Now Reading
মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০২)



মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০২)

আমি পূর্বের অংশে ডায়াবেটিসের দুইটা কারনের কথা উল্লেখ করেছি, আসলে দুইটা সমস্যা  কি কারনে হইতেছে,

একটা উদাহরণ দিয়ে একটু সহজ করে দিই,

মনে করেন, আপনি ভাতের সাথে কিছু পরিমান কাকর মিশ্রিত করলেন।  ভাতের চাউল  গুলো দেখতে সাদা, কাকরগুলো দেখতে সাদা তো আপনি মিশ্রিত করে সেগুলো রান্না করলেন এবং কাউকে বললেন, ভাই তুমি এগুলো খাও।  তো সে এক চামচ মুখে দিয়ে বলবে এগুলোর মধ্যে কাকর আছে, দুখিঃত আমি এগুলো খেতে পারবোনা।  তো আপনি যদি তাকে জোর করে জিনিসটা (কাকর মিশ্রিত ভাত) খাওয়ান তাহলে একপর্যায়ে তার দাতগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

তো বিষয়টি ঠিক এরকম, আমাদের যে ডাইজেস্টিক সিস্টেম বা আমাদের যে পরিপাক তন্ত্র এর মধ্যে ভাত হতে শুরু করে সকল প্রাকৃতিক খাদ্য হজম করার জন্য যা যা এনজাইম দরকার তা সৃষ্টিকর্তা দিয়ে দিছে।  প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট, ফ্যাট সকল কিছু হজম করার উপাদান আমাদের শরীরে আছে।  কিন্তু চিনির সাথে যোগ করা কেমিকেলকে হজম করার জন্য কোন এনজাইম নাই, রিফাইন তেলের সাথে যোগ করা কেমিকেলকে হজম করার জন্য কোন এনজাইম নাই। সুতরা এগুলো যখন আপনার ডাইজেস্টিক সিস্টেমে প্রবেশ করতেছে তখন আমাদের ব্রেইন সংকেত দিচ্ছে যে এগুলো হজম করার জন্য আমার কাছে কোন এনজাইম নাই, তখন আমাদের ডাইজেস্টিক সিস্টেমকে অধিক পরিশ্রম করতে হচ্ছে।  এভাবে অনবরত কাজ করতে করতে আমাদের প্যানক্রিয়েস দুর্বল হয়ে যায়।  অতএব আমরা এভাবে বিভিন্ন খাবার গ্রহনের মাধ্যমে অনবরত আমাদের প্যানক্রিয়েস সিস্টেমের উপর অধিক প্রেসার প্রয়োগ করছি।  আর এভাবে আমরা আমাদের ডাইজেস্টিক সিস্টেমের ক্ষমতাকে কমিয়ে ফেলছি।

যারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন তারা আজকেই জিনিসটা পরিবর্তন করুন।

লবনের কথা না বললেই নয়: লবনের মধ্যে সাধারণত পটাশিয়াম আয়োডাইট এবং অ্যালোমিনিয়াম সিলিকেট  এই দুইটা কেমিকেল মিশ্রিত থাকে।  এগুলো মেশানো হয় এই কারনে যেন লবন বাতাস থেকে জলীয়বাস্প না টানতে পারো।  তাহলে বুঝতেই পারছেন কি খাচ্ছি।

তো সহজ কথা এগুলো অর্থাৎ পয়জনাল বা কেমিকেল যুক্ত খাবারগুলো বাদ দিন তাহলে ডায়াবেটিস হবেনা।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, ডাক্তার সাহেব মাত্র এই সামান্য বিষয় বাদ দিলে ডায়াবেটিস হবে না।  আমি আপনাকে বলতে পারি, আমরা সাধারণত পূর্বে শুনেছি কেহ মারা গেলে শুনতাম বার্ধক্য জনিত কারনে অনেকে মারা গেছে, অনেক হায়াত প্রাপ্ত হয়েছেন অনেকে। কিন্তু আজকাল আমরা কারো মৃত্যুর খবর শুনলে বলি কোন রোগে বা কি কারনে মারা গেছে।  আমাদের ধারনা হয়ে গেছে যে কোন না কোন রোগে মানুষ মারা যায়। এখন আর আমরা বার্ধক্য জনিত কারন শুনিনা। আমরা শুনি হয় ব্রেইন  স্ট্রোক এ মারা গেছে, না হয় ক্যানসারে মারা  গেছে, না হয় হার্ট এটাকে মারা গেছে বিভিন্ন ধরনের টনিক ডিজিসের মাধ্যমে আমাদের মৃত্যু হচ্ছে। আর আমরা এটাকে মেনে নিচ্ছি যে, মানুষ মারা যায় কোন না কোন রোগে। আপনি আমি চাইলে এটা থেকে বাঁচা সম্ভব।  কিন্তু আমার একার দ্বারা তো সব পরিবর্তন সম্ভব না, আমার কাছে যতটুকু জানা ছিল আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম মানা না মানা আপনাদের বিষয়।  আমরা যদি সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করি এবিষয় গুলো থেকে বের হয়ে আসতে তাহলে সম্ভব।

সাধারণত আমি বিষয়গুলো খুব সাধারণ ভাবে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করে থাকি।

আপনি একটু চিন্তা করে দেখেন,

আপনি যদি চিনি খাওয়া বন্ধ করেন এটাতে আমার লাভ কি?

আপনি যদি সাদা লবন খাওয়া বন্ধ করেন এটাতে আমার লাভ কি?

আপনাদের সামনে এতক্ষন এবিষয় গুলো আলোচনা করলাম এটাতে আমার লাভটা কি?

সকলকে উদ্দেশ্য বলছি, আমার এই বিষয় গুলো যদি আপনি মানেন তাহলে আপনার হারানোর কিছু নাই, আমি আপনাকে দুই টাকা খরচ করাইতেছিনা, আমি আপনাকে কোন খারাপ রাস্তায় যেতে বলছিনা, আমি আপনাকে কেমিকেল কিছু খাইতে বলছিনা, আমি আপনাকে কোনপ্রকার ঔষধ খেতে বলছিনা। আমি শুধু আপনাকে বালছি পরিবর্তন করেন।  আপনার যদি সন্দেহ থাকে আপনি বিষয়টি নিয়ে রিসার্স করে দেখতে পারেন। নিজের জীবনের জন্য করেন।

ডাক্তার হিসেবে এতটুকু আমাদের দ্বায়িত্ব, আমরা মানুষের জন্য কি করে যাচ্ছি। মানব সভ্যতার জন্য কি করে যাচ্ছি।  ডায়াবেটিস হলে তো ট্রিটমেন্ট আছে যেটাতে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকবে। এমন কি কিছু আছে যেটা খেলে ডায়াবেটিস হবে না।

যুবকদের উদ্দেশ্যে করে বলছি, আমাকে বিশ্বাস না করে আপনারা স্ট্যাডি করেন।  নিজেকে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু থেকে বাঁচান।  আপনাদের একটু সচেতনতা, একটু পরিবর্তন, একটু কিছু খাবার এড়িয়ে চলা এগুলো করার মাধ্যমে নিজেদেরকে ডায়াবেটিস নামক মরনব্যাধি থেকে বাচাঁতে পারেন।  অন্যকে সচেতন করুন।

আমি অনেকগুলো বিষয় বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করলাম, যদি খারাপ লাগে তাহলে দয়া করে মাফ করবেন।  আমি সবসময় চেষ্টা করি কিছু ইউনিক বিষয় আপনাদের সামনে সহজ সরল ও স্বাভাবিক ভাবে তুলে ধরার জন্য।

সুতরাং ডায়াবেটিস এখন মহামারী আকারে ছড়াইতেছে, ডায়াবেটিস থেকে যদি বাচতে চাই আমরা তাহলে এখনই যদি সচেতন না হই তাহলে আমরা জেনারেশন বাচাইতে পারবনা।

একজন ডাক্তারের নৈতিকতা বা মানুষের সেবক হিসেবে আপনাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরলাম। দয়াকরে একটু মেনে চলুন এতে আপনারই উপকার হবো। সবাই ভালো থাকবেনা। ধন্যবাদ……..

তথ্য সূত্র:

আলোচনা করে,

ডা: সৈয়দ গোলাম গাউস আশরাফী,

বি. এইচ. এম. এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

About The Author
MD. SHOHIDUL ISLAM

You must log in to post a comment