• Home
  • দেশপ্রেম
  • দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?
দেশপ্রেম

দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

দেশপ্রেম কথাটা আমরা সবাই শুনেছি।

তবে আসল কথা হল এর প্রকৃত অর্থ আমরা অনেকেই জানি না।একটা শব্দের অর্থ কখনোই সামান্য হয় না।আর তা যদি হয় ‘দেশপ্রেম’! তবে এর অর্থ হবে একেবারেই অন্যরকম। কারণ আপনি শুধু কথায় নয় কাজে পরিণত করে দেখাতে হবে আপনার মাঝে থাকা দেশপ্রেমকে।আর যদি তা পারেন,তবেই আপনাকে বলা হবে একজন দেশপ্রেমিক।আর আপনার এই দেশপ্রেমই পারে আপনার দেশকে এগিয়ে নিতে।

আজকাল দেশপ্রেমিক শব্দটা একটি ট্যাগে পরিণত হয়েছে।যে কেউ নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে বসে। যদিও বাস্তব জীবনে তার কাজে কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।সবাই নিজের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে।কিন্তু দিনে একটি কাজ দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল এর জন্য করেছে এমন মানুষ পাওয়া ধীরে ধীরে মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের দরকার কেবল মুখে আর লেখায় নয় কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করা।দেশপ্রেমে বলিয়ান হয়ে দেশের মাঝে নিজেদের মাঝে এক ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

অনেক তো সমালোচনা করলাম সে সকল লোকদের যারা মুখে নিজে দেশকে বদলানোর কথা বলে কিন্তু বাস্তবে এর পুরো উল্টো। আসুন দেখা যাক আমাদের দেশকে আমরা কেমন ভালোবাসি আর আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু।

একটা সাধারণ উদাহরণই দিই।আপনারা প্রায় সবাই দেখেছেন বর্তমান ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর একটি প্রকল্প ছিল রাস্তার পাশে মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা।আর এর জন্য প্রায় ৩০০০ এর বেশি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।এ কাজটি আমার মতে একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল।আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্যে এর খুবই প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন অনেকেই।তবে আফসোস এর বিষয় বেশির ভাগ লোকই ডাস্টবিনের ব্যবহার জানলেও তার উপযুক্ত ব্যবহার না করে ময়লা ফেলল ওই রাস্তার উপর।মজার ব্যাপার ডাস্টবিনগুলো স্থাপনের মাত্র কয়েক দিন পর এগুলোর কয়েক ভাগ চুরি হয়ে গেল।হায়রে দেশ আমার।তখনই মনে আসে কবির সেই কথা,

“সাত কোটি সন্তানের মুগ্ধ জননী,        রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করো নি”

তবে আমার দেখা অনেকেই একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক পা এগিয়ে মিনি ডাস্টবিনের ব্যবহার করেছেন।তবে এতেই তাদের পুরো কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না।আমাদের উচিত ছিল যারা রাস্তায় না বুঝে এসব ময়লা ফেলে তাদের দেখলে ওই ময়লা কষ্ট করে পাশের ডাস্টবিনটিতে ফেলার জন্য বিনীত অনুরোধ করা।অনেকেই বলবেন ভাই এটা করে লাভ নাই।তবে ভাই আমার মতে লাভ না হলেও দিন শেষ ঘুমানোর আগে এটার স্বস্তিতে থাকতে পারব যে আজ অন্তত একটা ভালো কাজ দেশের জন্য করেছি।

সামান্য ডাস্টবিন ব্যবহারের উদাহরণ দিয়েছি।অনেকেই একমত হবেন আবার অনেকেই কিছু ত্রুটির কথা জানাবেন।আমার মতে যদি আপনি ত্রুটি দেখতে পান তবে তা অবশ্যই আমাদের মেয়র অথবা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন।আমার দেখা মতে আমাদের বর্তমান মেয়ররা যথেষ্ট চেষ্টা করছে শহরটাকে ঠিক করার।

যাক এই টপিক।আমাদের মাঝে আসলেই দেশপ্রেমটা কম।তা না হলে পর পর তিনবার দুর্নীতিতে আর যাই হোক চ্যাম্পিয়ন হতাম না।বাদ দেই এসব কথা।অতীতকে নিয়ে কান্না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা সরু না করাই ভালো।

তবে আশার বিষয়কে আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দেশে বাইরে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।দেশের জন্য কিছু করতে চাইছে অথবা করছে।আর যখন আপনি দেশের জন্য কিছু করছেন তা অবশ্যই মানুষের জন্যও করা হয়।আর এটাই হলো মানবতা।তাহলে বুঝতেই পারছেন দেশপ্রেমের মহত্ত্ব।

বর্তমান সময়ে বিশেষ কোনো দিনে যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি,২৬শে মার্চ,১৬ই ডিসেম্বর এর দিনগুলোতে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে শহীদ মিনার,স্মৃতিসৌধ এসব জায়গায় নিয়ে যায়।তাদের বেশির ভাগই মনে করে এতে সন্তানের কাছে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।হবে তবে অন্যরকম এক দেশপ্রেম।আর তা হলো এই দিনগুলোতে শুধুমাত্র ঘুরতে যাবার জন্য ওই সব যায়গা ঘুরে আসা।কারণ যদি দেশের জন্য কাজ করাই না শিখে তবে এসবের মূল্য বৃথা।

দেখতেই পারছেন নতুন প্রজন্মের কিছু নমুনা আজকাল।এক এক এলাকায় আজ ছোট ছোট বাচ্চাদের ‘গ্যাং’ নামক জিনিষটা প্রায় ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে।আর এই গ্যাংগুলোর মধ্যে মারামারির ফল হলো প্রাণ ঝড়ে পড়া।কি শিখেছে তারা?কি শিখানো হয়েছে তাদের?তাদের এই কর্মকান্ডের দায় কি তাদের পরিবার এড়িয়ে যেতে পারে?না কখনোই না।কারণ আজ যদি তাদের বাবা মা তাদের সামনে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখতো তবে তারা এই পথে যাবার কথা ভাবতো না।

প্রজন্মের অনেকেই আজ দেশকে নিয়ে ভাবাকে একঘেয়েমি বলে মনে করে।তবে বিশেষ দিনে ঠিকই পৌছে যায় বিশেষ স্থানে একটা সেলফি তোলার জন্য।এইকি পূর্বের সন্তানদের আত্নত্যাগের মূল্য?

এখনই সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দেশের প্রতি কাজ করার জন্য নৈতিক শিক্ষা প্রদান করার।কেবল প্রশাসন এর ভুল না ধরে তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যই পারে এ দেশকে বিশ্বের মাঝে এক রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে।আপনি কি চান না অন্য দেশে গিয়ে নিজেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গর্ব বোধ করতে?অবশ্যই চান বলে আমি মনে করি।

তবে আজই চেষ্টা করে দেখুন দেশের জন্য কিছু করার।মনে শান্তি না পেলে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আজম খান থেকে পপ সম্রাট

Md. Nizam Uddin

চট্টগ্রামে বিদেশী ফাইনান্সে প্রামান্যচিত্র – The Chittagong Dreams

Footprint Admin

বীর মহিউদ্দিন এর মাঝেই যেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: