Now Reading
নারী কে কি সমান অধিকার দেয়া উচিত?



নারী কে কি সমান অধিকার দেয়া উচিত?

নারীবাদী প্রধান বক্তব্য হচ্ছে “আমাদের সমান অধিকার দেয়া  হোক ।“

আচ্ছা আদৌ কি নারী দের সমান অধিকার দরকার?

না, আমি মনে করি নারীদের বেশী অধিকার দেয়া উচিত।

হ্যা, অনেক বেশী।

চিন্তা করুন তো, একটা মেয়ে/মহিলা বাসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, কেউ উঠে সিট দিচ্ছে না, সবাই ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে তাকে..

মেয়েটি/মহিলাটি অপমানে জ্বলছে,কিন্তু সে কাউকে মুখ ফুটে বলতে পাড়ছে না যে আমাকে একটা সিট ছেড়ে দিন, কারন সে একদিন সমান অধিকার নিয়ে অনেক হইচই করেছিলো।

কিন্তু আজকে সে বুঝতে পারছে তার আসলে বেশী অধিকার দরকার..

একটা মেয়ে বিবাহিত, পুরো সংসার টা তার সামলাতে হয়, পাশাপাশি সে অনেক স্ট্রাগল করে পড়ালেখা করছে, অন্য ছেলেদের মত সে পুরো গাইডলাইন টা পাচ্ছেনা, তাই তার রেজাল্ট হয়তো অন্য ছেলেদের থেকে একটু খারাপ হবে, তাহলে তাকে কি সমান চোখে দেখা উচিত নাকি কিছু বেশী অধিকার দেয়া উচিত?

হ্যা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি গুলো এসব দিক চিন্তা করেই পুরো খরচের উপর ছেলেদের থেকে মেয়েদের কিছুটা বেশী ওয়েভার দিয়ে থাকে। তাহলে কেনো আমরা সমান অধিকার নিয়ে হইচই করি? ইসলাম ধর্মে মেয়েদের পর্দা যেমন বাধ্যতামূলক তেমন তাদের অধিকার ও কিন্তু অনেক বেশী।

মেয়েদের বাবার বাড়িতে যেমন সম্পত্তি পাওনা থাকে, তেমনি তার স্বামীর দায়িত্ব ও থাকে স্ত্রীর সম্পুর্ন ভরণপোষণ বহন করার। আবার স্ত্রী ঘরে বসে থাকতেও বাধ্যতামূলক করেনি ইসলাম, পর্দায় থেকে শালীন থেকে সে ব্যবসা, চাকরী, পড়ালেখা সব করতে পারবে, এমন কি পড়ালেখা ফরজ!

বিয়ের সময় স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রী কে দেনমোহর দেয়া, স্ত্রীর কিন্তু স্বামী কে কোনো টাকা পয়সা দেয়ার দরকার নেই। আর মেয়েদের কি পরিমান সম্মানের চোখে দেখতে বলা হয়েছে তাতো বলে শেষ করাও বোধহয় সম্ভব নাহ

অথচ অনেক মেয়েরা এই অর্থ গুলো ভুল ভাবে বোঝে, তারা বেশী অধিকার পেয়েও সমান অধিকারে নেমে আসতে চায়!!

আচ্ছা একটু চিন্তা করি, সমান অধিকার কি সম্ভব? একটা ছেলে তো ছিড়া গেঞ্জি পরে বের হলেও কেউ তাকাবেনা, অথচ একটা মেয়ের জামার লম্বা টা কম হলেও মানুষ বাজে ভাবে তাকাবে। কতজন এর চোখ গালবেন বলেন?

আমাদের সমাজ টাই যে এমন…

মেয়েরা সমান অধিকার চাবে, কিন্তু তার কাজ করে দেয়ার জন্য তার ছেলেবন্ধু কিন্তু লাগে..

আমি ইউনিভার্সিটি তে দেখি, একটা ফ্রেন্ড সার্কেল এ মেয়েরা ছেলে দের বলছে দোস্ত এটা এনে দে, ওটা এনে দে..

হ্যা ফ্রেন্ড হিসেবে আমিও বলি, ওরা হেল্প ও করে? কেন করে?

কারন মেয়েরা অমূল্য & মারাত্মক সম্মানের একটা জাতি, তারা শুধু মানুষ ই নয়, কিছুটা বেশী।

তারা জন্ম দেয়, তারা মা হয়, যে প্রতিভাবান সন্তান জন্ম দিয়ে হয় রত্নগর্ভা।

তারা কারো স্ত্রী হয় যার মুখ খানা দেখে তার স্বামী সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যায়।

তারা কারো বোন হয় যে ভাইকে হতাশ দেখে পাশে বসে সান্তনা দেয়।

তারা শাশুড়ি হয়, আরেক ঘরের মেয়েটিকে নিজের মেয়ের মত বুকে টেনে নেয়।

নারী মুল্যবান। নারী সম্মানের যোগ্য।

এটা পুরুষ এর আগে নারীকে নিজের বুঝতে হবে। নারী কে যদি সমান অধিকারের জন্য কাদতে হয় তাহলে এর চেয়ে দুর্গতি আর কি আছে?

তাকে ইতিমধ্যে যে বেশী অধিকার দেয়া হয়েছে তা নিয়েই নারীর এগিয়ে যেতে হবে এবং সবাই কে সাহায্য করতে হবে। নারী নিজে যদি নিজেকে আগে সম্মান করতে জানে, তাহলে অন্যরা তাকে সম্মান করবে।

নারী যদি নিজে সস্তা আচরন করে সে কিভাবে সম্মান পাবে?

একটি ছেলের কাধে দামী ক্যামেরা আছে, মেয়েটি যদি তার পেছনে বেহায়ার মত ঘুরতে থাকে, তার একটি ছবি তুলে দেয়ার জন্য, তাতে কি তার সম্মান টা বাড়ে? নারী যদি ফেসবুকে হাজার হাজার ফলোয়ার পাওয়ার জন্য নিজের মুল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে অসামাজিক ছবি দিতে থাকে,এতে কি তার সম্মান বাড়ে? নারী যদি একটি ছেলের সাথে ১০ বছর সম্পর্কে থাকার পর তাকে ছেড়ে চলে যায় অন্য একটি ছেলের  কাছে , শুধুমাত্র অন্য ছেলেটি বেশী ধনী এ কারনে, এতে কি নারীর সম্মান বাড়ে?

সকল নারী দের উদ্দেশ্যে বলছি, তোমরা আগে নিজের মুল্যবোধ, সম্মান রক্ষা করো। নিজেদের নীতিগুলো শক্তিশালী করো। একদিন নিশ্চই তোমাদের প্রাপ্য সম্মান টুকু পাবে। ভুলে যেয়ো না, যে পুরুষ কে তুমি জন্ম দাও তার ক্ষমতা নেই তোমাকে অসম্মান করার, তুমি তার চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী।

কেনো একটি পুরুষ মানুষ তোমাকে অপমান করবে? তোমাকে রাস্তায় অসম্মান করলে তুমি চুপ করে শুধু কাঁদবে কেনো? প্রতিবাদ করতে শেখো।

আর যে তোমাকে সম্মান করছে তাকেও তুমি সম্মান করতে শেখো। বেশী সুযোগ ভোগ করতে গিয়ে বিনয় হারিয়ে ফেলো না যেনো। নারী তুমি অন্যদের অনুপ্রেরণা দিতে শেখো। নিজেকে একটি বিশাল উদাহরণ এ পরিনত করতে শেখো, যেনো তোমার পরের প্রজন্মের নারীরা তোমার নাম শুনে চোখ উজ্জ্বল করে বলে, আরে! উনিতো আমার আদর্শ!!! উনার মত হতে চাই আমি…

পবিত্র কোরানে একটি উক্তি আছে –

” তারা(স্ত্রী রা) তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাঁহাদের পোশাক” (সুরাহ বাকারা, আয়াত ১৮৭)

এই একটি আয়াতেই বোঝা যায়, শুধু স্ত্রী কেই বলা হয়নি তুমি স্বামীর সেবা করো, স্বামী কেও বলা হয়েছে সমান সেবা তার স্ত্রী কে করতে।

এ থেকে এই ব্যাপার টা পরিষ্কার যে নারীর অধিকার পুরুষ এর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং অনেকাংশে বেশী। শেষ একটি কথাই শুধু বলতে চাই,

It’s a man’s

Job to respect

WOMAN.

But it’s a woman’s

Job to give him

Something to RESPECT”

 

About The Author
Mrinmoyi Jahan
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment