Now Reading
জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব



জাফলং ভ্রমণ – শেষ পর্ব

সিলেট শহর থেকে জাফলং তেমন একটা দূর না । কিন্তু আপনার যাত্রা পথে সবচেয়ে যাই ঝামেলায় আপনি পড়বেন তা হল রাস্তা । কারণ জাফলং যাওয়ার পথে রাস্তা খুবই খারাপ । যা আপনাকে ভোগান্তিতে ফেলবে ।

আমাদের সিএনজি এগিয়ে চলছে । আমি সিএনজি এর সামনে বসার কারণে বাহিরের খুব সুন্দর দৃশ গুলো খুব কাছ থেকে দেখতে পারছিলাম .। তামাবিল এর আগে থেকে আপনার চোখ যেন বাহির থেকে আর সরতে চাইবে না । কি সুন্দর তার দৃশ , আমি যতই যেন দেখছি ততই যেন মুগ্ধ হচ্ছি . কি সুন্দর পাহাড় . আমার মনে হচ্ছিলো আরেকটু হলে বুঝি মেঘের সাথে গিয়ে বারি খাবে .

আমি শুধু চিন্তা করছিলাম জাফলং যাওয়ার আগে যদি এত সুন্দর দৃশ দেখা যায় , না জানি জাফলং এ আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে . আমি বাহিরের ছবি ক্যামেরা বন্ধি করতে ভুললাম না . আমরা এখন যেই  দিক দেখছি মূলত তা হলো ভারতের মেঘালয় , বাহিরের সুন্দর দৃশ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম জাফলং এর পাহাড়ে .

আমরা গিয়েছিলাম ২৫০ টাকা করে . যখন সিএনজি থেকে নেমে যাচ্ছিলাম তখন সিএনজি ড্রাইভার বলছিলো আপনারা আবার কি ফিরে যাবেন আমার সাথে . আমি বললাম যাবো . তখন উনি বললেন তাহলে আপনাদের ৩৫০ টাকা করে পরবে. আমরা প্রথমে একটু অবাক হলাম . তিনি আমাদের বললেন যাওয়ার সময় লোক পাওয়া যায় না আর অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে আমাদের জন্য . আমি বললাম না ভাই আপনি চলে যান .

যখনি সিএনজি থেকে নামবেন তখনি আপনাকে একদল লোক ঘিরে ধরবে . ভয় পাবেন না তারা নিজেদের গাইড বলে দাবি করবে , আপনি ইচ্ছা করলে তাদের ভাড়া করতে পারেন , কিন্তু আমি আপনাদের বলবো না নেয়াটাই বেস্ট , আমরা না নিয়ে প্রথমে দাঁড়িয়ে পাহাড় থেকে মেঘলয়ের দৃশ উপভোগ করলাম , তার পর পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম . সাবধানের সাথে নামবেন , যখনি নিচে নামছিলাম জাফলং নদী এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম কিভাবে ইন্ডিয়া থেকে আমাদের দেশে পানি আসছিলো .

আসলে বাংলাদেশ অনেক সুন্দর তখনি আপনি উপভোগ করতে পারবেন যখন আপনি চামড়ার চোখ দিয়ে না দেখে মনের চোখ দিয়ে দেখবেন . .আমরা পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে গেলাম. নামার সময় আমাদের সামনে একটা মাঠ এর মতো একটা জায়গা পড়লো . সেখানে আপনি বাহারি দোকান দেখতে পাবেন , হরেক রকমের মালামাল নিয়ে তারা বসে আছে , যেহেতু ইন্ডিয়া কাছে তাই বেশির ভাগ পণ্য আপনি ইন্ডিয়ার দেখতে পারবেন , সেখানে আমাদের দেশি শাল পাওয়া যায় কিন্তু আমার কাছে মানের দিক থেকে তেমন একটা ভালো লাগে নি , একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে ধরা দিবে জাফলং এর আসল সুন্দর্য , তখন শীত কাল থাকার কারণে পানি কিছু টা কম ছিল. জাফলং বর্ষায় এক রূপ ধারণ করে আর শীতে আরেক রূপ ধারণ করে . আমার কাছে শীতের দৃশ টা মন কেরে নিয়েছে .পানি কখনই আপনার হাঁটুর উপরে যাবে না , আমাদের আর তর সইলো না . নেমে পড়লাম পানি তে . ভিজিয়ে নিলাম নিজেদের পা কে আর মনে মনে বলতে লাগলাম অবশেষে আমি ইহাকে জয় করতে পারলাম . মাথার উপর যেমন রোদ আবার পায়ের নিয়ে বরফের চেয়েও ঠান্ডা পানি . আপনির দিকে তাকালে আপনি নিচে পাথরের টুকরো দেখতে পারবেন . পানি খুবই স্বচ্ছ হবার কারণে পানিতে যেই সব মাছ ও পাথর আছে আপনি তা খালি চোখে দেখতে পারবেন .

আপনি জাফলং এ কিছু লোক দেখতে পাবেন যারা টাকার বিনিময়ে আপনার ছবি তুলে দিবে . আপনি ইচ্ছা করলে তাদের দিয়ে ছবি তুলিয়ে নিতে পারেন . নেয়ার আগে অব্যশই দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন , আমরা একটা সাইডে আমাদের ব্যাগ রেখে নেমে পড়লাম পানিতে . পানিতে বসে শুয়ে যেভাবে পারি মজা করলাম. পানি এতো পরিমান ঠান্ডা ছিল যে মনে হচ্ছিলো শরীর বুঝি এখনই জমে যাবে .আর হে মালামাল রাখার ক্ষেত্রে সাবধানতার দিকে খেয়াল রাখবেন ,

বাংলাদেশের পাশেই ইন্ডিয়া . আমাদের সাইড টাকে বলা হয় জাফলং আর তাদের সাইড কে বলা হয় মেঘলায় . মাঝে আপনি বিএসফ ও আমাদের দেশের বিজিবি কে দেখতে পাবেন. যারা সর্বদা সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত . আপনি যখনি ইন্ডিয়ার সাইডে ঢুকতে থাকবেন পানির পরিমান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে , আরেকটু যাওয়ার পর বিএসফ আপনাকে সাবধান করে বাংলাদেশের সীমান্তে ফিরে জিতে বলবে , ওই খানে না যাওয়াটাই ভাল .

আমরা কিছু ক্ষণ মজা করে ছবি তুলে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম . বার বার মনে হচ্ছিলো এর মজার সময় গুলো যদি শেষ না হতো তাহলে অনেক ভালো হতো . পেটে তখন প্রচন্ড খুদা . যাই মাঠ ধরে নদীর দিকে গিয়েছিলাম সেই মাঠ ধরে এগুলে দেখতে পেলাম একটা খাবারের দোকান . বসে পড়লাম খেতে . আমার কাছে পুরো ভ্রমণের এই জায়গাটা বেশি ভালো লেগেছে কারণ পিছনে পাহাড় আর সামনে নদী মাঝে মাঠের মধ্যে বসে খাবার খাওয়া এক অন্য রকম ফিলিং . টাকি মাছের ভর্তা সাথে ডিম্ আর ডাল. মনে হয় স্বর্গের খাবার . খাবার খেয়ে রওয়না দিলাম . আপনি যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে হবে কোথা থেকে বাস ছেড়ে যায় কদম তলির উদ্দেশে . অটো তে করে গেলে ভাড়া লাগবে ১০ টাকা . ভালোমত ধরে বসবেন রাস্তা খুবই খারাপ / তারা আপনাকে বাসস্ট্যান্ড এ নামিয়ে দিবে বাস আসলে উঠে পড়বেন ভাড়া নিবে ৫০ টাকা .

এই ছিল আমাদের সিলেটের জাফলং ভ্রমণ . আজকের দিনে এসেও স্মৃতিতে ভাসে সেই দিনগুলো . আসলে প্রতিটা ভ্রমণই খুবই আনন্দের

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment