পাবলিক কনসার্ন

ঢাকা শহরে ইভটিজিং এক বিভীষিকার নাম (এক ঘন্টার পথে ৫-৬ বার টিজিংয়ের শিকার)

অনেক কষ্টে এরকম একটা বিষয় নিয়ে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কয়েকমাস আগে বিকেলে ফুফাতো বোনকে নিয়ে ওদের বাসায় যাওয়ার পথে প্রায় ৫-৬ বার ইভটিজিং এর শিকার হয়েছি। ফার্মগেট হতে মগবাজার যাওয়ার জন্য বাস পাচ্ছিলাম না বলেই হেটেই রওয়ানা হই।
# প্রথম টিজিংটা করে দুইজন লোক আমাদের বিপরীত দিক হতে ক্রস করার আগ হতেই বোনের দিকে তাকিয়ে ছিলো এবং ক্রস করে এক হাত পিছনে যাওয়ার পরেই বললো মাইয়াটার দুধ নাই! কথাটা আমাদের দুজনের কানেই এসেছে।

# এরপর আরেকটু সামনে এগোলাম দ্রুতগতিতে রিক্সা দিয়ে যাওয়া দুজন ছেলে ‘মালরে মাল’! বলে হাসতে লাগলো।

# আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি। আমাদের পিছন হতে সামনের দিকে যাওয়া পথচারী আমাদের ক্রস করার সময় বোনের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। যেন বোনের ব্যাকসাইড দেখার পর ফেসটা না দেখলে উনি বাঁচবেন না।

# ফুটপাত ধরে হাটছি। একটা গ্যারেজ ক্রস করতেছিলাম সেই গ্যারেজের ছেলেরা আমাদের দেখে ‘চিকনী চামিলি’ গান গাওয়া শুরু করলো। আর আমরা গ্যারেজ ক্রস করে দশ হাত যাওয়ার পর “ঐ চিকনী চামিলি” বলে জোরে জোরে ডাকা শুরু করলো।

# আরেকটু সামনে যাওয়ার পরে বাইক দ্রুত গতিতে যাচ্ছে বলে উঠলো ‘মাম্মা! কত্ত বড় দুধরে’!

অবশেষে ওদের বাসায় আসলাম। ফুফুকে সালাম জানিয়ে, বোনকে বাসায় দিয়েই লজ্জায় আর মুখোমুখি হতে পারলাম না। দ্রুত চলে এলাম। আমি এমন ভাই আমার বোনকে এরকম অসম্মানে পড়তে হলো আমি থাকাকালীন সময়ে, আমি কিছুই করতে পারলাম না। আমার পুরো শরীর ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছিলো এই কথাগুলো মনে পড়তেই..লজ্জা আর অপমানে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করছিলো। এটা ভাবতে শিউরে উঠলাম আমি থাকাকালীন সময়ে যদি এগুলো হয়, আমার অনুপস্থিতিতে না জানি আরও কতকিছুই সহ্য করতে হয় তাকে। কিছুদিন আগে ও নাকি সন্ধার পরে বাসায় ফিরছিলো রিক্সায় করে হুট করে এক ছেলে রিক্সার সামনে এসে “ভাউ”! শব্দ করে অন্ধকারে পালিয়ে যায়…

ফেরার পথে মগবাজার বাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। স্টান্ডে আরও দুইটি মেয়ে দাঁড়িয়ে। তাদের দিকে তাকিয়ে বাসের হেলপার দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কিছু বেফাঁস একটা বললো আর হাসলো।

বাসায় ফিরলাম। গতকালের ঘটনাগুলোই বারবার মনে পড়ছিলো। হঠাৎ ফেসবুকে এক আপুর একটা ভিডিও দেখলাম। উনি নাকি সি.এন.জিতে করে ফেরার পথে সি.এন.জি ড্রাইভার লুকিং গ্লাস দিয়ে উনার দিকে তাকাচ্ছিলো বারবার। এক পর্যায়ে মাস্টারবেশন করা শুরু করে। ভাবুন একবার কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে এই সমাজ?

এই যদি সমাজের বাস্তব নোংরা চিত্র যেখানে বাস হেলপার, রিক্সাওয়ালা, দোকানদান, ছাত্র, শিক্ষক সব শ্রেনীর পুরুষের দ্বারাই যদি নারীরা এরকম নোংরা কথাবার্তার শিকার হয় তাহলে সেই সমাজে আমি বাঁচতে চাইনা। হয় আমি সুইসাইড করব নইলে আইন নিজের হাতে তুলে নিবো।

এখন অনেকেই বলতে পারেন আমি কেন প্রতিবাদ করিনি। চলন্ত কিংবা দ্রুত গতিতে যাওয়া কারো সাথে আমি কি প্রতিবাদ করব? কিংবা সংখ্যায় বেশি ওদের সাথে? নিজের এলাকায় এমন ঘটতো! চিনে রাখতাম পরে ধোলাই দিতাম। কিন্তু নিজের এলাকায় এগুলো ঘটেনা। কিন্তু যেখানে ওরা আপনাকে শুধু চোখ দিয়েই নোংরা তাকানি তাকাবে… নোংরা ইশারা করবে চোখ দিয়ে… মুখে কিংবা শরীরে হাত দিয়ে কিছু করবে না সেক্ষেত্রে কি করতেই পারেন আপনি? কিচ্ছুই করার নেই। আইন তো নেই…আপনার যদি পাওয়ার থাকে আপনি ধোলাই দিতে পারবেন, অনেকে মানসম্মানের ভয়ে জড়ায় না। কিন্তু তাদেরকে আইনী সহায়তা দিলে তারাও প্রতিবাদ করতে পারতো।

আমাদের দেশে প্রতিদিন রাস্তায় বের হওয়া একটি মেয়ে ইভটিজিং এর স্বীকার হয়…হতে পারে নোংরা কথার আওয়াজে কিংবা কুদৃষ্টিতে।

কিছুদিন আগে এক বন্ধু সহ ফিরছি। চিড়িয়াখানা রোডেই দুইটা রিক্সা পাশাপাশি যাচ্ছে অনেক স্পিডে… একটাতে দুইটা মেয়ে আরেকটাতে দুইটা ছেলে। ছেলে দুইটা মেয়ে দুইটাকে ডিস্টার্ব করছিলো কিভাবে শুনবেন? কনডমের প্যাকেট দেখিয়ে। ভাবুন একবার!

আমার বন্ধু প্রায়ই একটা কথা বলে…সামনে একটা জেনারেশন আসবে একটা জারজ জেনারেশন। যারা এমন কোন পাপ নেই যে করবে না। কষ্ট হলেও সত্য সেগুলো আমাদেরই সন্তান হবে… কারন আমাদের জেনারেশনই হবে তাদের অনুপ্রেরণা।

এই সমাজে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে বড় জোর এইডস হতে বাঁচতে সেক্স করার পূর্বে কনডম পড়ানো কিংবা তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে কফ পরীক্ষায় অভ্যস্ত করানো যায় কিন্তু ইভটিজিং কিংবা নারী নির্যাতনে প্রয়োজন কঠোর হতে কঠোরতম শাস্তি। এটার জন্য যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড দিলে খুশি হই। কিন্তু তা কখনই হবে না। তা যদি নাই করতে পারেন অন্তত ৫ বছরের জামিন অযোগত জেল? তাও যদি না পারেন অন্তত একটা হেল্প লাইন নাম্বার: যাতে কল করলে ত্রিশ মিনিটের ভিতরে সেই স্পেশাল বাহিনী সেই স্থানে গিয়ে উপযুক্ত প্রমানের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে শাস্তিপ্রদান! অন্তত তাদের জন্য এই আইন বানান যাদের কোন রাজনীতি করে এমন ভাই নেই, যাদের কোন পুলিশ রিলেটিভ নেই, যারা নিতান্তই ছাপোষা। যারা বছরের পর বছর রিক্সাওয়ালা, সিএনজি ড্রাইভার, হেলপার, পথচারী, বখাটে, ছাত্র শিক্ষক এদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আসছে পথে ঘাটে, বাসে মার্কেটে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

জাস্ট এই জারজদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে অন্য জারজদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিন। সুশীলদের পায়ে ধরি অন্তত এই দিকটার একটা হ্যস্তন্যস্ত করুন। আমার মা বোন স্ত্রী কন্যা এদের নিয়ে যেন একটা বেফাঁস কথা বলার সাহস যেন কেউ না পায়।

ছবি কার্তেসীঃ গুগল ইমেজ

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ভার্সিটিতে ভর্তির পর

Ashraful Kabir

পোশাক শিল্প

Rakib Islam

প্রবীণদের জায়গা দেখছি শুধুই বৃদ্ধাশ্রম!

Maksuda Akter

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy