Now Reading
13 Reasons Why Review.



13 Reasons Why Review.

কথায় আছে বিন্দু বিন্দু জল মিলে একটি সাগর গড়ে তুলতে পারে।

তেমনি অনেক বড় বড় ঘটনার পেছনেও ছোট ছোট অনেক গুলি কারন থাকে। এরকম আরেকটা টার্ম আছে, তা হচ্ছে “বাটারফ্লাই ইফেক্ট ”

‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ টার্মটির সাথে আমাদের অনেকেরই পরিচয় আছে।

যাদের নেই, তাদেরও পরিচয় এই লেখাটি পড়তে শুরু করলে হয়ে যাবে।

বাটারফ্লাই অর্থাৎ প্রজাপতি, আর ইফেক্টের অর্থ প্রভাব। বিজ্ঞান বলে, মহাকাশের কোথাও একটা প্রজাপতি যদি ডানা ঝাপটায় তবে অন্য কোন কক্ষপথে তার প্রভাবে তুমুল সাইক্লোনও আঘাত আনতে পারে আর এই ব্যাপারটিকেই বৈজ্ঞানিক টার্মে বলে ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’। অর্থাৎ প্রত্যেকটি ক্রিয়ার একটি বিপরীত প্রক্রিয়া আছে, যা মাঝে মাঝেই এমন কোন রুপ ধারন করে ফেলে যা আমরা হয়তো ক্ষুদ্র জ্ঞানে বা অজ্ঞানে জানতে পারি না।

এই যে আপনি নিছক আনন্দের জন্য বাসে একটি মেয়ের শরীরের ব্যক্তিগত কোন অংশ স্পর্শ করে হেঁটে চলে গেলেন, আপনার সেই আনন্দটিই এই মেয়েটির জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণার কারন হয়ে যেতে পারে?

ক্লাসে কোনো একটি মেয়ের নামে বাজে গুজব শুনলেন আপনি,অথচ আপনি হয়তো জানেন ই না কথাটা আদৌ সত্য কিনা। কিন্তু আপনি ঠিক ই মেয়েটাকে জাজ করে ফেললেন? মেয়েটা খারাপ মেয়ে নামে পরিচিত হয়ে গেলো.. কি হবে তখন মেয়েটার অবস্থা? তার জীবন টা উলট পালট হয়ে যাবে নাতো?

এমন ই এক হাইস্কুল পড়ুয়া ১৭ বছরের একটি মেয়ের জীবন এর ঘটনা দেখানো হয় “13 Reasons Why” সিরিজ টিতে।

হ্যানা বেকার নামে একটি মেয়ে হঠাত তার বাসার বাথটাব এ হাত কেটে সুইসাইড করে এবং এই ভয়ানক ডিসিশান নেয়ার কারন হিসেবে সে ১৩ জন মানুষ কে দায়ী করে কিছু ক্যাসেট রেকর্ড করে যায়.. হ্যানার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরে তার বন্ধু ক্লে জেনসন তার বাসার নিচে এই ১৩টা ক্যাসেট আবিষ্কার করে এবং পরবর্তীতে বিস্ময়ের সাথে সে বের করে, এই ১৩টি কারণের মধ্যে সে নিজেও একটি কারন! এরপর থেকেই ক্লে’র জীবন হুট করে বদলে যায়। তারই সহপাঠীদের এমন সব রূপ তার চোখে ধরা পড়ে যা হয়তোবা তারা নিজেরাও কখনো আবিষ্কার করেনি। একটি আত্মহত্যা বদলে দেয় অনেকগুলো জীবন।

এই সিরিজটি দেখতে যেয়ে আপনার প্রথমেই মনে হবে ‘এত ছোট ঘটনায় কেউ আত্নহত্যা করে? মেয়েটা নিশ্চয়ই খালি অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চায়! কিন্তু ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে যে, যেটি এই মুহূর্তে সামান্য একটি ঘটনা, সেটা হয়তো কোনো জীবনের সবচাইতে বড় দুর্ঘটনার শুরু। ‘তোমার তো সবার সাথেই সমস্যা। কেউই তো তোমাকে পছন্দ করে না। সমস্যাটি তোমার ভিতরেই’- কয়েক মাস আগেই আমি আমার এক পরিচিত সিনিয়রের কাছ থেকে এমন একটি মন্তব্য শুনে প্রায় বিশ্বাস করে বসেছিলাম যে সমস্যা আমার,আমি ‘আনওয়ান্টেড’। আমি জানি, এই ছোট তিনটা লাইন যে বলেছে, তা তার কাছে কিছুই না। কিন্তু যাকে বলা হয়েছে, তার গোছানো ভেতরের দুনিয়াটা উল্টে-পাল্টে দিতে সক্ষম।

এই সিরিজে হ্যানা ব্যাকারের সাথেও প্রতি মুহূর্তেই ছোট থেকে বড় ঘটনা ঘটছে এবং প্রতিবারই হ্যানা চেষ্টা করেছে সেগুলো থেকে বেরিয়ে নতুন করে শুরু করার এবং আবারো তার সাথে খুব ছোট থেকে বড় কিছু ঘটেছে। সোশাল মিডিয়া, পার্টি, চেক-ইন আর ক্যুল সাজার চেষ্টায় আমরা যার সাথে ইচ্ছা তার সাথেই কোন একটা প্র্যাঙ্ক বা বিচ্ছিরি মজা করে বসছি…

পাশের মানুষটাই হয়তো জীবনের কোন একটি বা অনেকগুলো ঘটনায় অনেক বেশী কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু এত কোলাহলে আমরা সবচাইতে কাছের শব্দটিও শুনতে পারছি না। যেটা হয়তো আমার কাছে বা আপনার কাছে নিতান্তই “ফান”, সেটাই হয়তো কারো কাছে লজ্জা, ভয়, ইনসিকিরিটির কারণ। যে মানুষটি সুইসাইডের মত এত বড় একটি দুর্ঘটনা, ভয়াবহ কাজটি নিজের সাথে করতে যাচ্ছে- কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনো কারণে যে আপনিও যেখানে দায়ী না, সেটা আপনি নিশ্চিত তো?

‘Thirteen Reasons Why’ আপনাকে ভাবাবে, জানাবে যে আপনার উচিৎ আরো একটু যত্নবান হওয়া। আপনার পাশেই আছে- এমন কোন বিপদগামী মানুষকে সব কিছু ছেড়ে একটুখানি সময় দেওয়া, আর নিজের অজান্তে বা জেনেশুনেই যে ছোট ছোট ভুলগুলো আমরা কিছু না বুঝেই করছি, তা অন্যের জীবনে সাইক্লোনের আঘাত হতে পারে- সেটাও খেয়াল রাখা। আর যে মানুষগুলো ভাবছে যে ‘আপনি একা’, ‘আপনি আনওয়ান্টেড’- আপনি আসলে একা না, আপনার মতো, আপনার পরিস্থিতিতে অনেকে আছে, অনেক বেশিই খারাপ আছে। নিজেকে সাহায্য করার ক্ষমতা শুধুই আপনার নিজের।

এই সিরিজ টা একেক জনের কাছে একেক রকমের লাগবে,কারো কারো মনে হবে অনেক কিছু অতিরঞ্জিত। কিন্তু আসলে বুঝতে হবে পরিচালক এভারেজ মানুষ এর দৃস্টিকোণ থেকে ঘটনা টি দেখান নি, বরং ১৭ বছরের তরুনী হ্যানা বেকার এর দৃস্টিকোণ থেকেই দেখিয়েছেন। সবার কাছে যেটা স্বাভাবিক, উঠতি বয়সি একজিন তরুনীর কাছে তা স্বাভাবিক নাও হতে পারে। হয়তো ছোট কিছু সাপোর্ট ও তার কাছে অনেক, আবার অনেক ছোট অবহেলাপূর্ণ ব্যাবহার ও তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। সিরিজ টার ১৩ টি পর্বের ১৩ টা ঘন্টা যেনো শুধু বিষন্নতায় কেটেছে আমার।

IMDB রেটিং: ৮.৭/১০

আমার রেটিং : ৯/১০

বি.দ্র. : মুভিতে হ্যানাহ চরিত্রে অভিনয় করেন ক্যাথারিন ল্যংফোর্ড। এবং ক্লে চরিত্রে ডিলান মিনেট। ক্যাথারিন অভিনয়ে আসেন ইউটিউব এ গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পাবার পরে।

About The Author
Mrinmoyi Jahan
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment