Now Reading
মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০১)



মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০১)

সাধারণত কোন ডাক্তার এর কাছে গেলে আপনি যদি প্রশ্ন করেন, কি করলে  বা কি খেলে এই রোগটা হবে না? অনেকক্ষেত্রে ডাক্তার সাহেব এর কোন সদুত্তর দিতে পারে না।  তবে আমি আজ যে তথ্য গুলো আপনাদেরকে দিব তা যেমন আপনার ডায়াবেটিস নিরাময়ে সমাধান দিবে, তেমনি এটা থেকে দূরে থাকার বিষয়েও সমাধান দিবে।

তাহলে মূল বিষয় বস্তুতে ফিরে যাওয়া যাক।

ডায়াবেটিস বর্তমানে মহামারী আকারে ছড়ানো একটি রোগ, আমরা বলে থাকি ডায়াবেটিস সকল প্রকার রোগের মা-বাবা। যদি ডায়াবেটিস কারো শরীরে হয়, তবে সে ক্ষেত্রে আপনার আর অন্য কোন রোগের দরকার পড়বে না। একবার ডায়াবেটিস হলে বাকি সবকিছু সয়ংক্রিয় ভাবে হতে থাকবে। 

ডায়াবেটিস যদি হয়- হার্ট ডিজিস হবে

ডায়াবেটিস যদি হয়- ব্রেইন স্ট্রোক হবে,

ডায়াবেটিস যদি হয়- কিডনি ডিজিস হবে,

ডায়াবেটিস যদি হয়- আপনার ব্রেইনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হবে,

ডায়াবেটিস যদি হয় তাহলে সকল প্রকার অনাকাঙ্খিত রোগ আপনার হতে থাকবে। তাহলে কি করলে ডায়াবেটিস হবে বা কি করলে ডায়াবেটিস থেকে বাচা যাবে সে বিষয়ের দিক যাওয়া যাক।

কি করলে ডায়াবেটিস হবে না:- এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের প্রথমে জানতে হবে কি করলে ডায়াবেটিস হয়। আসলে যা যা করলে ডায়াবেটিস হয় তা না করলে ডায়াবেটিস হবেনা। সহজ হিসাব!!

কি কারণে সাধারণত ডায়াবেটিস মানুষের হয়ে থাকে:- এখন থেকে যদি ১০০ বছর আগের কথা যদি চিন্তা করি তখন কিন্তু মানুষের ডায়াবেটিস ছিলনা।  ২০০ বছর আগে হয়তবা এই নামগন্ধ পর্যন্ত ছিলনা। কিন্তু বর্তমানে ৩০- ৪০ বছরের মধ্যে কি এমন  দুনিয়ার মধ্যে পরিবর্তন হয়েছে যে তা থেকে মানুষের ডায়াবেটিস হচ্ছে, আজ ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস এর রোগী, আর এই মরণব্যাধী মহামারী আকারে ছড়াচ্ছে। আসুন কয়েকটি বিষয় বিশেষাভাবে লক্ষ করিা।

প্রথমত:- যদি কারো শরীরে রক্তের ক্লোরেস্টেরেল লেভেল বেড়ে যায় তখন ডায়াবেটিস হতে পারে।  কারণ যখন ব্লাডের মধ্যে ক্লোরেস্টেরেল লেভেল বেশি হয়ে যায় তখন, ইনস্যুলিন রেজিস্ট্যান্সি তৈরি হয়।  তার মানে ইনস্যুলিন পুরোপুরি কাজ করে না। সুতরাং যখন ইনস্যুলিন সঠিকভাবে কাজ করবে না তখন আপনার হাইপারগ্লাসিনিয়া হয়ে যাবে, আপনার গ্লুকোজ লেভেল বেড়ে যাবে এটা গেল একটা কারণ।

দ্বিতীয়ত:- বিশেষ করে চিনির কারণে। যে দুইটা কারনে আমাদের ডায়াবেটিস হয়, দুটিই হলো চিনি খাওয়ার জন্য।

যাদের এই পর্যন্ত ডায়াবেটিস হই নাই তারা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে রাখেন, আপনারা শুধু চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেন। যদি আপনি চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেন তাহলে আপনি ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন আল্লার রহমতে।  আসলে আমি বিষয়টি আপনাদের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম বিষয়টি। বাদবাকি বিষয় আপনাদের  কাছে।

অনেকে বলে ডাক্তার সাহেব আমি তো চিনি খাইনা বা অতো পরিমানে চিনি খাই না অথবা অনেক আগেই চিনি ছেড়ে দিছি, তাদের উদ্দেশ্যে, আপনি জানেন কী? বাজারে যত প্রকার খাবার পাওয়া যায় তার ৮০% এর মধ্যে চিনি থাকে।

আপনি কোক খাবেন- চিনি মিশ্রিত

পেপসি খাবেন- চিনি মিশ্রিত

বিভিন্ন ধরনের কোল্ড ড্রিংস খাবেন-চিনি মিশ্রিত

রুটি খাবেন – চিনি মিশ্রিত

বিস্কিট খাবেন- চিনি মিশ্রিত

বেকারী পন্য খাবেন- চিনি মিশ্রিত

এছাড়া অনেক রেস্টুরেন্ট আইটেমেও চিনি মিশ্রিত

জুস তাও চিনি মিশ্রিত, এমন অনেক খাবারের মধ্যে চিনি মিশ্রত থাকে, ধারনা করা হয় বাজারের ৮০% খাবারের মধ্যে চিনি মিশ্রিত। 

তাহলে,

আপনি হয়তো চিনি খাবেন না কিন্তু বিস্কুট তো খান। আর বিস্কুট খেলে ওই  চিনিটা আপনার শরীরে প্রবেশ করছে।

আপনি হয়তো চিনি খাবেন না কিন্তু কোল্ডড্রিংস তো খান, তাহলে চিনিটা আপনার শরীরে প্রবেশ করছে।

এমন কি সমগ্র দুনিয়ার মানুষ বলছে, শুধু আমি না!! “চিনি একটি সাদা বিষ”, এ বিষয়ে অনলাইনে অনেক তথ্য আছে আপনারা একটু ঘাটা ঘাটি করলেই দেখতে পারবেন আসলে কথাটা কতটুকু সত্য।

এখানে আমি শুধু চিনিকে দায়ী করছিনা, আমি সাধারণ তিনটি জিনিসের কথা বলে থাকি।  আপনার ঘর থেকে যদি কোন কিছুকে ঘৃণা করতে হয় তাহলে এই তিনটা জিনিসকে করুন।

১. সয়াবিন তৈল

২. সাদা লবন

৩. চিনি

এই তিনটি জিনিস কে যদি আপনি ঘর থেকে, আপনার শরীর থেকে দূর করতে না পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস এর রোগ এর মতো রোগকে সঙ্গী করতে আপনি প্রস্তুত থাকেন।

আরো ছোট একটা উদাহরণ দিয়ে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি ডায়াবেটিস টা কী কারনে হয়।

আমাদের ডাইজেস্টিক সিস্টেমের মধ্যে একটা অর্গানের নাম হলো প্যানক্রিয়েস, প্যানক্রিয়েস এর আইলাট্স অব ল্যাঙ্গারেন্স এর বিটাসেল থেকে তৈরি হয় ইনস্যুলিন। আর যদি কোন কারনে ইনস্যুলিন প্রোডাকশন বা তৈরি কমে যায় তখন দেখা যায় রক্তের মধ্যে স্যুগার লেভেল বেড়ে যায় । এটাকে বলে ডায়াবেটিক কন্ডিশন (এটা একটা কারণ হতে পারে)। 

অন্যক্ষেত্রে, অনেকের ইনস্যুলিন তৈরি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু এটা মাস্যুল সেল এর মধ্যে যেয়ে সঠিকভাবে কাজ করছে না। যখন মাস্যুল সেল এর মধ্যে যেয়ে সঠিকভাবে কাজ করবে না, তখন যে কন্ডিশন তৈরি হবে সেটাকেও ডায়াবেটিক কন্ডিশন বলা হয়ে থাকে।  তাহলে আমরা জানলাম দুইটা কারনে ডায়াবেটিস টা তৈরি হইতেছে।

সমাধান পর্ব- ০২ (পরবর্তীতে)

 

তথ্য সূত্র:

আলোচনা করে,

ডা: সৈয়দ গোলাম গাউস আশরাফী,

বি. এইচ. এম. এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

 

 

 

 

About The Author
MD. SHOHIDUL ISLAM
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment