Now Reading
জাফলং ভ্রমণ



জাফলং ভ্রমণ

ভালবাসার আরেক নাম বাংলাদেশ 

খুব সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ । সবুজের ছায়া ঘেরা , নদী মাতৃক আমাদের এই সুন্দর দেশ । যতোই রুপ দেখবেন তারপরেও যেন দেখা শেষ হবে না । কবির ছন্দের মত আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ । ষড় ঋতুর এই দেশে যেন এক এক সময় রঙের খেলা শুরু হয় । যেমন ঋতুর খেলা আছে আমাদের দেশে ঠিক আবার এক এক জেলা যেন সেজেছে তার আপন রুপে । কোথাও পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা , আবার কোথাও সাগরের খেলা । কোথাও আবার নদীর মোহনা মীলিত হবার খেলা , কোথাও আবার সবুজে ঘেরা । অপরূপ আমাদের এই বাংলাদেশ ।

আজ জানবো আমরা সিলেট সম্পর্কে ।

শাহ্‌ পরানের দেশ সিলেট । শাহ্‌ জালালের দেশ সিলেট ।সুরমা নদীর দেশ সিলেট । এই রকম হাজারো নামে পরিচিত করা যায় সিলেট কে । বাংলাদেশের লন্ডন হল আমাদের এই সিলেট । কতই না সুন্দর  আমাদের এই সিলেট । কিছু দিন আগে ঘুরে আসলাম এই সিলেট নগরি।আজ তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিছু অভিজ্ঞতা।

সিলেটে কিছু দিন 

বেশ কিছু দিনের আগে থেকে প্ল্যান ছিল সিলেটের জাফলং গিয়ে ঘুরে আসবো । এর আগেও গিয়েছিলাম কিন্তু জাফলং যাওয়া হয়নি । এই বার আমি ও আমার কাছের এক বড় ভাই ঠিক করলাম ডিসেম্বর এর শেষের দিকে গিয়ে ঘুরে আসবো । যাই হক সিন্ধান্ত নিলাম ডিসেম্বার এর ২৩ তারিখ রাতে ট্রেন এ করেন সিলেট যাব। তাই ১৯ তারিখে আমরা ট্রেন এর টিকেট অগ্রিম কেটে নিলাম , তা না হলে সিট পাওয়া যাবে না। শোভন চেয়ার নিয়ে নিলাম ৩২০ টাকা কর । পারাবত ট্রেন ২৩ তারিখ বিকেল ৩.১০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবার কথা । আমরা ২.৩৫ মিনিটে প্লাটফর্মে হাজির হলাম । ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলা। কিন্তু কি এক না জানা কারনে ট্রেন ছাড়লও বিকেল ৪.৩০ মিনিটে । 

কিছু ক্ষনের মধ্যে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে শীত ধরিয়ে দিলা ।জানালার পাশে বসা ছিলাম , মনে হচ্ছিল রাস্তা পিছনের দিকে যাচ্ছে আর আমি এগিয়ে চলছি আমার গন্তবে । কিছু ক্ষনের মধ্যে আসে পড়লাম এয়ারপোর্ট এ । কিছু যাত্রী নিয়ে আবার ট্রেন চললো তার আপন গতিতে । জানালে দিয়ে দিনের শেষ আলোতে দেখা যাচ্ছিল জেলেরা মাছ ধরছে । আর কিছু মানুষ কাজ করছে সবজির ক্ষেতে । যেন তারা আমাদের জন্যই তৈরি করছে শীতের সবজি । কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িতে হরেক রকমের খাবার নিয়ে উঠলো ফেরিওয়ালারা । তখন প্রায় সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে । এর মধ্যে শরিফ ভাই দুই কাপ রঙ চা নিলেন ট্রেন এর ভিতর চা ওয়ালা থেকে । ভালোই লাগছিল জানালা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আর গরম গরম চায়ে চুমুক দেয়া , এ যেন এক স্বর্গের অনুভূতি । বাহিরে কুয়াশার জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।বাহিরে দূশ্য দেখতে দেখতে যে কখন চা এর কাপ থেকে চা শেষ হয়ে গিয়েছে টেরি পেলাম না । এর মধ্যে ট্রেনের এক যাত্রীর সাথে খুব ভাল খাতির হল আমার । উনি প্রবাসি ভাই । উনি থাকেন তুর্কি তে । উনি বিয়ে করেছেন এক ইজরাইল এর মেয়ে কে।উনার সাথে খুব ভাল একটা আড্ডা জমে উঠলো আমার।অনেক্ কথা হল আমাদের । এই দিকে গাড়ি চলছে তার গতিতে । কিছু দূর যাবার পর ট্রেন থেমে গেল । সামনে আরেকটি ট্রেন যাবে তাই তাকে রাস্তা দিচ্ছে । আমি ট্রেন থেকে নেমে সামনে বাজারে গিয়ে কয়েক টা গরম গরম চিতল পিঠা কিনে নিয়া আসলাম আর সাথে আনলাম ঝাল শুঁটকির ভর্তা । আমি শরিফ ভাই আর ট্রেন ভাইয়াটা খেলাম । কি যে মজা তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। শীতের বাতাসের আর কুয়াশার মধ্যে ট্রেন এ বসে পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম । কিছু দুর যাবার পর আবার ট্রেন থেমে গেল ক্রসিং এর জন্য । এরি মধ্যে আমরা আশুগঞ্জ এ আসে পড়লাম । সেখানে ট্রেন ৫ মিনিট এর মত দাঁড়ালো । আমি নেমে পড়লাম কিছু হালকা নাস্তা করার জন্য । কিছু নাস্তা নিয়ে উঠে গেলাম ট্রেন এ । ঘড়িতে তখন রাত ৯ বেজে ১০ মিনিট। কিছু ক্ষনের মধ্যে ট্রেন আবার যাত্রা শুরু করলো । কিছু ক্ষন চলার পর যখন ট্রেন আবার ক্রসিং এ পড়লো ঠিক তখনি ঘটলো এক ঘটনা । ট্রেন এর বগি থেকে চিৎকার এর শব্দ । দৌড়ে গেলাম । গিয়ে দেখি ক্রসিং এ থামার সময় ঐ মহিলা মোবাইলটা জানালার কাছে নিয়ে বসছিল , কোন এক লোক আসে তার মোবাইলটি টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছে । হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়ছিল । আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই সাবধান হয়ে গিয়ে ছিলাম । মাঠ ঘাঁট পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ট্রেন । জানালা থেকে খুব জমকালো একটি প্রাসাধ আমার চোখে পড়লো । সেটি ছিল কেল্লা শাহ্‌ এর মাজার শরীফ । শীতের সময় প্রায় সব মাজারে ওরস হয়ে থাকে । তখন ভক্ত দের ভীর জমে উঠে এই সব মাজারে।বাহিয়ের ঘন অন্ধকার আর কুয়াশা দেখে খুব ভালোই কাটছিল সময় গুলো।

About The Author
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment