Now Reading
A/C কেনার আগে !



A/C কেনার আগে !

গ্রীষ্মকাল। আস্তে আস্তে বেশ গরম পরছে। এছাড়া সামনে রমজান মাস আসছে। অনেকেই একটা নতুন  A/C কেনার কথা ভাবছেন। চলুন এসি সম্পর্কে জেনে আসি,

আমরা এসি সাধারণত ধরনের দেখতে পাই,
১. ইনভার্টার এসি।
২. নন-ইনভার্টার এসি।

ইনভার্টার এসির কথা বলার আগে নন- ইনভার্টার এসির কথা বলি। কারন, নন- ইনভার্টার এসি আমরা আগে থেকে ব্যাবহার করছি যা পূরানো টেকনোলোজিতে তৈরি। এ ধরনের এসিতে রোট্রি কম্প্রেসার থাকে।
অপরদিকে ইনভার্টার এসি আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে আসা শুরু হয়েছে। এই এসির দাম নন- ইনভার্টার এসির তুলনায় অনেক বেশি। এটি dc কারেন্টে চলে। বর্তমানে ইনভার্টার এসির দাম অনেকাংশে কম হয়ে গিয়েছে। তবু নন- ইনভার্টার এসির তুলনায় এখনো  প্রায় ২০% দাম বেশি।

এখন আমরা এই দুই ধরনের এসি সম্পর্কে একটু গভীর  ভাবে জানব। বলব এগুলো কিভাবে চলে।

১. নন- ইনভার্টার এসি:- এ ধরনের এসি অনেক বেশি কারেন্ট ব্যাবহার করে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় এসি অন করলে রুমের লাইটের আলো একটু কমে যায়। এর কারন এই ধরনের এসিতে যে কম্প্রেসার থাকে তা শুরুতেই একদম ফুল স্পিডে চলা শুরু করে। ফলে অনেক বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে। এতে ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে বেশ ঠান্ডা বাতাসের মাধ্যমে রুম ঠান্ডা করে ফেলে। মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায় যাকে আমরা বলি থার্মস্টাট। ধরুন আমি এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রিতে দিয়ে রেখেছি। এসি চলতে চলতে ৫-৭ মিনিট পর বন্ধ হয়ে যায় আবার ৫-৭ মিনিট পর চলতে শুরু করে। এভাবে নন- ইনভার্টার এসি বা নরমাল এসি চলে। অর্থাৎ নন- ইনভার্টার এসি, হয় ফুল স্পিডে চলবে না হয় একদম বন্ধ হয়ে যাবে। এরা কম্প্রেসারের পাওয়ার কন্ট্রোল করতে পারে না।
২. ইনভার্টার এসি:- এ ধরনের এসি সবসময় কারেন্টে চলে এবং এরা কম্প্রেসারের স্পিড বা পাওয়ার কম-বেশি করে অর্থাৎ পরিবর্তন করতে পারে। ধরি আমি মাত্র এসি অন করলাম। আমার রুম গরম তাই এসি ধীরে ধীরে ১০০% স্পিডে কাজ করবে। তখন আমি তাপমাত্রা  ২৫ ডিগ্রিতে সেট করলে ১০ -১৫ মিনিট পর তাপমাত্রা ২৫ এর আশেপাশে আসলে এসি তার কম্প্রেসারের পাওয়ার আস্তে আস্তে ৩০% থেকে ৪০% কমিয়ে দিবে। অর্থাৎ এসি একদম বন্ধ না হয়ে আমি যে তাপমাত্রায় সেট করিছি তা ধরে রাখবে। নন-ইনভার্টার এসির মত কম্প্রেসার বারবার অন-অফ হবে না।

ইনভার্টার এসি এবং নন- ইনভার্টার এসি মধ্যে ব্যাবহারিক পার্থক্য?

* চলার পদ্ধতিটাই ইনভার্টার আর নন- ইনভার্টার এসির প্রধান পার্থক্য। এছাড়া ইনভার্টার এসি শব্দ কম করে থাকে আর এতে ইলেক্ট্রিক বিল অনেক কম আসে। কারন যখন আমি তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রিতে সেট করি তখন ২৫ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা আসার পর অনেক কম পাওয়ার নিয়ে চলে ফলে বিদ্যুৎ খরচ নরমাল এসি থেকে অনেক কম হয়। ইনভার্টার এসি লাগানোর ফলে বিদ্যুৎ খরচ নরমাল এসি থেকে প্রায় ২০%-৩৫% কম হয়।

* ইনভার্টার এসি সব ক্ষেত্রে ভালো না। আপনি যদি খুব তাড়াতাড়ি রুম ঠান্ডা করতে চান তাহলে ইনভার্টার আপনার জন্য নয়। কারন ইনভার্টার এসি ধীরে ধীরে রুম ঠান্ডা করে। অপরদিকে নন- ইনভার্টার এসি চালানোর ২-৫ মিনিটের মধ্যে রুম ঠান্ডা করতে পারে ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে যা প্রায় ১০-১২ মিনিট লাগে।

* আপনি যদি খুব কম চালান অর্থাৎ আপনি রুমে কম থাকেন তাহলে আপনার জন্য নন-ইনভার্টার এসি প্রয়োজন। কারন এটি খুব তাড়াতাড়ি পরিবেশকে ঠান্ডা করে যা ইনভার্টার এসি করে সময় লাগায়। কিন্তু আপনি যদি প্রায় সময়ই এসি চালান তাহলে ইনভার্টার এসি বেশি ভালো হবে। কারন, এটি খুব পাওয়ার কম ব্যাবহার করে।

* নরমাল এসিতে বেশ তাপমাত্রার পার্থক্য দেখা যায়। আমি যদি তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রতে রাখি তাহলে এসি প্রথমে ২৩ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা নিবে এবং কম্প্রেসার বন্ধ হয়ে যায় তারপর তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি হলে কম্প্রেসার অন হয়। ফলে মাঝে মাঝে বেশি গরম বা বেশি ঠান্ডা লাগে।

এসি কিনতে গেলে আরেকটি সবথেকে বড় বিষয় হল টন। আমরা এসি কেনার সময় ভাবি আমার জন্য কয় টনের এসি ভালো হবে। আসুন টন সম্পর্কেও আরেকটু গভীর থেকে জানি,

টন কি? কেন এসিতে পরিমাপ একক হিসেবে টন ব্যাবহার করা হয়?

ধরুন আমি এক টনের এসি আমার রুমে লাগিয়েছি। এই এক টন আমাকে ওইরকম ঠান্ডা দিবে যে রকম একটা এক টন ওজনের বরফ যদি আমার রুমে রাখার ফলে রুম যত খানিক ঠান্ডা হবে বা এক টন বরফ গলাতে যে টুকু তাপ লাগবে তা শোষন করে নিবে।

1 ton A/C = 12000 BTU/Hour

অর্থাৎ এক টনের এসি প্রতি ঘন্টায় রুম থেকে 12000 BTU তাপ শোষন করতে পারে। এখনে  BTU মানে ১ পাউন্ড পানিকে ১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে গরম করতে প্রয়োজনীয় তাপ।
এখন মুখস্থ বলি
1 ton = 12000 BTU/h
1.5 ton = 18000 BTU/h
2 ton = 24000 BTU/h
এভাবেই বাড়তে থাকবে।

এসি কেনার আগে কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে?

* বেশি ব্যাবহার করলে ইনভার্টার এসি ভালো হবে। কম ব্যাবহার এবং তাৎক্ষনিক ঠান্ডা করতে নন- ইনভার্টার এসি ভালো হবে।
* কম শব্দের জন্য ইনভার্টার এসি ভালো হবে। নন- ইনভার্টার শব্দ বেশি করে থাকে।
* নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার জন্য ইনভার্টার এসি ভালো হবে।
* বিদ্যুৎ কম খরচের জন্য ইনভার্টার এসি ভালো।
* যে এসির ডেসিবল কম তার শব্দ কম।
* বেশিরভাগ নরমাল এসি অন করার সাথে সাথে লাইটের আলো কমে যায়। যা ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে হয় না।

>এছাড়া আপনার জন্য কত টনের এসি ভালো হবে তা নির্ভর করে আপনার রুমের অবস্থার উপর। এক্ষেত্রে আমি একজন এক্সপার্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

About The Author
Abid Pritom
Abid Pritom