সাহিত্য কথা

অসমাপ্ত জীবন সিদ্ধান্ত!!!

আজ আপনাদের বলব একজন বেকার যুবকের গল্প

এটা ছিল ২০০৬ সালের কথা। জাহিদ নামের এক অনার্স পাশ করা যুবক ভাগ্যের জন্যে একমাত্র সম্বল চাকরিটা হারিয়ে আজ সে বেকারএকমাত্র সম্বল হারিয়ে পাগল আর দিশেহারা হয়ে গেছে তবে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল খুবই রঙিন ভার্সিটি তে ভর্তির পর ভালোই চলে যাচ্ছিল জাহিদের দিন কাল। ক্লাশের প্রথম সারির ছাত্রদের একজন ছিল জাহিদ। আর সব স্যারদের লেকচারে সবচেয়ে ভালো প্রতিক্রিয়াও জাহিদেরই ছিল। তবে  হঠাৎ করেই একজন রমণীর প্রেমে পড়ে গেল জাহিদ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের দুজনের পরিচয়টাও হয়ে গেল দুজন দুজনের প্রতি ভালোই দুর্বল ছিল অল্পদিন পরপরই তারা দুজনে মিলে বাইরে ঘুরতে যেত। বেশ ভালোই কাটছিলো তাদের দুজনের সময়।  ভার্সিটির চতুর্থ বর্ষে পদার্পণের পর তারা বিয়েও করে নিল শেষ করলো দুজনেই তাদের পড়াশুনার জীবন জাহিদ অনেক ভালো একটা চাকরিও পেয়ে গেল খুব সুখেই যাচ্ছিল ওদের সংসারঅল্পদিন পরেই তাদের সংসারে একজন নতুন অতিথি যোগ হল তাদের পরিবারে জন্ম নিল এক ফুটফুটে সুন্দর মেয়ে জাহিদ মেয়ের নাম রাখলো রিমি

এতো সুন্দর সাজানো সংসারে গল্প কোথায় তাহলে? গল্প তো অল্প না যে দু লাইনেই ফুরিয়ে যাবে দেখতে দেখতে আরো পাঁচটি বছর কেটে গেল রিমির বয়স প্রায় ছয় বছর। রিমিকে স্কুলে ভর্তি করে দিল জাহিদ। পড়াশুনা শুরু করলো রিমি। তবে এতো সুন্দর সংসারে অন্ধকার নেমে এলো খুব ঘটা করেই।  হঠাৎ করেই একদিন রিমি অজ্ঞান হয়ে গেল ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে দিল। সবই করলো জাহিদ।  অনেক জটিল অসুখে আক্রান্ত রিমি ডাক্তার বললো রিমির হার্টে ছোট একটা ফুটো আছে। আর তাই রিমিকে অপারেশন করাতে হবে। জাহিদ খুবই চিন্তায় পড়ে গেলএখন জাহিদ কি করবে? অনেক ভাবলো জাহিদঅনেক টাকারও প্রয়োজনপ্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকার দরকার অপারেশনের জন্যবাসার সবাই জাহিদকে অল্প সল্প সহায়তা করতে থাকলোকিন্তু রিমির চিকিৎসার জন্যে অনেক মোটা অঙ্কের টাকা প্রয়োজনএত টাকা জাহিদ একসাথে কোথায় পাবে? এদিকে রিমিও দিন দিন আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেজাহিদ ঠিক করলো  তার অফিস থেকে লোন নিবে।  অফিস লোন দিবে কিন্তু তা মাত্র দু’লক্ষ টাকা

জাহিদ লোন নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলোকিন্তু হঠাৎ করেই বিপত্তিকর ঘটনা ঘটলোঅফিসে কাজ কর্মে অবহেলায় জাহিদকে বরখাস্ত করা হয়েছেআর যার ফলে জাহিদ তার একমাত্র সম্বল চাকরিটা হারালোএই কঠিন পরিস্থিতিতে এখন জাহিদ কি করবে? কার কাছে হাত জোর করে টাকা চাইবে? জাহিদ খুবই বিপত্তিতে পড়ে গেলচাকরির সময় ব্যাংকে জমানো এক লক্ষ টাকাই এখন জাহিদ আর তার পরিবারের একমাত্র সম্বলজাহিদ সিদ্ধান্ত নিলো সে তার মফস্বলে বাবার বাসায় চলে যাবে এবং তাই করলোঅন্যদিকে জাহিদের মেয়ে রিমি দিন দিন আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেরিমির জন্য ঔষধের খরচে জাহিদের শেষ সম্বল টুকুও এখন প্রায় শেষ হওয়ার পথেজাহিদ চিন্তায় অনেক ভেঙ্গে পড়েছেসে তার বাসার এলাকায় পরিচিত ছোট দুই ভাইকে নিয়ে পরিকল্পনা করছে কি করবে সে

জাহিদ খুবই চিন্তিত অবস্থায় একদিন বিকেল বেলায় মাঠের ওপর অর্ধশায়িত অবস্থায় সময় কাটাচ্ছিলএমন সময় তার সেই এলাকার সবচেয়ে কাছের ছোট ভাই দুটো সামনে আসলোআর বিরবির করে ঠিক কি যেন বললোতারা জাহিদ কে আসলে বললোটা কি? জাহিদ তাদেরকে নিয়ে যে পরিকল্পনা করছিল তা হল ছিনতাই করাআর তারা ছোটখাটো একটা ছিনতাইয়ের খবরই সময় জাহিদকে দিতে এসেছিলতারা কিছু মোটা অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেআর কাজটা তারা সেদিনই করবে বলে ঠিক করলো এবং সেই উদ্দেশ্যই রওনা দিলঠিক সন্ধ্যার সময় তারা তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিটিকে  ফলো করা শুরু করলোআর সুযোগের অপেক্ষায় হাটতে থাকলোসময় মতো একটা নির্জন রাস্তায় তারা তাদের কাজটি কোনরকম দুর্ঘটনা ছাড়াই ভালোভাবে সম্পন্ন করলোআর সাথে সাথে নির্জন এক স্থানে তারা তিনজনই আত্নগোপন করলো

তাদের একজন নির্জনে বসে টাকা গুনতে থাকলআর জাহিদ এই ফাঁকে একটা সিগারেট ধরালোআর অন্যজনকে বলল মানিব্যাগ আরো কিছু আছে কিনা দেখতেসে মানিব্যাগ টা হাতে নিলভেতরে সে একটা সাদা কাগজ দেখতে পেলআসলে ওটা একটা চিঠিওরা যার কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করেছে তার বন্ধু সেই টাকা তার অসুস্থ বাবার জন্য পাঠাচ্ছে ঐ লোকটাকে দিয়েজাহিদ যখন চিঠিটা পড়লো তখন সে আরো কঠিন একটি সিদ্ধান্ত নিল

জাহিদ পরের দিন একই সময়ে অন্য একজন অপরিচিত মানুষের সাহায্যে ছিনতাইকৃত পুরো টাকা মানিব্যাগ সমেত যার কাছ থেকে ছিনতাই করেছিল তাকে ফেরত দিলকিন্তু অন্যদিকে জাহিদের মেয়ে দিনে দিনে মৃত্যুর কোলে ঢেলে পড়ছেজাহিদ কি করবে তা সে নিজেও জানে নাহয়তো সেদিন সন্ধ্যা বেলার মতো আবার কারোর মানিব্যাগ ছিনতাই করবেএভাবে সে কি পারবে তার মেয়ে রিমির অপারেশনের পুরো টাকা সংগ্রহ করতে? নাকি কঠিন অপরাধের জন্য কখনো পুলিশের কাছে ধরা পরতে হবে? জাহিদের মেয়ে কি বিনা চিকিৎসাতেই অকালে মারা যাবে? নাকি ছিনতাইয়ের টাকাদিয়েই জাহিদ তার মেয়ের অপারেশন করাবে? আসলে জাহিদ কিছুই জানে না

ধৈর্য্য নিয়ে পুরো গল্পটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ধ্রুবর কাহিনি (পর্ব ২)

Prashanta Deb

আজও কেন এমন হয় পর্ব—৬

Salina Zannat

স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – শেষ পর্ব

Rohit Khan fzs

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy