Now Reading
শিরোনামহীন – একটি ভালবাসার নাম



শিরোনামহীন – একটি ভালবাসার নাম

“আনন্দ উৎসব চেনা চেনা সব খানে এরই মাঝে চলো মোরা হারিয়ে যাই”

লাইন টা পরিচিতি না এমন মানুষ পাওয়া অনেক দুষ্কর। তবে এক শ্রেণীর লোক পাওয়া যাবে যারা এই লাইন টার সাথে পরিচিত না। তারা পরিচিতি “মেরি আশিকি আব তুম হি হো” লাইন টার সাথে। যা হোক তাদের কথা বলে আর লেখার সৈন্দর্য টা নষ্ট করতে চাই না। আমাদের দেশের একটা অনেক বড় গর্বের জায়গা জুড়ে আছে আমাদের দেশের ব্যান্ড গুলো। যাদের মধ্যে অন্যতম একটা ব্যান্ড হচ্ছে “শিরোনামহীন”। সেই ১৯৯৬ সালে বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়া থেকে জিয়া, জুয়েল এবং বুলবুল নামের তিনজন মানুষ এর হাত ধরে ব্যান্ড টা উঠে আসে। পরে ২০০০ সালে তাদের সাথে যোগ  দেয় তুহিন। তারপরেই তারা শুরু করে অন্য ধরণের বাংলা গান। গানগুলো তে একটা অন্যরকম আবেগ মিশে আছে। গানের কথাগুলো একটু মনযোগ দিয়ে শুনলেই বুঝবেন। প্রকৃতি থেকে বেছে নেওয়া এক একটা ভাল লাগা, খারাপ লাগা থেকে তাদের গানগুলো। যখন কানে ইয়ারফোন দিয়ে বন্ধ জানালা, হাসিমুখ আর পাখির মত গানগুলো চলে। তখন তার মধ্যে বিভোর না হয়ে আর থাকা সম্ভব না। পশ্চিমা আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সফল মিশ্রণ তারা দেখিয়েছে। আর যাতে তাদের সব গানগুলা প্রকাশ পেয়েছে অন্যান্য বাংলা ব্যান্ডের থেকে আলাদাভাবে।

শিরোনামহীন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে জিয়া, বুলবুল এবং জুয়েল এর হাত ধরে। পরবর্তীতে ২০০০ সালে ব্যান্ডে ভোকালিষ্ট হিসাবে যোগ দেন তুহিন ভাই। তখন জুয়েল ভাই গীটার বাজাতেন, আর জিয়া ভাই বেজ গীটার বাজাতেন সাথে গান লেখা আর সুর করার কাজও তিনিই করতেন। পরবর্তীতে ফারহান ভাই, প্রিন্স ভাই, তুষার ভাই, রাজিব ভাই যোগ দেন ব্যান্ডের সাথে। ব্যান্ড শুরু করার প্রায় ৮ বছর পর শিরোনামহীন তাদের প্রথ এলবাম প্রকাশ করে। “জাহাজী” নামের এলবাম দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেয় ৫ জন অদম্য তরুণ। জাহাজী এলবাম বের হওয়ার পর মানুষের মুখে মুখে যে গানটি শোনা যেত সেই গানটি হাসিমুখ। প্রথম এলবামের এই গানটি দিয়েই হাজারো শ্রোতার মনে জায়গা করে নেয় তারা। এর পরেই আসে ইচ্ছে ঘুড়ি এলবামটি। এই এলবাম শিরোনামহীন প্রেমীদের জন্য ছিল এক বিশাল উপহার। “একা পাখি বসে আছে শহূরে দেয়ালে” , “এই হাওয়ায়  ওড়াও তোমার ইচ্ছে ঘুড়ি” লাইনগুলো আবারো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গেল। ২০০৫ সালে পাখি গানটা সেরা মিউজিক ভিডিওর জন্য পুরষ্কার পায়। পরের এলবাম “বন্ধ জানালা” । আর পরের এলবাম মানে আরো কিছু উপহার শ্রোতাদের জন্য। এই এলবামের উল্ল্যেখযোগ্য কিছু গান হল, বন্ধ জানালা, বাংলাদেশ, ক্যাফেটেরিয়া, ভালবাসা মেঘ, বুলেট কিংবা কবিতা। এর মাঝে ব্যান্ডে ড্রামার হিসাবে যোগ দেন শাফিন ভাই, কীবোর্ডিস্ট হিসাবে যোগ দেন রাসেল ভাই এবং সবশেষে গিটারিস্ট হিসাবে যোগ দেন দিয়াত ভাই। পরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গান নতুনভাবে কভার করে তারা শ্রোতাদের উপহার দেয় “শিরোনামহীন রবীন্দ্রনাথ”। শিরোনামহীন এর এখন পর্যন্ত সর্বশেষ এলবাম এসেছে ২০১২ সালে “শিরোনামহীন শিরোনামহীন”। এই এলবামে তারা তাদের সবচেয়ে আলচিত গানটার সিকুয়েল করে “আবার হাসিমুখ” যে গানটি শ্রোতাদের আবারো সেই শিরোনামহীন এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

আপনি যদি ইয়ারফোন দিয়ে তাদের গান মন দিয়ে শোনের তাহলে আর আআর নতুন করে ব্যাখ্যা করার কিছু নাই। মূলত গানের কথাগুলো আমাকে তাদের গানের প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে। আমি প্রথম শুনেছিলাম ছোটবেলায় আমার ভাইয়ার ফোনে । ভাইয়া ফোনে একটা গান শুনছিল “তুমি চেয়ে আছো তাই আমি পথে হেটে যায়, হেটে হেটে বহুদুর, বহুদূর যেতে চাই” আমি আরো কান পেতে বাকি গানটুকু শুনলাম। গানটা মনে গেথে গেল। আমার তো ফোন ছিল না যে গানটা শুনবো। কিছুদিন পরে এভাবেই শুনলাম আরেকটা গান “সারা বেলা বন্ধ জানালা” ফোন পাওয়ার পর আস্তে আস্তে তাদের বাকি গান গুলো খুজে বের করলাম। তাদের সম্পর্কে দিন দিন আরো আগ্রহ বেড়ে যেতে লাগলো।

“যখন কিশোরীর হাতে সূতোয় বোনা সবুজ গ্রাম” দেশকে নিয়ে অন্যরকম একটা লেখা। অন্যরকম এক সূর। বাংলাদেশ এর রূপ বৈচিত্র অন্যভাবে ফুটিয়ে  তোলা হয়েছে । “যদি ইচ্ছের নীল রঙ আকাশ ছুয়ে যায়, সারা বেলা বন্ধ জানালা” যখন শুনি শরীরের লোম গুলো দাঁড়িয়ে যায়। একজন একা মানুষ এর চাওয়া পাওয়া , তার স্বাধীনতার কথা বলে শিরোনামহীন। যান্ত্রিক শহরের প্রতিটা রাজপথ এর কথা বলে শিরোনামহীন। দিয়াত ভাই এর গীটার থেকে ভেসে আসে প্রতিবাদের সূর। রাসেল ভাই এর কীবোর্ড থেকে মাটির গন্ধ পাই। শাফিন ভাই এর ড্রামের ছন্দে এক অন্যরম ভাল লাগা কাজ করে। আর জিয়া ভাই এর কথা গুলো যখন তুহিন ভাই এর কন্ঠে ভেসে আসে তখন আর চুপ করে থাকা যায় না। আপনাকে গানে গলা মেলাতেই হবে। বসে থাকা সম্ভব না।

প্রথম দিকে শিরোনামহীন বুয়েটের ক্যাম্পাসে আর রাস্তায় মানুষের মাঝে গান গাইতো। তাদের প্রথম অফিসিয়াল কনসার্টে উঠার সময় তাদের ব্যান্ডের কোন নাম ছিল না। কন্সার্টের সময় অনেকে নাম জানতে চাইলে তারা কোন নাম বলতে পারে নি। পরে ব্যান্ডটির নাম দেওয়া হয় “শিরোনামহীন” অর্থাৎ যার কোন নাম নেই। এখনও যদি তারা স্টেজে ওঠে স্টেজের সামনের মানুষগুলো নিজেদের আটকে রাখতে পারে না। তুহিন ভাই এর সাথে শোনা যায় হাজারো কন্ঠস্বর। যে গানগুলোর জন্য হাজারো মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তারা। সেই গানের জন্যই মানুষ তাদের কনসার্টে ছুটে যায়।

একা পাখি বসে থাকুক দেয়ালে, জানালাটা সারা বেলা বন্ধ না থাক, বুলেট কিংবা কবিতার খাতায় ৫ জন কবির নাম লেখা থাক তাদের ইচ্ছে ঘুড়ির সাথে, আমাদের ভালবাসা নিয়ে হেটে হেটে বহুদূর চলে যাক শিরোনামহীন। ভালবাসায় বেচে থাক শিরোনামহীন !!

ছবিঃ গুগল

About The Author
Ahmmed Abir
Ahmmed Abir
জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বাচতে শিখেছি। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করে সামনে এগিয়ে যেতে শিখেছি। পছন্দ করি গান গাইতে গীটার বাজাতে আর গেইম খেলতে।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment