Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – ২য় পর্ব



জাফলং ভ্রমণ – ২য় পর্ব

দেখতে দেখতে চলে আসলাম হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এ ।

ট্রেন কিছু সময় এর জন্য এইখানে থামলো। আমি নেমে পড়লাম একটু হাটা হাটির জন্য । স্টেশনটা আমার খুব পরিচিত । নানার বাড়ি হবার কারনে। রুটি ও ভাঁজি নিয়ে উঠে পড়লাম ট্রেনে। খুব ধীরগতিতে ট্রেন চলছে , যখনি চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গল পার হল তখন ট্রেনের স্প্রিড বাড়িয়ে দেয়া হল।ঘন কুয়াসা থাকার কারনে বাহিয়ের পরিবেশটা উপভোগ করতে পারছিলাম না।যাই হক অনেক প্রতীক্ষার পর ঠিক রাত ১২.৩০ মিনিটে আসে পড়লাম সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এ । আমার সবাই ক্লান্ত।অনেক বছর পর সিলেটে এসেছি ।রাত হবার কারনে আমাদের কাছে সিলেট শহরটাকে খুব অপরিচিত লাগছে । স্টেশন থেকে বের হবার পথে পড়লাম আরেক ঝামেলায় । আমাদের সাথে ট্রেনে যার পরিচয় হয়েছিল তিনি টিকিট করে ছিলেন শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত । স্টেশন মাষ্টার তাকে প্লাটফর্মে আটকিয়ে দিয়েছে । পরে শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেটের ভাড়া সম্পুনটা তাকে দিতে হয়েছে । তাই আমারা যারা সিলেট ভ্রমণে বের হব তারা যেন টিকিটের ব্যাপার টা খেয়াল রাখি ।

স্টেশন থেকে বের হতে বিভিন্ন CNG ও ট্যাক্সি ড্রাইভাররা ডাকতে শুরু করলো । আপনি তাদের কোন কথায় কান দিবে না,। সোজা বের হয়ে যাবেন । আমরাও তাই করলাম বের হয়ে গিয়ে দেখি একটা খাবারের দোকান খোলা । সেখান থেকে তিন জন খেয়ে নিলাম । আমি ডিম দিয়ে ভাত খেলাম অন্য দুই জন রুটি আর ভাঁজি খেল ।

খাবারের রিভিউ ঃ খুব জঘন্য খাবার ছিল।একদম টেস্ট ছিল না ।রুটি ছিলা তেলে ভরা মনে হয় ডুবো তেলে ভেজে নিয়ে এসেছে । আর ভাঁজি নিয়ে তো কোন কথাই হবে না । অন্তত এই গুলো না খেয়ে খালি পেটে থাকা ভাল ছিল।
রুটি – ৩/১০
ভাঁজি – ২/১০
ডিম ভাজা – ৫.৫/১০
ভাত – ৫/১০

যাই হক কোন রকম খেয়ে আশে পাশের মানুষ কে জিজ্ঞাস করেন নিলাম যে হোটেল কোথায় ভাল হবে । প্রায় সবাই বললো দর্গার কাছে ভাল হোটেল পাওয়া যাবে । নিয়ে নিলাম সিএনজি। ভাড়া নিয়েছে ২৫ টাকা করে । আপনি রাতের অন্ধকারে এক অন্য রকম সিলেট কে দেখতে পাবেন। রাতের বেলা যখন আপনি ক্রিন ব্রিজে উঠবেন তখন আপনার মন ভরে যাবে। চোখে ঘুম আর শরীরে ক্লান্ত নিয়ে এসে পড়লাম দর্গার গেটে ।

আপনাকে সিএনজি ওয়ালা রাস্তায় নামিয়ে দিতে চাইবে আপনি বলবেন ভিতরে যেতে । তা না হলে আপনাকে অনেক টা পথ হেটে যেতে হবে।

যখন গিয়ে নামলাম দেখলাম কিছু হোটেল এর লোক আমাদের ডাকছে । আমরা তাদের ডাকে সারা দিয়ে গেলাম ৩ বেডের রুম তার চেয়েছে ২ হাজার টাকা। মোটা মুটি সব হোটেলে আপনি ১২০০ টাকার নিয়ে সিঙ্গেল বেডের রুম পাবেন । আমরা আর রুম নিলাম না। দর্গার গেট দিয়ে বের হয়ে এক সিকিউরিটি কে বললাম কম দামে কোথায় ভাল রুম পাওয়া যাবে । উনি আমাদের কে কদমতলি বাজারে যেতে বললেন । রাত তখন প্রায় ১.৩০ বাজে ।
কদমতলি কাউকে জিজ্ঞাস করে হেটে যাবেন । সময় ১৫ মিনিট এর মত লাগবে । আর তা না হলে আমাদের মত করে সিএনজি ভাড়া ২০ টাকা করে দিতে হবে । কদমতলি গিয়ে দেখি সব হোটেল এর দরজা বন্ধ করে দিয়ে ম্যনেজার ঘুমাচ্ছে । প্রথমে তারা আপনাকে বলবে রুম নেই । একটু বিনয়ের সাথে বললে তারা রুম দিয়ে দিবে । কারন রাত ১ টার পর তারা সাধারনত কাউকে রুম ভাড়া দিতে চায় না।

আমরা দুই রুম নিয়ে নিলাম । রুমের দাম শুনে আমার মত আপনিও অবাক হবেন । দুই বেডের রুম ভাড়া মাত্র ১৮০ টাকা আর সিঙ্গেল রুম টিভি সহ ১৫০ আর টিভি ছাড়া ১২০ । যারা গ্রুপ নিয়ে যাবেন আমি তাদের বলবো এই খানে রুম্ নিলে টাকা বেচে যাবে । আর যারা ফ্যামিলি নিয়ে যাবেন তাদের জন্য দর্গার কাছে রুম নেয়া ভাল।

আমরা দুই ভাই সারা রাত ঘুমাতে পারিনি । রুম গুলো কেমন জানি প্যারানমাল লাগছিল আমার কাছে। কেমন যেন গা ছম ছম করছে । এইটা যে নিছক মনের ভয় তা বুঝতে পারছিলাম কিন্তু ভয় লাগছে এইটাই ছিলা বড় কথা । ;যখন আমি আমার রুম মেট কে বললাম উনিও কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন। সারা রাত জেগে রইলাম । আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিলাম রাত খানা । সারা দিনের ক্লান্ত শরীর আর রাত জাগা এক অন্য রকম অনুভূতি । অবশ্য ভাল অনুভূতি যে নয় তা আপনরা লেখা পড়েই বুঝতে পারছেন ।

ফজরের আজান দেয়ার সাথে সাথে আমরা দুই ভাই ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম চাবিটা কাউন্টারে জমা দিয়ে । প্রথমে আমাদের উদ্দেশ্য হল আমরা মাজার জিয়ারত করবো। রাতের মত আর সিএনজি নিয়ে ভুল করলাম না। হেটে হেটে চলে আসলাম শাহ্‌ জালাল এর মাজারে ।

শাহ্‌ জ্বালাল এর মাজার

আপনি যখন শাহ্‌ জালাল এর মাজারে ঢুকবেন প্রহতমেই আপনার চোখে পড়বে এক জায়গায় মানুষের ভিড় । ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখি সবাই জালালি কবুতরকে সবাই খাবার কিনে খাওয়াচ্ছে ।

( চলবে )

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment