Now Reading
“চৌধুরি জাফরউল্লাহ শারাফাত” বাংলাদেশের ক্রিয়ঙ্গনের একটি অবিচ্ছেদ্দ নাম



“চৌধুরি জাফরউল্লাহ শারাফাত” বাংলাদেশের ক্রিয়ঙ্গনের একটি অবিচ্ছেদ্দ নাম

বাংলাদেশ ক্রিকেটের কথা যখন বলা হয় তখন বেশ কিছু কিংবদন্তির কথা ভেসে আসে।চৌধুরি জাফরউল্লাহ শারাফাত তাদেরই একজন।শুনে নিশ্চই অবাক হচ্ছেন।কারন তিনি ত কোন ক্রিকেটার নন।তবে কেন তাকে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কিংবদন্তি বলছি ? তবে কারনটাও কারও কাছে অজানা নয়।তবে অনেকই হয়ত এটা জানেন না এই কিংবদন্তি ধারাভার্ষকার বিশ্বের একমাত্র ধারাভার্ষকার যিনি রেকর্ড সংখ্যক বিশ্বকাপ ক্রিকেটর ধারা বর্ণনা করেছেন।তার অনবদ্য কথার ভঙ্গিমা দর্শক মনে এমন ভাবে যায়গা করে নিয়েছে যে বর্তমানে অনেক বাংলা ধারাভার্ষকার তার অনুকরন করে থাকে।তবে অনেকেই হয়ত তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে থাকেন।কারন টা অতি সাধারন আর সেইটা তার কিছু মজার ধারাবর্ণনা (হতে পারে সেটা তার ভূল ছিল।আর মানুষ মাত্রই ভূল)।

পেশাগত জীবনের শুরু থেকে তিনি বাংলাদেশের সেরা ধারাভার্ষকার হতে চেয়েছেন।তিনি যখন বাংলাদেশ বেতারে সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন তখন তাকে বলা হয়েছিল তিনি কি আব্দুল হমিদ খান (তত্কালীন সেরা ধারাভার্ষকার) এর মত হতে পারবেন। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন আমি চৌধুরি জাফরউল্লাহ শারাফাত হতে পারব।অনন্য হবার ইচ্ছাটা হয়ত সেই দিনের উত্তরেই পেয়ে গিয়েছিলেন সবাই।তখন থেকে আজ অব্দি তিনি বাংলা ধারাভার্ষে অনন্যতার প্রমান দিয়ে যাচ্ছেন।বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংক এ স্বাধীন পরিচালক পদে নিযুক্ত আছেন।তার মতে পেশা এবং আবেগ আলাদা বিষয়।ধারাভার্ষ তার আবেগ।তাই তিনি তার আবেগকে পেশ হিসেবে নিতে রাজি নন।

তিনি এবারের বই মেলায় তার একটি আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। “শিখা প্রকাশনী” থেকে এই বইটি প্রকাশ করেন তিনি।বইটির নাম ছিল “আমি চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত বলছি”।বইটিতে তার ৩০বছরের পেশাগত জীবনের অনেক ছবি ও গল্প প্রকাশ করেছেন।এছারাও তিনি কিছু বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিও তেও নিজেস্ব ভঙ্গিমায় আমোদিত করেছেন।যার মধ্যে রবি পেসার হান্ট এবং উদিয়মান সঙ্গীত প্রযোজক এর “বেয়াইনসাব” এর মিউজিক ভিডিও অন্যতম।

চৌধুরি জাফরউল্লাহ শারাফাত  ১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল থেকে বাংলাদেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ধারাবর্ণনা করেছেন।এবং তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জিতবে এবং তিনি সেই ম্যাচটির ধারাবর্ণনা করবেন।

চলুন চৌধুরি জাফরউল্লাহ শারাফাত  এর কিছু মজার ধারাবর্ণনা দেখেনেই:

  • “ মোহাম্মদ আশরাফুল সুন্দর একটি শট এবং আউট ”
  • “ বাংলাদেশের আশার ফুল আশরাফুল কিন্তু এখন ক্রিজে, সারা দেশের মানুষ তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে আছে ”
  • “ এবার কিন্তু ব্যাট আর বলে হয়েছে ”
  • “ব্যাটসম্যান দেখে শুনে না খেলে ছেড়ে দিলেন এবং বোল্ড ”
  • “ আমাদের আজকের অতিথী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জীবন্ত কিংবদন্তী, বাংলাদেশেরে ক্রিকেটের এক অবিস্মরনীয় জাজ্জল্যমান তারকা, সবার জন্যে অনুকরনীয় উদাহরণ,যার পদচারনায় এই ক্রিকেট বিশ্ব উদ্ভাসিত হত, যিনি না থাকলে আজকের ক্রিকেট স্ব্য়ংসম্পূ্র্ণ হতো না, যার অবদান বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে এক অসাধারন উচ্চতায়, যার আত্বত্যাগ আমাদের কাছে চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবে, যিনি আজকের ক্রিকেটারদের কাছে এক অভিভাবক, তিনি সেই জীবন্ত কিংবদন্তী, তিনি সেই দমকা হাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য, তিনি সেই সেলিম শাহেদ ”
  • “ রফিক ষ্টীয়ার করলেন এবং ভেসে ভেসে চার ”
  • “ বল হাতে নিয়ে ছুটে আসছেন জয়ের মূল এনামুল, বল হাতে তার মতো ভয়ানক বোলার কিন্তু আমি খুব কমই দেখেছি, আজ কিন্তু যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে ”
  • “ এবার কিন্তু ব্যাটসম্যান সজোরে স্টীয়ার করলেন ”
  • “ এই মাত্র তামীম ইকবাল প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করার যোগ্যতা অর্জন করলেন ”
  • “ মেঘমুক্ত মাঠ, কর্দমাক্ত আকাশ, মাঠ চলে গেল বলের বাইরে। দুঃখিত দর্শকমন্ডলি, আমি একটু আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম, বল চলে গেল সীমানার বাইরে। ”
  • “ বোলার আকরাম খান তার ট্রাউজার খুলে আম্পায়ারের হাতে দিলেন ”
  • “ ব্যাটসম্যান সজোরে ব্যাট চালালেন, ছক্কা হওয়ার সম্ভাবনা, কিন্তু না, “বোল্ড” ”
  • “ দৃষ্টিনন্দন মার, চোখে চেয়ে দেখার মতো শট, বল চলে গেল মাটি কামড়ে সোজা ফাইন লেগে, ফিল্ডারের হাতে – একটি রান ”
  • “ এন’কালা – তিনি নামেও কালা, দেখতেও কালা ”
  • “ ব্যাটসম্যান অত্যন্ত আস্থার সাথে প্রতিটি বলের মেধা ও গুনাগুন বিচার করে খেলছেন ”
  • “ আম্পায়ারকে অতিক্রম করে বোলার বল করলেন ”
  • “ উইকেটে আছেন আমাদের মারমুখী হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান জাভেদ ওমর বেলিম। প্রচুর শট আছে তার হাতে। ”
  • “ স্কয়ার কাট করে বল পাঠিয়ে দিলেন লং অন দিয়ে সোজা সীমানার বাইরে ”

তার ধারাবর্ণনা মজার হলেও অপ্রাসঙ্গিক নয়।অথচ আমরা তার এই মজার বর্ণনা কে ব্যঙ্গ করতে পিছ পা হই না।তিনি যত মজার বর্ণনাই করুক না কেন কখন কোন দেশ বা জাতি কে কটাক্ষ করে কিছু বলেননি।অথচ বাংলাদেশের এই কিংবদন্তিকে বহিরবিশ্বের অনেকেই চেনেন না।তবে কি আমরা ব্যার্থ এই কিংবদন্তিকে বিশ্ব দরবারে  পরিচিত করে দিতে।তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমিদের মনে চির অমর হয়ে থাকবে তার মজার সব ধারাবর্ণনা গুল।হয়ত একদিন তিনি থাকবেন না তবে বাংলা ধারাভার্ষে তার অবদান নিয়েই এগিয়ে যাবে তার উত্তরসুরীরা।

আবদুল হামিদ, খোদা বক্স মৃধা, মিন্টু,চৌধুরি জাফরউল্লাহ শারাফাত আমরা আপনাদের প্রতি কৃতঙ্গ আছি ,ছিলাম এবং আজীবন থাকব।বাংলাদেশের ক্রিয়ঙ্গন আপনাদের কাছে ঋণি।আপনাদের বজ্র ধনি যেমন প্রকম্পিত করত দেশে ক্রিয়াঙ্গনকে তেমনি আবারো গর্জে উঠতে চায় দেশের তরুন সমাজ।শুধু প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষন এবং প্রশিক্ষক।

নিজেকে সার্থক মনে করি আপনাদের বজ্রকন্ঠে খেলার ধারাবর্ণনা শোনার সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরে।

ধন্যবাদ

 

 

About The Author
Abdul Mueez
Abdul Mueez
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment