Now Reading
ভার্সিটিতে ভর্তির পর



ভার্সিটিতে ভর্তির পর

  • এই আর্টিকেল টি শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা সদ্য ভার্সিটি তে ভর্তি হওয়া।

প্রথমেই শুরু করবো ভার্সিটি শব্দটি দিয়ে কি বুঝায় তা দিয়ে। ভার্সিটি মানে হচ্ছে ইউনিভার্সাল। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পদচিন্হ রাখার একমাত্র জায়গা হচ্ছে ভার্সিটি।

ভার্সিটিতে আসার পর যে ভুলটি সকলে করে সেটি হচ্ছে নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবা এবং সবার মধ্যথেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা।  কিন্তু ধারণাটি ভুল। ভার্সিটিতে সবাই ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে। আর এই একই কাজটা ভার্সিটিতে পড়ুয়া প্রত্যেক জনকেই করতে হয়। তাই নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবা বা নিজেকে গুটিয়ে রাখার কিছু নেই। মূলত ভার্সিটি হচ্ছে নিজেকে মেলে ধরার স্থান।

এরপর যে বিষয়টি আসে সেটা হচ্ছে নিজের ডিপার্টমেন্ট নিয়ে সমালোচনা। আমার মতে এই ধরনের সমালোচনায় কান না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একজন শিক্ষার্থী যে ডিপার্টমেন্টেই পড়ুক না কেন নিজেকে সঠিক ভাবে মেলে ধরার এবং ক্যারিয়ারের যোগ্য আসনে নিয়ে যাওয়ার জন্য মনের চাওয়াটাই সবচেয়ে বড়। আবার অনেকে চিন্তা করে এমন ডিপার্টমেন্ট এ পড়াশুনা করে ভবিষ্যতে কি করবো ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের জন্য বলছি, এভাবে না গাবরিয়ে নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য আগে স্থির করা উচিত। (বিঃ দ্রঃ কিছু সময় বলতে কয়েক দিনের কথা বলা হচ্ছে) তারপর চিন্তা করতে হবে নিজের ভবিষ্যৎ অ্যামবিশন কি। এটা যথোপযুক্ত ভাবে ঠিক করতে পারলেই একজন ভার্সিটি স্টুডেন্ট পরবর্তী সব ছোট খাটো কাজ বা সিদ্ধান্ত খুব সহজেই সমাধান করতে পারবে।

এক টাইপের শিক্ষার্থী আছে যাদের অনেকেই চিন্তা করে,’ দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া’।  আমার মতে এ ধরনের চিন্তা করাটাই ভুল। আল্লাহ প্রথমেই আপনার জন্য যেটা ঠিক করেছেন আপনি সেটাই পেয়েছেন। যতটুক পরিশ্রমী ছিলেন ঠিক ততটুকই ফলাফল হিসেবে দেয়া হয়েছে আপনাকে। এটা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে। দ্বিতীয় বার আবার এতো বড় যুদ্ধক্ষেত্রে না নেমে সামনের দিকে কি করলে,  কিভাবে করলে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব সেটার দিকে লক্ষ্য করাই উত্তম বলে আমি মনে করি।

আর একটা বিষয় যেটা অনেক উপকার করে থাকে সেটা হল ভার্সিটির সিনিয়রদের সাথে যত স্বল্প সময়ে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায় ততই নিজেকে ভার্সিটি অঙ্গনে মেলে ধরতে সহজ হয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে এই সুসম্পর্ক অনেক অনেক বেশি কাজে দেয়। এছাড়াও নিজেকে মেলে ধরার অন্যতম আরেকটি পথ হচ্ছে ভার্সিটির সব ধরনের সচল ক্লাবে যোগদান করা।  শুধু যোগদান ই না সময়ের সাথে সাথে নিজের পছন্দের ক্লাবটির সাথে সময় দেয়া। যা ভবিষ্যতের অনেক বড় একটি হাতিয়ার হয়ে গড়ে ওঠে নিজের ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে।

আরেকটি কথা না বললেই নয় – ” সবসময় তাদের সঙ্গ নেয়া উচিত যারা বলবে তাদের নিজেদের ক্যাম্পাসে, ডিপার্টমেন্ট এ ভালো কিছু আছে।  আর তাদের সঙ্গ অবশ্যই ত্যাগ করা উচিত যারা বলবে তাদের নিজেদের ডিপার্টমেন্ট এ কিছুই নেই, এটা কোন ডিপার্টমেন্ট হইলো ইত্যাদি রকমের কথা।”

আসল কথা সবসময় খোঁজতে হবে তাদের যারা বলবে ‘গ্লাসে অর্ধেক পানি আছে’ আর তাদেরকে ছেড়ে চলাই উচিত যারা বলে ‘ গ্লাস অর্ধেক খালি’।

ডিপার্টমেন্টকে নিজের ফ্যামিলি মনে করে যারা তাদের সেরাটা দিয়ে এই ভার্সিটি জীবনের ইতি টানতে পারবে তারাই ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ারের চাবি হাতে পাওয়ার যোগ্য।

 

About The Author
Ashraful Kabir
Ashraful Kabir
Want to be learn how to write..... also trying.....