Now Reading
সফল ব্যাক্তির ৯টি গুন



সফল ব্যাক্তির ৯টি গুন

সময়ে সময়ে অনেক মানুষের সাথে মেলামেশা করা হয়েছে, নানান রকমের মানুষের সাথে চলাফেরা করতে হয়েছে। কিন্তু, কিছু কিছু মানুষের সাথে চলে মনে হয়েছে তাঁদের মধ্যে বাড়তি কিছু গুন রয়েছে যা তাঁদেরকে হাজারো মানুষ থেকে পৃথক করে তুলে ধরে, তাঁরা আলাদাভাবে মানুষের মধ্যে জায়গা করে নেয়। বলতে গেলে, হয়তো সকল সফল মানুষের মধ্যেই এই গুনগুলো থাকা সাধারণ ব্যাপার। আজ তা নিয়েই লিখবো, তাঁদের বিশেষ ৯টি গুন তুলে ধরবো।

১. ইতিবাচক মনোভাব

একজন সফল ব্যক্তি ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী হয়ে থাকেন। তাঁরা কখনোই তাঁদের জীবনের মন্দ অধ্যায় নিয়ে পড়ে থাকেন না, জীবনের দোলাচালে কখন, কোথায়, কীভাবে এক বাজে অবস্থার শিকার হয়েছিলেন তা নিয়েও কোনো ঘণ্টা-দীর্ঘ আলাপ করতে দেখা যায় না। তাঁরা প্রতিনিয়তই এবং ধারাবাহিকভাবে চিন্তা করে যাচ্ছেন কীভাবে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এরই প্রতিফলন দেখা যায় তাঁদের কাজে এবং মনোভাবে। তাঁরা খুব বেশি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক আগামীকালই একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

২. অধ্যবসায়ী

আমরা নাটক-সিনেমা দেখে অনেকেই ধারণা করি, সাফল্যের পথ মনে হয় অনেক সোজা, মসৃণ। কিন্তু, এই ধারণাটা সত্যের থেকে বহু দূরে। বাঁধা-বিপত্তি ছাড়া কখনই সাফল্য আশা করা যায় না।

প্রত্যেক সাফল্যমণ্ডিত ব্যক্তির ইতিহাস ঘাটলেই দেখা যাবে, জীবনের কোনও না কোনও এক সময়ে তাঁদেরকে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করতে হয়েছে। জীবনে এসেছে অনেক হতাশা, বিপত্তি। কিন্তু, এর মধ্যে তাঁরা সফলতা অর্জন করলেন কীভাবে? কারণ একটাই, তাঁরা ছিলেন অধ্যবসায়ী। তাঁরা কখনও আশা ছাড়েননি তাঁদের জীবন নিয়ে। ঐসব বাঁধা-বিপত্তি-হতাশা থেকে তাঁরা নিজেদেরকে টেনে তুলেছেন দৃঢ় মনোবল নিয়ে, নিজেদের করেছেন আরও শক্তিশালী। হতাশার কাছে নিজেকে পরাস্ত মানতে তাঁরা ছিলেন নারাজ।

৩. মানুষের প্রতি মনোযোগ

একজন সফল ব্যক্তি কখনই মানুষের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন না। তাঁরা শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না, বরংচ, তিনি তাঁর নিজস্ব অর্ন্তদৃষ্টি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করেন এবং মানুষকে উৎসাহ প্রদান করেন। অন্যের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়ার চেষ্টা করেন। আর এভাবেই তাঁরা মানুষের মনে জায়গা করে নেন, যা সফলতার ক্ষেত্রে আরেকটি মূলসূত্র।

৪. উদারতা

সফল ব্যক্তিরা সাধারণত উদার মনের হয়ে থাকেন। মানুষকে সময়, জ্ঞান কিংবা অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে কখনই কার্পণ্যবোধ করেন না। তাঁরা প্রচুর পরিমাণে শুধু অর্থই উপার্জনই করেন না, সাথে সাথে কিভাবে অন্যদের এই অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যায় তা নিয়েও ভাবেন। অর্থাৎ, শুধু নিজের ষোলআনা নিয়েই ভাবেন না।

৫. সততা

সততা, একজন সফল ব্যক্তির কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিত্যকার জীবনে চলতে গেলে প্রায় সময়ই আমরা ছোট-খাটো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকি, কারণ, সত্যটা হয়তো সেই মুহূর্তে আমাদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। কিন্তু, একজন সফল ব্যক্তি এসবের ঊর্ধ্বে থাকেন। ওয়াদা দেয়া কথা রক্ষায় তাঁরা সোচ্চার থাকেন।

এমন হতে পারে, তাঁর হয়তো অমুক সময়ে একটা মিটিংয়ে যোগদান দেয়ার কথা ছিলো, কিন্তু কোনো এক কারণে তিনি সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন না। হোক না সেটা যতোই কম গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, তিনি যদি উপস্থিত হতে না পারেন সেখানে, তিনি আগে-ভাগেই জানিয়ে রাখবেন তাঁর অনুপস্থিতির কথা। আবার এমন হল, কাউকে হয়তো অমুক সময়ে টাকা ফেরত দেয়ার কথা, কোনও এক কারণে পারছেন না, তিনি অবশ্যই সেটা তাঁর পাওনাদারকে জানাবেন। অর্থাৎ, একজন সফল ব্যক্তি কখনই এইসব দায়িত্ব থেকে পিছপা হন না, তিনি তাঁর দায়িত্ব নিয়ে ভীত নন।

৬. আত্ম-ক্ষমাশীল

সফল ব্যক্তিরা তাঁদের ব্যর্থতাকে মেনে নেন, অন্যদিকে নিজের ব্যর্থতাকে ক্ষমা করে দিতেও সক্ষম হন। এমনটা নয় যে তাঁরা অন্যদের মতো দুঃখ প্রকাশ করেন না, দুঃখ প্রকাশ করেন ঠিকই, কিন্তু তা নিয়ে পড়ে থাকেন না। তাঁদের জানা আছে, জীবনকে কিভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তাঁরা জানেন, ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে পড়ে থাকলে সেটা শুধুমাত্র তাঁর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দুয়ার থেকে তাঁকে দূরে রাখবে।

৭. তাঁরা অজুহাত দেখিয়ে চলেন না   

বলা হয়ে থাকে মানুষের হাত তিনটিঃ ডান হাত, বাম হাত আর অজুহাত। কিন্তু, সফল ব্যক্তিদের হাত দু’টিই, ডান হাত আর বাম হাত। তাঁরা অজুহাত দেখাতে পছন্দ করেন না। তাঁদের কাছে অজুহাত দেখানো একটি কাপুরুষোচিত কাজ। তাঁরা এটা মনে করেন যে, অজুহাত দেখানো মানে আমি আমার ভুল নিয়ে ভীত, আমি সেই ভুল মোকাবেলা করার সামর্থ্য রাখি না।

সফল ব্যক্তিরা তাঁদের ভুলত্রুটি মেনে নেন, স্বীকার করে নেন, তাঁর বিপরীতে কোনও অজুহাত তুলে ধরেন না। তিনি তাঁর ভুলত্রুটি নিয়ে নিজে নিজে চিন্তা করেন, কোথায় কি ভুল করেছেন, সেটা বের করার চেষ্টা করেন এবং পরিশেষে সেটা থেকে শিক্ষা নেন, যাতে ভবিষ্যতে তিনি সেটা এড়িয়ে চলতে পারেন।

৮. আত্মবিশ্বাসী

আত্মবিশ্বাস একজন সফল ব্যক্তির আরেকটি অসাধারণ গুন। সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলে চারিপাশ থেকে অনেক রকমের চাপ আসে, অনেক রকম কথা শোনা লাগে, অনেকে অনেক কিছু বলে দাবিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু, জীবনে যারা সফল, তাঁদেরকে কখনই এইসব প্রভাব ছুঁতে পারেনি। তাঁদের মধ্যে ঐ শক্তি আছে, যেটা ব্যবহার করে তাঁরা এইসব অগ্রাহ্য করে চলেন। তাঁরা নিজেদের বিশ্বাসের উপর অটল থাকেন।

৯. কাজের প্রতি প্রচন্ড মনোযোগী

সফল ব্যক্তিরা তাঁদের কাজের প্রতি ভীষন রকমের মনোযোগী। তাঁরা যখন কাজের মধ্যে ঢুকে পড়েন, তখন সারা শহরে আগুন জ্বলুক, বন্যা হয়ে যাক, আর যাই কিছু হোক, কিছুই তাঁদের মনোযোগ সরাতে পারে না। তাঁরা একনিষ্ঠভাবে তাঁদের কাজ করে যান। তাঁরা তাঁদের কাজের সময় শুধু কাজটাকেই প্রাধান্য দেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁরা অবসর সময়ে আসছেন, ততক্ষণ তাঁদেরকে অন্য কোথাও ভ্রূক্ষেপ দিতে দেখা যায় না।

এই ৯টি গুন আমি সফল মানুষের মধ্যে দেখেছি, আমি শুরুতেই বলেছি, এই গুনগুলো হয়তো সকল সফল মানুষের মধ্যে সর্বজনীন। এখন আমি বলতে চাই, এই লিস্ট দেখে আমরা অনেকেই ভাবা শুরু করবো যে, আমার মধ্যে এইসব গুন তো নেই, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। কিন্তু, এরকম ভাবাটা একেবারেই বোকামি। লিস্টের প্রথম পয়েন্টেই উল্লেখ করা আছে, প্রত্যেকটা আগামীকালই একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। নিজেকে বদলে ফেলুন, সফল মানুষদের এই গুনগুলো নিজের মধ্যে আয়ত্ত করুন। তারপর নিজেই এর ফলাফল দেখুন।

About The Author
Sayed Irfan
Sayed Irfan
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment