বিদেশী সিনেমা রিভিউ

The Green Mile – কান্নামিশ্রিত ভালোলাগার অনুভূতি

মুভির শুরুটা একজন জেলখানা অফিসারের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ দিয়ে ।

Paul Edgecomb [টম হ্যাঙ্কস] একজন প্রিজন কমান্ডিং অফিসার। মূলত তার ব্লকের তিনিই সর্বেসর্বা। জেলখানায় তার ব্লকের কাজ হলো মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কয়েদীদের বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসিয়ে বিচারদণ্ড কার্যকর করা। আর বিশেষ এই ব্লকটির নাম ‘গ্রীন মাইল’। পলের কর্মজীবনে ঘটে যাওয়া সাধারণ কয়েদীর মাঝে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন একজন দানব আকৃতির কয়েদীকে নিয়ে মূলত গল্পটি। মূত্রাশয়ে ইনফেকশনে আক্রান্তের জন্য পল দাম্পতিক জীবনে অসুখী। অসুখী হওয়ার কারণ তার রোগ। গল্পের মূল চরিত্র জন কফি হুট তার প্রাইভেট পার্টে শক্ত করে চেপে ধরে তাকে সুস্থ করে তোলার মাধ্যমেই মূলত জনের আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে মুভিতে।

John Coffey: একদিন জেলখানায় দুজন শিশুকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এক দৈত্যাকার নিগ্রো আসামী হাজির হয়। জেলের কর্মকর্তারা তাকে দেখে ঘাবড়ে যায়। যাকে দেখে ভয়ে অন্তরাত্মা কাঁপার মত। যাকে সামলাতে কমপক্ষে দশজন মানুষ লাগবে। জেলের সকল কর্মকর্তাদেরকে ভুল প্রমানিত করে দেয় বন্দী। বন্দীর নাম John Coffey। কিন্তু আকার- আকৃতিতে যত বিকট আর ভয়ানক হোক না কেন, জন নিজেকে প্রমাণ করলো একজন ভদ্র, শান্ত ও বাধ্যগত মানুষ হিসেবে। যে কিনা সব সময় শিশুদের মত ভয়ে তটস্থ থাকে, অন্ধকারে ঘুমাতে ভয় পায়। আর জনের অলৌকিক ক্ষমতা যা কিনা মৃত্যুপথযাত্রী রোগী সহ পলের ইউরাইন ইনফেকশনকেও সুস্থ করতে সাহায্য করে। ভদ্রতা ও অলৌকিক ক্ষমতার সংমিশ্রণের কারণে জেলের সকল কর্মকর্তার মন জয় করে ফেলে জন কফি! তারা কেউ বিশ্বাস করতে নারাজ। সৃষ্টিকর্তার উপহার দেওয়া অলৌকিক এই ক্ষমতার অধিকারী আসামীটি, যে কিনা অন্যকে সহায়তা করতে সদা উদগ্রীব, যার আচরণ কিনা শিশুদের মত। সে কিছুতেই বাচ্চা দুটোকে খুন করতে পারে না।

মুভির অন্যান্য শক্তিশালী দুটো চরিত্র হচ্ছে Percy Wetmore এবং Del –
Percy: হচ্ছে একজন নতুন জেল কর্মকর্তা। আন্টির সুপারিশে চাকুরী পাওয়া দয়ামায়াহীন দুষ্ট প্রকৃতির এই লোক বদমাইশের হাড্ডি, স্যাডিস্ট এবং কাপুরুষ। যে জেলের অন্যান্য কয়েদীদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করে, বিশেষ করে আসামী ডেলকে নানানভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করত। এছাড়া তার সহকর্মীদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে বিব্রত করত। তাদেরকে উপর মহলের হুমকি ধামকি দিত কথায় কথায়।

Del : Del হচ্ছে একজন ফ্রেঞ্চ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী, যিনি নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত এবং সদা মুখে হাসির রাখে এমন সরল একজন ব্যক্তি। একদিন হুট করে জেলে আসা এক ইঁদুর (Mr. Jingles) কিনা ডেলের সবচেয়ে কাছের একমাত্র বন্ধুতে পরিণত হয়। যা Percy সহ্য করতে পারে নি। সে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো, ঠিক যখনই সুযোগ পায় ঠিক তখনই (Mr. Jingles কে) ইঁদুরটিকে দুষ্টু Percy পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলে। ঠিক তখন জন কফি ইঁদুরটিকে অলৌকিক ক্ষমতায় পুনর্জীবিত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। মুভিতে এই দুইটি চরিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মুগ্ধকর সব ড্রামাটিক ও কমেডি সংলাপে ভরপুর পুরো মুভির কোন অংশে আপনি বিরক্ত হবেন না। গ্রোগ্রাসে গিলবেন পুরো মুভিটি। আর এর এক পর্যায়ে এসে আপনার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরবে। যদি আপনি অন্তর দিয়ে মুভিটির প্রতিটি চরিত্রে ডুবে যেতে পারেন।

কি ঘটেছিলো John Coffe এর জীবনে? সে কী সত্যিই ধর্ষক ও খুনি? তার কী শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদন্ড হয়েছিলো? এ সব কিছুর উত্তর পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে অসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি দেখতে হবে।

মুভিটির রেটিং হলো – Imdb 8.5
আমার রেটিং – রেটিং করার দুঃসাহস আমার নেই।

পরিশেষে: মুভিটি দেখা শেষ করে যখন জন কফি চরিত্রে অভিনেতা মাইকেল ক্লার্কের বায়োগ্রাফী খুঁজে বের করার জন্য সার্চ দিলাম। তখন ভেসে উঠলো গুণী এই অভিনেতা ২০১২ সালে মারা গিয়েছেন। বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। ভেসে উঠলো জন কফির সহজ সরল Yes Boss! বলা মুখ!

মুভিটি আমাকে কী দিতে পেরেছে জানিনা। তবে একরাশ কান্না মিশ্রিত ভালোলাগার অনুভূতি দিয়েছে। শক্তিমান অভিনেতা টম হ্যাংকস এর দীর্ঘায়ূ ও মাইকেল ক্লার্ক ওরফে জন কফির আত্মার শান্তি কামনা করছি।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

Lord of the Rings: Fellowship of the ring মুভি রিভিউ

Shahed Hasan

সফলতার শীর্ষে আমিরের দঙ্গল

Farhana Mou

Superman এর গ্রহ Krypton

Kongkon KS

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy