উন্নয়নের মহা সোপনে বাংলাদেশ

Please log in or register to like posts.
News

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি অন্যতম দারিদ্র দেশ ।  তবে আশার কথা হলো বাংলাদেশ ধীরে ধীরে দারিদ্রতা দূর করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হচ্ছে । ইতোমধ্যে বাংলাদেশ তার নামের পাশ থেকে দারিদ্র শব্দটি মুছে দিয়েছে । এবং নিম্ন  মধ্যআয়ের দেশ হিসেবে বর্হিবিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে ।  এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ  মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা । একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বাগে যা প্রয়োজন তা হলো দেশটির মুল অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা । বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প প্রনয়ন এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই  দেশের সার্বিক উন্নয়ন সকলের নিকট পরিলক্ষিত হয় । ইতোতমধ্যে বড় ধরনের কয়েকটি প্রকল্প বান্তবায়নের ফলে দেশের সার্বিক চিত্র বদলাতে শুরু করেছে এবং বাংলাদেশ বর্হিবিশ্বে আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে নিয়েছে । বাংলাদেশকে বদলে দেওয়া তেমন কিছু প্রকল্প, যেমন: হাতিরঝিল, ঢাকা ও চট্টোগ্রামে নির্মিত একাধিক ফ্লাইওভার, ঢাকা এরিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে (নির্মানাধীন), কর্ণফূলী টানেল (নির্মানাধীন)। সবথেকে গুরুত্বপূর্ন এবং আলোচিত প্রকল্প যেটি তা হলো পদ্মা সেতু (নির্মানাধীন)। স্বপ্নের পদ্মা সেতু ।কোটি মানুষের স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু নির্মান বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না ।খরস্রোতা এই পদ্মার দুই কূল জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে আপ্রানভাবে ।আমাজনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বচ্চো গতি সম্পন্ন নদী হলো পদ্মা । পদ্মা সেতু নিয়ে কিছু কথা বলা খুবই প্রসঙ্গিক । পদ্মা সেতু নির্মানের খবরে নতুন দিনের আশায় বুক বাধে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষ। পদ্মা সেতু নির্মানের প্রধান দাতা সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক ও জাইকা । দুর্নীতির অভিযোগ এনে সেতু নির্মান প্রকল্পের এই বড় দুই দাতা সংস্থা তাদের ঋণ চুক্তি সহায়তা বাতিল করে । দুর্নীতির যে অভিযোগ এনে  তারা (বিশ্ব ব্যাংক ও জাইকা ) এই প্রকল্প থেকে তারা সরে যায় তা পরে একটি আন্তর্জাতিক ( কানাডীয় ) আদালতে মিথ্যা অভিযোগ বলে প্রমানিত হয় । নির্মানের শুরুতেই যখন প্রকল্পটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তখন পুরো প্রকল্পটি মুশরে পড়ে । বাংলাদেশের মানুষের মনে তখন একটি আশঙ্কা দেখা দেয় নির্মিত হবেতো স্বপ্নের পদ্মা সেতু ? সবার মনেই একটা অজনা আশঙ্কা দেখা দেয হয়তো আর কখনোই নির্মিত হবে না স্বপ্নের পদ্মা সেতু ।সেতু নির্মান তখন একটি বড় চ্যালেন্জের সম্মুখীন হয়ে পড়ে ।অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনাকে পিছনে ফেলে নিজস্ব অর্থায়নেই শুরু হয় সেতু নির্মান কাজ । স্বপ্নের পদ্মা সেতু সির্মানের কাজ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের চাপ ও দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়েই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ খিষ্টাব্দে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মান কাজের শুভ উদ্দোধন করেন । সেতু নির্মান কাজ কয়েকটি উপভাগে ভাগ করা হয় ।
১. মূল সেতু নির্মান
২. নদী শাসন
৩.সংযোগ সড়ক নির্মান
৪.পূর্নবাসন প্রকল্প
সেতু নির্মান কাজ কয়েকটি উপভাগে ভাগ করে শুরু হয় এর নির্মান কাজ ।সেতু নির্মানে মোট ব্যায় ধরা হয় ২৮,০০,০০,০০০ কোটি  টাকা ।যার পুরো টাকাটাই দেওয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ।ইতোমধ্যেই মূল সেতু নির্মান প্রকল্পের ৪৩ শতাংশ  কাজ সম্পন্ন হয়েছে । সংযোগ সড়ক নির্মান ও পুর্নবাসন প্রকল্পের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ন সফলতার সাথে শতভাগ কাজ শেষ করেছেন । শরীয়তপুরের জাজীরা অংশে সংযোগ সড়কের ৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে জানচলাচলের জন্য । ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতু সির্মানে র সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ । শরিয়াতপুরের জাজিরা পয়েন্টে নতুন ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক খুলে দেওয়ায় নদী পার হতে এখন সময় এবং খরচ দুটোই কমে গেছে ।সেতু নির্মানের  ফলে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যেতে শুরূ করেছে । ৬.১৫০ মি (২০,১৮০ ফুট ) মূল সেতু সির্মান কাজ দেওয়া হয়েছে চীনের নির্মানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রীজ কোম্পানী কে এবং নদী শাসনের কাজ দেওয়া হয়েছে একই দেশের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো কে ।খরস্রোতা এই পদ্মার বুকে সেতু নির্মানে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে দেশী-বিদেশী হাজারও প্রকৌশলী কে ।নৃত্য নতুন চ্যলেন্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের ।বিশেষত বর্ষাকালে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে । তখন অধিকাংশ সময় নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে হয় ।প্রতিকূল পরিবেশের চ্যালেন্জ কে সামনে নিয়েই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু নির্মান কাজ ।সবকিছু ‍ু ঠিক থাকলে অগামী বছরের ডিসেম্বর মাসে পদ্মা সেতু সকলের জন্য উন্মক্ত করা সম্ভব বলে আশা করছেন সেতু প্রকল্প নির্মানের সাথে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা । পদ্মা সেতু নির্মান কাজ শেষ হলে বদলে যাবে পুরো দেশের অর্থনীতি ।গতি বাড়বে পুরো দেশের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থায় । বিশেষ করে বদলে যাবে পুরো দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য ।পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিনাঞ্চলে গড়ে উঠবে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাষ্টিয়াল পার্ক । দক্ষিনাঞ্চলে গড়ে উঠবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইকো পার্ক । এতেকরে কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা হবে বিপুল সংখ্যক কর্মহীন মানুষের ।এ ফলে অনেকটা চাপ কমে যাবে তিলোত্তমা ঢাকা শহরের উপর থেকে ।  নদী ভাঙন সহ আরও বিভিন্ন কারনে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ ক্রমেই ঢাকা মুখী হচ্ছে । পদ্মা সেতু নির্মান ও এর আশেপাশে গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প কারখানা স্থাপনের ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখার চাপ ঢাকার উপর থেকে অনেকাংশেই কমে যাবে । পদ্মা সেতু কেবল মাত্র নদীর উপর দিয়ে প্রবাহমান একটি সেতুই নয় এটি পুরো বাঙালি জাতির ভাগ্য উন্নয়নের সেতু । এই সেতু দিয়েই বদলে যেতে শুরু করবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ।সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে  পদ্মা সেতু নির্মান করে বাংলার মানুষ আরেক বার বিশ্ববাশীকে দেীখয়ে দিল আমরাও পারি । আমাদের ভাগ্য আমরা নিজেরাই উন্নয়ন করতে পারি । বাঙালি জাতি কখনো কারো কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না।বাঙালি জাতি প্রমান করে দিল আরও একবার তাদের দাবায়ে রাখা সম্ভব না । নির্মানাধীন পদ্মা সেতু সহ আরও বড় ধরনের যে সকল উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে সে সকল উন্নয়ন প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে বাংলদেশের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে। এই ধরনের বড় প্রকল্প বা মেগা প্রকল্প যা একটি দেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, সে সকল প্রকল্পগুলো রাতারাতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় ।দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা হয়ে দারায় রাজনৈতিক অস্থিরতা । আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহান পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সেটা আমাদের জন্য খুব একটা সুখকর নয় । ঘণ ঘন সরকার পরিবর্তন ও একটা লম্বা সময় ধরে চলা সামরিক শাসন আমাদের দেশের উন্নতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে রয়ে গেছে । দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প গুলো স্থবির হয়ে পরে । স্বল্প সময়ের মধ্যে বারবার সরকার পরিবর্তনের ফলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয় । বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পায়। দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় । তথা দেশের সার্বক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পরে । তাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে হবে । উ্নিতির অন্তরায় সকল বাধা-বৃপওি কে  দূরে ঠেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বায়লাদেশ এগিয়ে যাবে । এবং বাংলাদেশ একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে সকল রাষ্ট্রের কাছে পরিচিতি লাভ করবে ।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?