সাহিত্য কথা

আবার দেখা হবে। পর্ব-২

মিতুর রক্ত দেয়া শেষ। এখন আমরা চলে যাচ্ছি। আম্মু ফোন দিয়েছে, তখন মনে হল সকালে আমার বড় খালার বাসায় যাওয়ার কথা ছিল।
হ্যালো, পাভেল। কয়টা বাজে এখন?
আম্মু, ২টা ১০।
সকালে না তোর বড় খালার বাসায় জাবার কথা ছিল। যাসনি কেনো? কোথায় তুই?
আম্মু, বৃষ্টির কারণে………
থাক। আমাকে লেম এক্সকিউজ দিবি না। রাস্তায় ঘুরাঘুরি বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি তোর বড় খালার বাসায় যা। তোর খালা আমাকে বারবার ফোন দিয়ে বলছে তুই নাকি এখনো উনাদের বাসায় যাসনি। তাড়াতাড়ি যা। বলেই আম্মু ফোন রেখে দিলো।
কে ফোন দিয়েছিলো?
আমার আম্মু।
অহ। আপনাকে শুধু শুধু বিপদে ফেলে দিলাম।
না না। ঠিক আছে। চলুন আপনাকে বাসে তুলে দেই। মহাখালী থেকে মিতুকে বাসে তুলে দিলাম। আমি বড় খালার বাসার দিকে হাঁটা ধরেছি। মিতু পিছনে থেকে ডাক দিয়ে দৌড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। আপনার মোবাইল নাম্বারটা দেয়া যাবে? যদি আপনার কোনো সমস্যা না থাকে। আপনার মত ভালো মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখা দরকার।
আচ্ছা নিন। ০১৭………………। বাসায় পৌঁছে জানাবেন। ভালো থাকবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

আমি বড় খালার বাসায় গেলাম। দরজা খুলল বড় খালা।
কিরে তোর আসার কথা সকাল ৯ টায়। এখন সাড়ে ৩ টা বাজে। ভিতরে আয়। দুপুরে কোথায় খেয়েছিস?
ঢাকা মেডিকেল।
ঢাকা মেডিকেল কেন? তুই কি অ্যাকসিডেন্ট করেছিলি ?
না। ব্লাড ডোনার নিয়ে গিয়েছিলাম।
আচ্ছা শোন কি কারণে তোকে আসতে বলেছি। আজকে সন্ধ্যায় রিমাকে দেখতে আসবে ছেলে পক্ষ। তোকে থাকতে হবে।
আমাকে কেন থাকতে হবে? দেখতে আসবে রিমাকে। আমি থেকে কি করবো।
কোনো কথা বলবি না। যা বলেছি তাই করবি। তুই গিয়ে বস। একটু পর রিমাকে নিয়ে পার্লারে যাবি।
আমি রিমার ঘরে গেলাম। পার্লারে যাবি কখন?
পাভেল ভাইয়া। তুমি কখন এলে? তোমার না সকালে আসার কথা ছিল।
একটা মহৎ কাজে দেরি হয়ে গেলো।
তোমার মহৎ কাজটি কি সেটা কি জানতে পারি?
পারিস। তবে এখন না, পরে বলবো। পার্লারে যাবি কখন ? বড় খালা বলল তোকে পার্লারে নিয়ে যেতে।
আমার একটা বান্ধবী আসবে, ওর জন্য অপেক্ষা করছি। তুমি বসে একটু রেস্ট নাও।
পিচ্চিটা কইরে রিমা? আমার বড় খালার দুই মেয়ে। রিমা আর সুমা। রিমা অনার্স সেকেন্ড ইয়ার আর সুমা ক্লাস এইট এ পড়ে।
সুমা আব্বুর সাথে বাইরে গেছে, এখনই চলে আসবে।
বড় খালা ভালই আয়োজন করেছেন। বাসায় পোলাও,রোস্ট, খাসির রেজালা,পায়েস করেছেন। সাথে রেস্টুরেন্ট থেকে চাইনিজ আনিয়ে রেখেছেন। বড় খালাকে বললাম এতো আয়োজন করার কি দরকার? এতো খাবার কে খাবে? উনারা কি মেয়ে দেখতে আসবেন নাকি পেটচুক্তি খেতে আসবেন?
আমার কথায় বড় খালা রেগে গেলেন। তুই চুপ থাক। তুই কি বুঝবি এসবের? নতুন একটা পরিবারের সাথে নতুন একটা সম্পর্ক হতে যাচ্ছে। একটু ভালভাবে খাতির না করলে চলে?
বড় খালু আর সুমা এসে পড়েছে। সাথে রিমার সেই বান্ধবীও এসেছে।
আমি,রিমা,সুমা আর রিমার বান্ধবী পার্লারে যাচ্ছি। বড় খালাদের গাড়িতে করে। এই প্রথম বাবের মত আমি বড় খালাদের গাড়িতে চড়লাম। ১৭ দিন হয়েছে নতুন গাড়ি কিনেছেন তাঁরা। গাড়ি কিনার দিন আমাকে সাথে যেতে বলেছিল, আমার ইচ্ছা ছিল না বলে যাইনি। তবে গাড়িটা বেশ সুন্দর। গাড়ির কালারটা বেশি ভালো লেগেছে। গাড়ির কালার কালো; আমার পছন্দের কালার। গাড়ির ভিতরের জায়গাও বেশ বড়। এসি চলছে, ড্রাইভার সাহেব এয়ারফ্রেশনার দেয়ার কারণে আমার ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে।
পাভেল ভাইয়া, আমরা পার্লারে চলে আসছি।
মেয়েদের সাজুগুজু বলে কথা। পাক্কা ২ ঘণ্টা লাগল। আমি অবশ্য গাড়িতে এতক্ষণ ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি, টেরই পাইনি।
আমার পকেটে ফোন বাজছে। আম্মু ফোন দিয়েছে।
হ্যালো পাভেল, তোর বড় আমাকে ফোন দিয়েছিল আবার। তুই আজকে তোর বড় খালার বাসায় থাকবি। বুঝেছিস?
জি, বুঝেছি।
আচ্ছা ঠিক আছে, আমি রাখলাম।
বড় খালার বাসায় ফিরে দেখি ছেলে পক্ষের লোকজন এসে পড়েছে। তাদের নাস্তা দেয়া হয়েছে। ছেলে পক্ষ থেকে মাত্র ৫ জন এসেছে। বড় খালার খাবারের আয়োজন দেখে আমি ভেবেছিলাম উনারা কমপক্ষে ১৫/১৬ জন আসবেন।
রাত নয়টা বাজে। ছেলে পক্ষের লোকজন মেয়ে দেখে চলে গেছে। আমার পেট একদম হাউজফুল। মেহমানদের সাথেই রাতের খাবার সেরে নিয়েছি আমি। বড় খালু আর আমি ছেলে পক্ষের সাথে খেয়েছি। আমি বারান্দায় চেয়ারে বসে আছি। সুমা এসে বলল, পাভেল ভাইয়া চল ছাদে যাই। আমাদের বাসার ছাদ থেকে আকাশের তারা দেখা যায় ভালো।
নারে, আজকে সারাদিন আমার শরীরের উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। আমার ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।
আমি গেস্ট রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম। আবার আমার মোবাইল বাজছে। কাচা ঘুম ভেঙ্গে গেল রিংটোনের শব্দে। রিসিভ করেই বিরক্তির স্বরে বললাম বারবার ফোন দাও কেন আম্মু? মাত্রই ঘুমিয়েছিলাম। কাচা ঘুমটা ভেঙ্গে দিলে।
আমি আপনার আম্মু না। আমি মিতু। চিনতে পেরেছেন?
অহ মিতু, আপনি। সরি, আমি ভেবেছিলাম আম্মু ফোন দিয়েছে। আই এম এক্সট্রিমলি সরি। মিতু মেয়েটার কণ্ঠ অনেক মধুর মনে হল আমার কাছে। আহ কি মায়াবী কণ্ঠ।
না না, আপনি সরি বলছেন কেন ? ভুলটা আসলে আমারই হয়েছে। আমি বুঝতে পারিনি আমি এতো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েন।
ইটস অকে। বলুন কি খবর? রাস্তায় কোনো অসুবিধা হয়নি তো?
না। সন্ধ্যার মধ্যেই আমি বাসায় চলে এসেছি। রাস্তা ফাকা ছিল। আজ সকালে আপনি আমার জন্য যা করলেন। আমি চিরকৃতজ্ঞ আপনার কাছে। আপনার কাচা ঘুম ভাঙ্গিয়ে আর বিরক্ত করবো না। ঘুমান। পরে কথা হবে।
পরদিন সকালে আমি আমাদের বাসায় চলে আসলাম।

চলবে………………………………………..

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ধ্রুবর কাহিনি (পর্ব ২)

Prashanta Deb

একটি রুপকথার গল্প

Fatematuz Zohora ( M. Tanya )

দুঃখ পূর্ণ জীবন (পর্ব ০১ )

Md.Abul Kalam Azad

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy