অন্যান্য (U P) খেলাধূলা

ভারতীয় ক্রিকেটের দুই নায়ক

ভারত ক্রিকেট বোর্ডের দুইজন নায়ক এবং দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।তারা হলেন শচীন টেন্ডুলকার এবং মাহেন্দ্র সিং ধনী।এই দুজন ভারতীয় খেলোয়াড় তাদের অবদানের জন্য ক্রিকেট দুনিয়া চির কাল অমর হয়ে থাকবেন।প্রথমে শচীনের পরিচয় দিয়ে শুরু করি।শচীন টেন্ডুলকার ১৯৭৩ সালে ভারতের বিখ্যাত শহর মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করেন।
শচীনের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৮৯ সালে।শচীন সবমিলিয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ২০০। যার মধ্যে তার রান রয়েছে প্রায় পনেরো হাজারের মতো।শচীন তার ক্যারিয়ারে শতক পূর্ণ করেছেন ৫১ টির মতো আর অর্ধ শতক করেছেন ৭০ টির মতো।শচীনকে মাঝেমাঝে বল হাতেও দেখা যেত,তিনি টেস্টে চল্লিশটিরো বেশি উইকেট লাভ করেছেন।  ২০১৩ সালে এই খেলোয়াড় তার টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেন।

এই লিটল মাস্টার তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করেন১৯৮৯ সালে।শচীন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার সাজিয়েছিলেন ১৮৪২৬ রান করে,যার জন্য শচীন কে ম্যাচ খেলতে হয়েছিলো ৪৬৩ টি।শচীন টেন্ডুলকার তার ওয়ানডে তে অর্ধ শতক পান  ৯৬ টি আর পূর্ণ শতক লাভ করেন ৪৯ টি ম্যাচে।শচীন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ করেন ২০১২ সালে।

 

শচীন টেন্ডুলকারের বয়স যখন মাত্র ১৬ বছর ছিল তখন সে ভারতের জাতীয় টেস্ট ক্রিকেট দলে নাম লেখান।সে তার ক্যারিয়ার সাজিয়েছিলেন ২৪ বছর ধরে।এই ২৪ বছরে সে ক্রিকেটের কিছু অক্ষত রেকর্ড ভেঙে ফেলেন।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রেকর্ডের বর্ণনা দেয়া হলো। শচীন টেন্ডুলকারই একমাত্র ব্যাটসম্যান, যে কিনা ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ শতক করা ব্যাটসম্যান হিসেবে আইসিসি কতৃক পরিগণিত হয়েছিলেন সর্বাধিক শতকের মালিক হিসেবে।

শচীন টেন্ডুলকারের অসংখ্য পাগলা সমর্থক রয়েছে।তার মধ্যে একজনের বিবরণ দেয়া যায়,শচীনের যে দেশে যে স্থানে মোটকথা যখনই তার খেলা হত ঠিক তখনই সেই মাঠে শচীনের অই সমর্থক কে দেখা যেত।শচীন টেন্ডুলকার ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন।

২০১১ সালের ওয়ার্ল্ড কাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো।শচীন সেই ওয়ার্ল্ড কাপে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।শচীন টেন্ডুলকার শুধুমাত্র ভারতের জাতীয় দলে খেলেই থেমে যাননি।তিনি প্রচুর ঘরোয়া লীগেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।বিশেষ করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ  মানে আইপিএল,আইপিএলে শচীন টেন্ডুলকারের প্রচুর অবদান রয়েছে।আইপিএলে শচীন খেলেছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে হয়ে,আইপিএলেও শচীনের অনেক কৃতিত্ব রয়েছে।তিনি তার দল মুম্বাইকে শিরোপা জিতার জন্য এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

শচীন টেন্ডুলকারের জন্য ভারত সহ বিদেশী অনেক লেখক তাকে নিয়ে বই লিখেছিলেন।

মাহেন্দ্র সিং ধনী তার বিখ্যাত ক্যাপ্টেন্সির জন্য শুধুমাত্র ভারতেই নয় বরং পুরো ক্রিকেট জগতেই অমর হয়ে থাকবেন।

মাহেন্দ্র সিং ধনী জন্মেছিলেন ১৯৮১ সালে।ধনী ভারত জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেছিলেন ২০০৪ সালে ওয়ান ডে ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে। ধনী তার টেস্ট ক্রিকেটে মোট ম্যাচ খেলেছিলেন নব্বইটি মতো তার মধ্য তিনি সেঞ্চুরি করেছেন ৬ টি আর অর্ধ শতক পেয়েছিলেন ত্রিশটির ও বেশি।মাহেন্দ্র সিং ধনী তার ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মোট খেলেছেন ২৮০ টিরও বেশি।তার মধ্যে তিনি সেঞ্চুরি পেয়েছেন দশটি এবং হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৫০ টির মতো।মাহেন্দ্র সিং ধনী টি টুয়েন্টিতে দুর্দান্ত এবং খুবই ভয়ানক একজন ব্যাটসম্যান ছিলেন।ধনী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি খুবই ভালো একজন উইকেটরক্ষক ছিলেন।

মাহেন্দ্র সিং ধনী তার অধিনায়কত্ব শুরু করেন ২০০৭ সালের দিকে।ধনী তার ক্যাপ্টেনসির জন্য ভারতের শ্রেষ্ঠ অধিনায়কের খ্যাতি লাভ করেন।মাহেন্দ্র সিং ধনী তার অধিনায়কত্ব লাভ করার পর ভারতের হয়ে যেসব কৃতিত্ব গড়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১১ সালে ভারতকে ওয়ার্ল্ড কাপ জিতিয়েছেন।২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন। এছাড়াও মাহেন্দ সিং ধনী অধিনায়কত্ব লাভ করার পর থেকে তিনি যে কত দলকে হোয়াইট ওয়াস করিয়েছেন এবং সিরিজ জিতিয়েছেন তা বহু বছর ধরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে অক্ষত হয়ে থাকবে। মাহেন্দ্র সিং ধনী তার ক্যাপ্টেন্সির কারণে চিরকাল ভারতীয় ক্রিকেটে অমর হয়ে থাকবেন।

মাহেন্দ্র সিং ধনী তার ক্যাপ্টেন্সির কারণে তিনি ক্যাপ্টেন কুল নামে খ্যাতি লাভ করেন।মাহেন্দ্র সিং ধনীর জন্য অনেক বই লিখেছিলেন ভারতের বিখ্যাত লেখকেরা।এছাড়াও ২০১৬ সালে তার নামে বিখ্যাত একটি মুভি তৈরী করা হয়েছে।

মাহেন্দ্র সিং ধনী ঘরোয়া লীগেও ক্যাপ্টেন হিসেবে বিশেষ অবদান রেখেছেন।আইপিএলে চেন্নাই সুপারকিংসের হয়ে চার আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে আজও শচীন টেন্ডুলকার এবং মাহেন্দ্র সিং ধনীকে খুবই মর্যাদায় রাখা হয়েছে।শচীন এবং টেন্ডুলকার তাদের ভক্তদের মাঝে তারা চিরদিন অক্ষত হয়ে র‍য়ে যাবেন।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

জিমে ব্যায়াম করা জরুরী কিন্তু কিভাবে শুরু করা উচিৎ?

Muhammad Uddin

আজব একটি আ্যডভেন্চার

Abdul Mueez

আইটি ফেয়ার নাকি প্রহসন?

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy