Now Reading
ছাত্র রাজনীতির অতীত ও বর্তমান



ছাত্র রাজনীতির অতীত ও বর্তমান

হাজার বছর আগে এই পৃথিবীতে মানুষের আর্বিভাব। তবে বর্তমানের ন্যায় সেই সময়ের মানব সভ্যতা এতটা আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ছিল না।মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকে আজঅবধি মহান লক্ষ ও আদর্শ কে সামনে রেখে যতগুলো সংগঠন আত্নপ্রকাশ করেছে তার মধ্যে ছাত্র সংগঠন অন্যতম। কিন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে , বহুমূখী কারনে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র রাজনীতি আজ বিতর্কের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। সামপ্রতিক সময়ে ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গনে যেভাবে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে, তাতে ছাত্র রাজনীতির সোনালী অতিত ছাড়া বর্তমানে দেখাবার মতো কিছুই থাকছে না। ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবার আগে আমাদের প্রত্যেকের যেনে নেওয়া দরকার ছাত্র রাজনীতি কি ? লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ তাদের নিরেজদের ও দেশ মাতৃকার স্বার্থে যে প্রতীবাদী ভূমিকা পালন করে তাই ছাত্র রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্ররা অন্যয়ের বিরুদ্ধে যে প্রতীবাদী হয়ে ওঠে। বাঙালি জাতি যখনই কোন অপশক্তির দ্বারা নির্যাযিত হয়েছে তখনই ছাত্ররা নি:শঙ্কচিত ভাবে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে সেই অপশক্তিকে রুখে দিয়েছে। আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতি খুব একটা পুরোনো নয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মূলত এই অঞ্চলে ছাত্র রাজনীতি মাথাচারা দিয়ে ওঠে। ছাত্ররা বুঝতে শুরু করে শুধু লেখাপড়ার মাঝে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সীমাবধ্য নয়।তাইত কবি নজরুল বলেছিলেন “আমরা শক্তি আমরা বল আমরা  ছাএ দল” কবির এই কথার মাঝেই ছাত্র রাজনীতির বীজ লুকায়িত ছিল। অতীতে ছাত্র সংগঠন গুলোর ছিল গৌরবদীপ্ত অতিত।কিন্ত বর্তামান সময়ে ছাত্র সংগঠন গুলোর সেই সোনালী অর্জন আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই আজকে আমরা কথা বলবো ছাত্র সংগঠন গুলোর সেই সোনালী অতীত ও বর্তমান নিয়ে….
অতীত:
১৯৪৭-১৯৭১ । বাংলাদেশ তৈরির পেছনে ছাত্র সংগঠন গুলোর ছিল অনবদ্য ভূমিকা। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকার কথা কম বেশি আমরা সকলেই জানি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্ররা সেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য মিছিল শুরু করে। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি বর্ষন করে। সেদিন পুলিশের গুলিতে সালম, সফিক, রফিক জব্বার, বরকত সহ আরও অনেকে প্রান হারান।অবশেষে ১৯৫৬ সালে সরকার বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতী দিতে বাধ্য হয়। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতী আদায়ে ছাত্ররা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ৬২’র শিক্ষা আন্দলোন, ৬৯’র গনঅভ্যুত্থান ও সবশেষ ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার ছাত্র সমাজ যে ভূমিকা রেখেছে তা নি:সন্দেহে  প্রশংসার দাবিদার। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ছাত্র সমাজ এর বিরুদ্ধে সারা বাংলায় প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে এর পেক্ষিতে পাকিস্থান সরকার শিক্ষানীতিতে  আমূল পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। মার্শাল ডিক্টেটর আইয়ুব খানের নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলায় সর্বএ ১৯৬৯ সালে এক দুর্বার গন আন্দোলনের গড়ে তোলে। ছাত্র সমাজ ১১ দফা ঘোষনা করে। সুচনা হয় গন আন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে পাকিস্থান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে। সবশেষ ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজ উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছে। মুক্তিযদ্ধে  ছাত্ররা গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে পাকিস্থানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ মুক্তিযদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। ৭১’র  স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ছাত্র সমাজ যে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে, দেশবাসী তা চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্বরন করবে। ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ছাত্র সমাজ মূখ্য ভুমিকা পালন করে। অছাত্ররা ২৮ নভেম্বর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। সেনাবহিনী ও পুলিশ তাতে সমর্থন জানায়। অবশেষৈ পদত্যগে বাধ্য হয় এরশাদ সরকার এবং এর মাধ্যমেই অবসান ঘটে সামরীক শাসনের। অতীতে বাংলার  ছাত্র সংঠনের ছিল একটা গৌরবদীপ্ত সোনালী অতীত।যা বর্তমান সময়ের ছাত্র সংগঠন গুলো হারাতে বসেছে।

বর্তমান :
বর্তমান ছাত্র সংগঠন গুলো অতীত ঐতিহ্যকে আর ধরে রাখতে পারছে না। বর্তমান ছাত্র সংগঠন গুলো এখন আর জাতীয় স্বার্থের দিকে নজর দেয় না। কারন তারা এখন সন্ত্রাস নামক কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত। এখন প্রায়শই আমরা দেখি বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররা রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা করছে। এসব বিশৃঙ্খলার কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা সেশন জটে পড়ছে। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসে ছেয়ে গেছে। মেধাবী ছাত্রদের যখন দেশ গড়ার কারিগর হবার কথা ছিল, তখন তারা হচ্ছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী। আমাদের দেশে যে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার প্রধান কারন ছাত্র রাজনীতি। ছাত্রদের প্রধান কাজ হলো লেখাপড়া করে নিজের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। বর্তমান সময়ের ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্র রাজনীতির অপপ্রয়োগ করছে। তারা হাতে অন্ত্র তুলে নিচ্ছে। ক্ষমতার লোভে তারা প্রতিদিনি কোন না কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। ফলে সাধারন শিক্ষার্থিদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র রাজনীতি ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার জম্ন দিয়েছে। বিতর্ক হচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মকান্ড নিয়ে।

অতীতের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে যে, আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির অত্যাধিক গুরুত্ব রয়েছে। আমরা অবশ্যই সুষ্ঠ ও ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতির  গুরুত্ব স্বীকার করি। সকল প্রকার সন্ত্রাস ও কুলষিত চিন্তা-চেতনা বাদ দিয়ে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলায় সুষ্ঠ ও সুন্দর ছাত্র রাজনীতি অব্যাহত থাকুক এটিই আমাদের সকলের একান্ত কাম্য।

About The Author
Aunantu Khan