশ পেতো না । নাটক দেখানো হত কোন কিছু উদ্দেশ্য  করে ।উদ্দেশ্য  হতো শিখার কিছু । কিন্তু এখন সব নাটকের শিখা একটাই প্রেম করা । কিভাবে প্রেম করতে হবে কিভাবে মন জয় করেতে হবে । যে প্রেম ভালবাসা নিয়ে ভাবতে একসময় ভার্সিটি যাওয়ার পর ,এখন  সেই প্রেম ভালবাসার কথা ভাবে স্কুল জীবনে। যে সময় খেলা করার কথা মাঠে তখন তারা ফেসবুকে মেয়েদের সাথে চ্যাটিং করে । যে সময় পড়ালেখা করার কথা ্ সেই সময় তারা রাত জেগে কথা বলে ।

ভালবাসা দিবসের কথা না বলে নাই হয় , ভালবাসা কি শুধু একটা ছেলে একটা মেয়ের হয় …….? ভালবাসা হতে পারে একটা সন্তান হারা মায়ের এতিমের প্রতি ভালবাসা ,ভালবাসা হতে পারে বাবা প্রতি ছেলের , মায়ের প্রতি সন্তানের । কিন্তু আমাদের দেশের মিডিয়া এটা অন্য দিকে নিয়ে গেছে । এখন ভালবাসা শুধু ছেলে মেয়ের মধ্যে হয় আর অন্য কোথায় পাওয়া যাবে না ।

আর এই সুন্দর কাজটা করে আসছে আমাদের নাটক নির্মাতারা ।সেই খানে আবার বড় বড় প্রেমের শিক্ষক আছে । তাহসান,মিথিলা,মেহজাবিন,অপূর্ব,সাবিলা নূর, জোভান তারা প্রেমটাকে সবার সামনে এমন ভাবে তোলে ধরেছে যে বাংলদেশে প্রেম করতেই হবে । না করলে তুমি মর্ডান না এই নাটকের প্রভাব পড়েছে আমাদের সমাজের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের উপর তারা এখন খেলা ছেড়ে দিয়ে মেয়েদের পিছনে ঘুরে । তারুণ্য মানেই অযথা দুষ্টুমি নয়, তারুণ্য মানেই কেবলই প্রেম ভালোবাস নিয়ে মেতে থাকা- মোটেও এমনটি নয়সমাজে তরুণরা একটি গুরুত্বর্পূণ অবস্থানে রয়েছে। সেই জায়গা থেকে তরুণদের নিয়েই নাটকটি নির্মাণ করা দরকার ।

একটি দেশের ভাবিষ্যত হলো সে দেশের তরুন সমাজ। এ ভবিষ্যৎকে নষ্ট করার অপকৌশল হচ্ছে অপসংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে বাস্তবে তা প্রোয়োগ করা।আমাদের সমাজের তরুন-তরুনীদের উপর অপসংস্কৃতির কু-প্রভাব অতি গভীর ও ব্যাপক। তারা আজ সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি অনুশীলনে মেতে উঠেছে। সিনমার কাহিনী, নাচ, গান, পোষাক-আশাক ইত্যাদি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন উদ্ভটভাবে সন্নিবেশিত হয়ে থাকে। জনসাধারণ অতি সহজেই আমোদ-আহলাদের উপকরণ খুজে পায়। তরুণ-তরুণীরা সিনেমার উদ্ভট অবাস্তব জীবনকেই অনেক সময় বাস্তব জীবন বলে ভুল করে এবং সিনেমা জগতের কায়দা-কানুন, রীতি-নীতি অন্ধভাবে অনুকরণ করতে গিয়ে কৃতিমতা ও অপসংস্কৃতির স্বীকার হয়। আজ তরুণ সমাজ নিজস্ব জীবন দশর্নকে বাদ দিয়ে পাশ্চত্যের জীবন আচরণের যা বাহ্যিক কালিক-স্থানিক তাকেই অবলম্বন করছে। ্এর দায় এড়াতে পারবে না আমাদের দেশের মিডিয়া ।  সংস্কৃতি আসলে একটা দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপার, একটি জীবনবোধ বিনির্মাণের কলাকৌশল। এটি মানুষের জীবনের একটি শৈল্পিক প্রকাশ, সমাজ জীবনের স্বচ্ছ দর্পণ। এ সংস্কৃতির দর্পণে তাকালে কোন সমাজের মানুষের জীবনাচার, জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অন্য কথায়, সমাজ মানুষের জীবনাচার, দৃষ্টিভঙ্গী আর বোধ-বিবেচনা থেকেই সে সমাজের সংস্কৃতি জন্মলাভ করে। আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট করে দেওয়ার পিছনে মিডিয়া দালালদের বড় হাত আছে ।

সমাজের ধংসের অন্যতম এক কারণ হল পর্ণ সাইট , আজকাল খুব সহজেই পর্ণ মুভি দেখা যায়, ইন্টারনেট ঘাঁটলেই বিভিন্ন স্প্যামিং লিংকের মাধ্যমে পর্ণ সাইটে চলে যাওয়া যায় । ৫/৬ এমবির পর্ণ ভিডিও ডাউনলোডও করা যায় খুব সহজেই । বিভিন্ন পর্ণ সাইটের বিজ্ঞাপন ও দেওয়া হয় । ছোট ছোট বালক বালিকারা এসব সাইটে আগ্রহ নিয়ে প্রবেশ করে দৈহিক মিলনের সম্পর্কে জ্ঞান নিয়ে ফেরে একসময় নিজেরাও এসব বাজে কাজে লিপ্ত হয়ে যায় । আবার আমাদের দেশের তরুন সমাজ নষ্ট করার পিছনের ভারতের নাটকের একটা বিশাল অবদান আছে।

আজ প্রেম কোনো নোংরামী নয় বরং আধুনিকতা। আমাদর একজন স্যার বলেছিলেন ছেলে মেয়েরা এখন একজন আরেক জনের প্রেম করিয়ে দিতে খুবই আগ্রহী। এমনকি তারা মনে করে যে প্রেম করে না তারা কোনো সামাজিক জীবই না। তাহলে বুঝাই যায় বাংলাদেশ কেন দিকে যাইতেছে । আমাদের ছোট ভাই বোন কোন পথে হাটতেছে ।

সেই দিন দেখলাম একটা নাটকে বলতেছে কিস করতে বলছি হাত দিতেছো কেন …..?  এমন যদি হয় আমাদের দেশের নাটক তাহলে দেশ কোথায় যাবে আমাদের সংস্কৃতি । এই নাটকে হাত দেওয়া অপরাধ কিন্তু কিস করা অপরাধ না । এখন দেশে যে নাটক নির্মাতেরা আছে তারা শুধু টাকা চিনে।

About The Author
Syed Asraful
Syed Asraful
নিজে সম্পর্কে কি বলবো , আমি ছোট একটা মানুষ এতো বড় কিছু করতে পারি নাই যে আমার আলাদা পরিচয় হবে । তবে ইনশাআল্লাহ একদিন কিছু একটা হব।
3 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment