ভিডিও গেম খেলার কিছু স্বাস্থ্য-উপকারিতা!

Please log in or register to like posts.
News

আমরা সব সময় শুনতে পাই কিভাবে ভিডিও গেম শিশুদের স্বাস্থ্যর উপর কিরূপ প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত ভিডিও গেম খেলার ফলে শিশুরা শারীরিক এবং মানুষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের উচিত তাদের এ ভিডিও গেম খেলা থেকে নিরুৎসাহিত করা এবং তারা ভিডিও গেম খেললেও এটা খেলার নিদিষ্ট সময় সীমা বেধে দেওয়া।

ভিডিও গেমের অনেক নেগেটিভ ইফেক্ট থাকা স্বতেও আমরা এটা খেলা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনা। ভিডিও গেম খেলার যতই নেগেটিভ ইফেক্টের কথা বলি না কেন এর অপকারীতার সাথে কিছু উপকারীতাও রয়েছে।  ভিডিও গেম খেলা আমাদের শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

বি দ্র : আমরা বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারীতা জানার আগে বলে  রাখা ভাল যে আমার এই পোষ্ট পরে ভিডিও গেমস খেলে সময় ব্যয় করার কোনো অজুহাত হিসেবে বেছে নিবেন না। আর যদি অজুহাত হিসেবে বেছে নেন তাহলে আমি পোষ্টদাতা কোনভাবেই দ্বায়ী নয়।

ডিসলেক্সিয়া (উচ্চারণগত সমস্যা) থেকে মুক্তি পেতে পারেন:

আপনি যদি ডিসলেক্সিয়া (উচ্চারণগত সমস্যা) ভোগেন তবে এটি আপনার জন্য কিছু চমৎকার খবর আছে, ভিডিও গেমিং এ আপনাকে মানসিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে সাহায্য করতে পারে। যদিও গবেষকরা ডিসলেক্সিয়া নিয়ে সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারেনি কেন এটি কেবল কিছু লোককেই প্রভাবিত করে, কিন্তু এ বিষয় নিয়ে কিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব রয়েছে এবং এ গবেষণায় ফলাফলগুলি অস্বীকার করা যায় না।

এর গবেষণায় একটি তত্ত্ব এমন যে, কোন শব্দ পড়তে অমনোযোগীতার কারনে ডিসল্যক্সিয়া সমস্যা হতে পারে। কম্পিউটার গেমগুলির সুবিধা হল যে কম্পিউটার গেমিং আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মনোনিবেশ করতে বাধ্য করে। এর ফলে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না আপনি এই দীর্ঘ সময় আপনার কাছে কঠিন শব্দটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন।

এখনকার গেমগুলো সিনারিওপূর্ণ। গেম খেলার সময় আপনার প্রতিটি নির্দেশগুলি পড়তে হয়, সে নির্দেশ গুলোর মাঝে প্রায়ই আপনার সে পাঠ্য শব্দটি দেখা যায় যা আপনার উচ্চারণে সমস্যা হয়, কিন্তু সে শব্দটি গেমসে আপনি একের অধিকবার পড়েন। প্রয়োজনীয় যে নির্দেশাবলী আছে তা আপনি অনুসরণ করে আপনাকে মিশন সম্পূর্ণ করতে হয়, এতে করে গেমের নির্দেশাবলীর শব্দ গুলী মনোযোগ সহকারে পড়েন।

আপনার চোখের দৃষ্টি শক্তির উন্নতি হতে পারে:

পুরানো বিশ্বাস মতে আপনি যদি কম্পিউটার বা টিভিতে খুব কাছাকাছি বসে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনার দৃষ্টি সমস্যার সৃষ্টি হবে।ওকে ঠিক আছে, আমরা আসলে বেশিরভাগ সময় টিভি দেখা বা কম্পিউটারে গেম খেলার সময় মনিটরের খুব একটা কাছেও বসি না। এখন গেম খেলার জন্য আর টিভির সাওমে বসে থাকতে হয় না।  গেমিং কন্ট্রোলারের ক্যাবল এতো বড় যে চাইলে আমরা এখন রুমের যেকোন প্রান্ত থেকে গেমস খেলতে পারি।

অন্যান্য গবেষণা দেখায় যে, কম্পিউটার গেমিং আপনার চোখের দৃষ্টিকে উন্নত করতে পারে। কারণ আপনি কম্পিউটার গেমিং এর সময় কম্পিউটার স্ক্রিনে গেমের মিশনের সব কিছু সন্ধান করতে হয় এবং একই রঙের বিভিন্ন ধাপ গুলির মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। এই ক্ষমতাটি আপনার বাস্তব জীবনে কাজে লাগে। আপনি যখন হাঁটাচলার মধ্যে তখনো সহজে যেকোনো রঙের মধ্যে পার্থক্যটি খুঁজে পাবেন। এবং রংটির মাঝে কোন খুঁত আছে কিনা তাও আপনারা বের করতে পারবেন।

গেমিং আপনাকে দৈহিক ভাবে আরো বেশী একটিভ করতে পারে

প্রথম কম্পিউটার গেম আবিষ্কারের পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেছে। এক সময় ছিল, যখন শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্করা গেমের মিশন সম্পন্ন করার জন্য ঘন্টার পর ঘণ্টা গেম খেলে যেত। আমি এখনো মনে করতে পারি, যখন আমি ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে গেমের লেভেল পার করার জন্য খেলে গেছি তার কারণ ছিল তখন কোন গেম সেভ করার ফাংশন ছিল না।

এখন গেমিং এর সাথে শারীরিক দিকও অন্তর্ভুক্ত। ”জাস্ট ডান্স”, ”উই ফিট”, ”গিটার হিরো” এবং আরও অনেক গেম আছে যেসব গেম আপনাকে রুমে দাঁড়িয়ে দাঁড়াতে ও ঘুরে এবং হেটে খেলতে হচ্ছে। এতে করে আপনি আপনাকে ফিজিক্যালি একটিভ রাখতে পারেন, আপনি আপনার ফোকাসে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবেন এবং আপনি চাইলে ওজন কমাতে পারেন গেম খেলার মাধ্যমে।

আপনি এই ধরনের গেম না খেলেও আরও বেশি শারীরিকভাবে নিজেকে এবং আপনার বাচ্চাদের সক্রিয় রাখতে পারেন। বাচ্চারা যারা বেশি স্পোটসি গেম খেলতে পছন্দ করে তাদের বাড়ির বাইরে গিয়ে খেলাতে আপনি আগ্রহী করে তুলতে পারেন।

গেমিং আপনার সৃজনশীলতা বৃদ্বিতে সাহায্য করে

সৃজনশীলতা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীতা নিয়ে আসে, এবং ভিডিও গেমিং অবশ্যই সৃজনশীলতার বিকাশ করে। এটি সব ধরনের গেমিং এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

চলুন শুরু করা যাক যেকোনো ম্যালেটারী মিশন বা শুটিং গেম দিয়ে, গেমে প্রথমে আপনি আপনার মিশন সম্পর্কে বুঝতে হবে, এবং আপনাকে ম্যাপে কোথায় যেতে বলেছে, এবং বিভিন্ন অস্ত্র সম্পর্কে সবকিছু জানার প্রয়োজন পড়ে। এসব গেমে বিশেষ করে যখন কঠিন লেভেলে আছেন তখন আপনি কখনও কখনও শত্রুকে মেরে ফেলা বা হারানোর জন্য সৃজনশীল উপায়গুলি খুঁজে বের করেন।

আপনাকে সৃজনশীল করে তোলার জন্য আরও কিছু গেম রয়েছে যেমন Mine craft এবং Sims। এসব গেমে আপনাকে আপনার পরিবার, বাড়ি, এবং আপনার পৃথিবীকেনিজের মত তৈরি করে নিতে হয়। এবং আপনার তৈরি ক্যারেকটার গুলোকে আপনার ডেভেলপ করতে হয় যেসব জিনিস গুলোর আগে কখনও অস্তিত্ব ছিল না। এসব গেম খেলা শুরু করার আগে আপনাকে গেম থেকে অল্প কিছু ধরনা দেওয়া হয়, যা কিনা আপনার সৃজনশীলতা বিকাশে সহয়তা করে।

গেমিং আপনার স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে

আমরা সর্বদাই শুনতে পাই কিভাবে আমরা আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি। সেজন্য অনেকেই ক্রসওয়াডস এবং সুডকো পাজল দিকে মনোনিবেশ করে থাকেন,এটা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না যে কম্পিউটার গেমসও সেই দিক থেকে কোন অংশে কম নয়। শুধু এটা চিন্তা করতে হবে যে যখন আমরা গেমস খেলছি তখন আমরা আমাদের ব্রেইনের কতটা ব্যবহার করছি।

গেমস খেলতে খেলতে আপনাকে গেমের প্যাটার্ন সম্পর্কে বুঝতে হবে,এবং আপনাকে মিশন, চরিত্র,এবং যা যা করতে হবে সব মনে রাখতে হয়। গেমের প্রতিটা ষ্টেজ যখন আপনার creative আইডিয়া দ্বারা অতিক্রম করতে চাইবেন তখন আপনার ব্রেইন কাজ করবে। এবং আপনার ব্রেইনে সে আইডিয়া গেঁথে থাকবে।

গেমিং আপনাকে মানসিক যন্ত্রনা থেকে দূরে রাখতে পারে

একাকীত্ব থেকে আপনার ভিতর অশান্তি তৈরি হতে পারে, আপনার এ একাকীত্ব এক নিমিষেই দূর করে দিতে গেমিং এর জুড়ি নেই। ভিডিও গেমিং আপনার মানসিক অশান্তির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আপনি যখন ভিডিও গেম খেলেন আপনার পুরো মনোযোগ তখন গেমের ভিতর থাকে, আর গেমের ভিতর তখন এমন কিছু ঘটছে যা আপনি উপভোগ করছেন, আর আপনার এ উপভোগের সময়ই আপনি আপনার দুঃখ ব্যথা ভুলে যান।

আমি ১০০% গেরান্টি দিয়ে বলতে পারি যে এটা কাজ করে। আমার এখনো মনে আছে যে, ছোট বেলায় একদিন আমার বন্ধু তার বাড়িতে গেম খেলতে নিয়ে যায় সেখানে যাওয়ার পথেই আমার পেট ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছে কেবল আমরা কিছুক্ষণ ভিডিও গেম খেলেছিলাম, কিন্তু ফিরে আসার পর বুঝতে পারছিলাম যে গেম খেলতে খেলতে আমি আমার পেট ব্যথার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলাম!!!

আপনার সামাজিক দক্ষতাকে উন্নত করে এবং নতুন সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে

আপনি এখনকার সময় গেম খেলতে খেলতে আপনার সামাজিক দক্ষতার উন্নতি করতে পারবেন। তার কারণ এখন বেশিরভাগ গেম এখন আপনার অনলাইনে খেলার সুযোগ রয়েছে, সেখানে আপনি অন্য প্লেয়ারদের সাথে চ্যাটের মাধ্যমে কথা বলতে পারবেন। কিছু গেমে এখন আপনি লাইভে চ্যাটের মাধ্যমে কথা  বলতে পারবেন।

আপনি গেমিং এর  মাধ্যমে অন্য মানুষের সম্পর্কে জানতে পারবেন, এবং তাদের সাথে রিলেশন ক্রিয়েট করতে পারবেন। এবং আপনার ফিলিংস তাদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। ও আপনারা আপনাদের আনন্দ,ভালোবাসা, সবকিছু একই সাথে সেলিব্রেট করতে পারবেন।

গেমিং আপনাকে মানসিক চাপে থেকে সামাজিক দক্ষতা উন্নত করতে শিখাবে। ধরুন আপনি টিম মেম্বারদের সাথে নিয়ে  কোন শুটিং গেম খেলছেন, যখন কিনা আপনার গেমে আপনার শত্রুরা আপনার টিমকে এটাক করছে তখন আপনার টিমকে সহায়তা করার জন্য আপনাকে কোন কিছু অর্ডার করতে হতে পারে আপনার টিম মেম্বারকে। গেম আপনাকে এ চাপে সময় আপনার টিমকে কি করতে হবে সে জন্য আপনাকে খুব তাড়াতাড়ি ডিসিশন নিতে শিখায় এবং টিমের এ পরস্পর তড়িৎ যোগাযোগ আপনার সামাজিক দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে

গেমিং আপনাকে দ্রুত সিদ্বান্ত নিতে শিখায়

কিছু কিছু গেম খেলার সময় আপনাকে দ্রুত ভাবতে হয়। আপনি গেমে মিশন কমপ্লিট করার জন্য কি কি করবেন, কোন পথ বেছে নিবেন, শত্রুর বিপরীতে কি একশন নিবেন এগুলো আপনাকে খুব দ্রুত চিন্তা ভাবনা করতে হয়। এ সব গেম আপনাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিখায়।

গেমে আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরী নয়। গেমে আপনাকে শিখানো হয় আপনি কিভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন বিষয়ে। আপনার সিদ্ধান্তহীনতা আপনাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই গেম আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নয় বরং আপনাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা দিয়ে থাকে। আমাদের জীবনে মাঝে মাঝে সুযোগ গ্রহণে কিছু দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আমরা গেম খেলার মাধ্যমে এ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে পারি।

বেশি ভিডিও গেম খেলুন নিজেকে সুস্থ ও একটিভ রাখুন

এখন আপনার কাছে প্রতিদিন ভিডিও গেম খেলার সব কারণ আছে। কারণ গুলো আপনার জন্য আশ্চর্যজনক ভাল কিন্তু তা শুধুমাত্র লিমিটেশনের ভিতর থাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন আপনি গেম খেলে ২০-৩০ মিনিট ব্যয় করছেন সব গেম গুলো নিয়ে চিন্তা করুন আপনি কি ধরনের গেমস খেলছেন এবং গেম থেকে আপনি কি কি শিখতে পেরেছেন।

শিশুরা সামাজিকভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখে, এবং তারা এখনও বাইরে গিয়ে খেলতে পছন্দ করে। মাতাপিতা হিসাবে, আপনি আপনার বাচ্চাদের বাইরে গিয়ে খেলতে উৎসাহিত করতে পারেন।একমাত্র আপনি আপনার শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারেন।

তো আর দেরি কিসের মেতে যান গেমসের দুনিয়ায় আর নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি সাধিত করুন

Reactions

2
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

2

Nobody liked ?