Now Reading
বাংলাদেশ ক্রিকেটের হারিয়ে যাওয়া কিছু ক্রিকেটার



বাংলাদেশ ক্রিকেটের হারিয়ে যাওয়া কিছু ক্রিকেটার

আকরাম খান,আতাহার আলী খান,মিন্হাযুল আবেদীন নান্নু ,খালেদ মাহমুদ সুজন নাম গুল এক বার শুনলেই বলে দিতে পারবেন আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট এর কথা বলছি।সেই ১৯৭৯ থেকে শুরু এক ঐতিহাসিক যাত্রা।আনেক বধা সংগ্রাম এর মদ্ধে দিয়ে বাংলাদেশ পার করেছে ৩৮টি বছর।৩৮ বছরে পেয়েছি অনেক ক্রিকেট যোদ্ধা।যাদের অকৃত্তিম সাধনার ফল আাজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট।আজ বাংলাদেশের আছে বিশ্বমানের একাধিক প্লেয়ার।একজন আঘাত পেলে ৫ জন তার স্থানে যায়গা করে নিতে পারে।অথচ এই বাংলাদেশ পর্যাপ্ত ব্যাকআপ ক্রিকেটার না থাকার জন্য হারিয়েছে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার।আজ আপনাদের এমনই ৫ ক্রিকেটা এর কথা বলব।

  • তাপশ বৈশ্য :বাংলাদেশের পেস লাইন আপের এক সময়ের অটো চয়েস ছিলেন তাপশ বৈশ্য।মাশরাফির আগমনের আগে তিনিই ছিলেন পেস আ্যটাক এর মুল হাতিয়ার।মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন।এবং তিনই প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার যিনি ৯ম উইকেটে নেমে হাফ সেঞ্চুরি করেন।২১ আন্তর্জাতিক টেষ্ট ম্যাচ এ তিনি ৩৬ উইকেট সংগ্রহ করেন যা তত্কালিন একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার এর সর্বোচ্চ ছিল।২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া বধ এর মহাকাব্যিক ম্যাচ এর তিনি ছিলেন অন্যতম যোদ্ধা।২০০৭ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন।তিনি ২০০৮ সালে ভারতের বিদ্রহী ক্রিকেট লীগ(ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ) এ যোগ দান করেন।এবং এর ফল সরুপ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন।পরবর্তিতে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ এ বরিশাল বুল্স এর হয়ে খেলেন তবে ভাগ্যর পরিহাসে জাতিয় দলে ডাক পাননি।

 

  • তালহা যুবায়ের:ভাগ্য কতটা নির্মম হতে পারে তা হয়ত তালহার চেয়ে ভাল কেউ জানে না।২০০২ সালে তালহা মাশরাফি এবং তাপস বৈশ্যর সাথে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন।অনেকেই ভেবে ছিল তিনি বাংলাদেশ পেস এটাক এর অন্যতম ভীত হবেন।তবে ভাগ্য বিধাতা হয়তো তা চাননি।এ জন্যই হয়ত মাত্র ৭ টি টেস্ট এবং ৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এই থেমে যায় তার ক্যারিয়ার।তবে এই সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার এ তালহার আছে একটি অনবদ্য রেকর্ড।আর তা হলো সবচেয়ে কমবয়সী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা প্লেয়ার এর,মাত্র ১৬ বছর ২২৩ দিন এ খেলে এই রেকর্ড টি করেন। তিনি এই অল্প বয়স এই মারভান আতাপাত্তু এবং জয়সুরিয়ার মতো কিংবদন্তির উইকেট শিকার করতে সক্ষম হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি এন্ডি রবার্টসের মতে তালহা ছিলেন সেই সময়ের একজন জেনুইন পেসের। ইনজুরির কারণে ২০০৪ সালে বাদ পড়েন জাতীয় দল থেকে এর পর আর ফেরা হয়নি এই উদীয়মান ক্রিকেটার এর।

 

  • এনামুল হক জুনিয়র: ২০০৩ সালে ডেভ হোয়াটমোর দলের দায়িত্ব যাবার পর তার প্রথম কাজ হয় মোহাম্মদ রফিক এর যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজে বের করা। এবং অত্যান্ত সফলতার সাথে তিনি এনামুল হক জুনিয়রকে খুঁজে বের করেন। সিলেটি এই ক্রিকেটার এর অভিষেক হয় ২০০৩-০৪ সালে বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে। সবচেয়ে কনিষ্ঠ ক্রিকেটের হিসেবে সফরে গিয়েসিলেন তিনি। সফরের প্রথম টেস্ট এ ইংল্যান্ড প্রথম সেশনে বিনা রানে ৪ টি উইকেট হারিয়েছিলো। যার ৩ টি নিয়েছিলো এনামুল হক। এর পরের ইতিহাস ,তা সবার জানা ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ এর প্রথম টেস্ট জয়।ম্যাচ জয়ের নায়ক বনে গেলেন ৪৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে। এর পর নিয়মিত হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ এর টেস্ট স্কোয়াডে।তবে ২০০৯ সালের বাজে ফর্ম তাকে দল থেকে সরিয়ে দেয়। তবে ২০১৩ সালে ফিরেছিলেন টেস্ট স্কোয়াডে তবে বেশি দিন টিকে থাকতে পারেননি প্রতিযোগিতায়।

 

  • রাজিন সালেহ :বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যানের নাম বলতে বললে হয়তো তার নাম আসাটা অস্বাভাবিক কিসু না। তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপের একটি ভরসার নাম ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ উইকেট ধরে রাখার কৌশলে ছিলেন বিশেষ ভাবে দক্ষ। ২০০৫ সালের টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন রাজিন সালেহ। হাবিবুল বাসার ও তার ১১৫ রানের জুটিই যে বাংলাদেশ কে সেদিন জয়ের ভীত গড়ে দিয়েছিলো।২০০৪ সালে হাবিবুল বাসারের ইনজুরির কারণে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে পান নিজের একমাত্র সেঞ্চুরী। ২০০৮ সালে ভারতের বিদ্রোহী ক্রিকেট লীগের (ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ) কলঙ্কে পরে শেষ হয় তার উজ্জ্বল ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

 

  • আলোক কাপালি: বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। তার ব্যাটিং স্টাইল ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ড ব্রায়ান লারার সাথে তুলনা করা হতো। তিনি কন্সিস্টেন্ট ব্যাটসম্যানের অন্যতম উদাহরণ ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। মুলতানের সেই টেস্টের কথা যার মনে আছে তিনি হয়তো আলোক কাপালীকে ভুলবেন না। অল্পের জন্য হেরে হাওয়া বাংলাদেশ কে যে তিনি একই টেনে নিয়েছিলেন ওই পর্যন্ত। যদি ছোট কিছু ভুল না হতো হয়তো সেইটিই হতো বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। অনেকে হয়তো ভুলে গেছেন তার সেই হ্যাটট্রিক এর  কথা। হয়তো এইটাও জানেন না অলোক কাপালি বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক করেন। ২০০৮ সালে এশিয়া কাপে ৯৭ বলে ১১৫ রানের ইনিংস টাও হয়তো অনেকে ভুলে গেসেন।
    ভারতের কঙ্কিত ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগের কালো ছোবল তাকেও ছাড়েনি। তবে সেখানেও তিনি তার ক্লাস দেখিয়েছেন।তার ৬০ বলে ১০০ রানের ইনিংস টা দেখেছেন সবার হয়তো একটাই আফসোস ছিল। ইসঃ কেন যে এই ভুল টা করলেন। ২০১১ সালে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন কিন্তু টিকে থাকতে পারেননি প্রতিযোগিতায়।

ধন্যবাদ

 

About The Author
Abdul Mueez
Abdul Mueez
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment