সাধারন জ্ঞান

অলসতা কে জয় করুন, সফল হবেন !!

মানুষের জীবনে সবথেকে বড় শত্রু কি জানেন ? খারাপ বন্ধু ? বাঘ ? সিংহ ? নাকি ধুমপান ? না এগুলা কোনটাই বড় ধরনের কোন শত্রু না। আপনার সবচেয়ে খারাপ শত্রু আপনার ভিতরের অলসতা আর সেই অলসতা কে ঢাকার জন্য অযুহাত। মানুষের কোন ব্যার্থতার জন্য যদি তার কাছে জানতে চাওয়া হয় সে তার নিজের অলসতা ঢাকার আগেই ২০-২৫ রকমের অযুহাত দিয়ে বসে। ধরুন আপনি পরীক্ষায় ফেইল করেছেন, আপনাকে জিজ্ঞেস করা হলো বাকি সবাই ভাল নম্বর নিয়ে পাশ করলেও আপনার এই অবস্থা কেন ? আপনি বললেন “স্যার নাম্বার দেন নি”, “আমার জ্বর ছিল”, আসলেই কি পুরো জীবনটা অলসতা দিয়ে কাটিয়ে দিতে চান ? দিনের মধ্যে ৮০ ভাগ সময় আমরা কাটিয়ে দিই বসে বসে অন্যের সমালোচনা করার মাধ্যমে। দিন শেষে সামনে দাড় করিয়ে দিই একটা অযুহাত। সক্রিয় হয়ে কাজে লেগে পড়ুন। কাল থেকে কাজ করবো, পরশুদিন থেকে পড়তে বসবো এসব না বলে এখনই কাজে লেগে পড়ুন। আমরা সবাই স্বর্গে যেতে চাই, কিন্তু স্বর্গে যাওয়ার জন্য কেওই কাজ করতে চাই না। সবাই জীবনটাকে রাজার মত পার করতে চাই, কিন্তু পরিশ্রম করে না। বসে বসে পেতে চাই। আপনি হয়তো ভাবেন যে আপনার বাবার অনেক টাকা আছে আপনার জীবনে কোন সমস্যা হবে না।

সব কিছু তো এক জায়গাতে বসে বসেই পেয়ে যাচ্ছেন। কথা টা ভুল। আপনার বাবা আজকে অনেক ভাল জায়গায় আছে হয়তো, কিন্তু সে জায়গা টা তিনি এমনি এমনি পান নি। তাকে অর্জন করতে হয়েছে। আপনিও অর্জন করুন। কিন্তু অন্য একজন যার বাবার দেখানোর মত কিছুই নাই তার সাথে আপনার পার্থক্য টা হচ্ছে সে যতটা কষ্ট করবে তার লক্ষ্য অর্জন করার জন্য আপনাকে অতটা কষ্টো করা লাগবে না। তাহলে কেন এত অলসতা। ঠান্ডা ঘরের মধ্যে বসে ফেইসবুক আর ইউটিউব দেখেই সময় কাটিয়ে দিয়েন না। আবারো বলছি সক্রিয় হয়ে উঠুন। কাজ করুন, জীবনে সবকিছুর জন্য উপযুক্ত সময় আসবে। তারুণ্য মানেই উদ্যম, এখন তো আপনার সবসময় রক্ত গরম হয়ে থাকার কথা। তবে কেন এয়ার কন্ডিশনার এর ঠান্ডার সাথে মিশে সব কিছু নিস্তেজ করে রেখেছেন?

আমি এখন চিন্তা করি যে কলেজের দুই বছর কেন হেলায় কাটিয়ে দিলাম। একটু সতর্ক থাকলে আজ বাবার বুকের উপর দিয়ে প্রাইভেট ভার্সিটির ফিস নেওয়া লাগতো না। শেষ বয়সে ওনাকে একটু বিশ্রাম দিতাম। সময় থাকতে সক্রিয় না হলে পরে আর হাজার চেষ্টা করেও সেই সক্রিয়তা ফেরানো সম্ভব না। মানুষের আরেকটা সবথেকে বাজে অযুহাত হচ্ছে কপালের দোষ দেওয়া। কিছু না পেলেই একটাই কথা ছুড়ে দেয় “আমার কপাল খারাপ ছিল” । আপনি কি জানেন মানুষের কপাল মানুষ নিজে নিয়ন্ত্রন করে ? আপনি সময় মত পরিশ্রম করুন । কপাল এমনি আপনার উজ্জ্বল হবে। ধরুন আপনি একটা গাছ লাগালেন, গাছে পানি দিলেন না ভালমত, কোন পরিচর্যা করলেন না। গাছ টা বেশি বড় হতে পারলো না। কিছুদিন পরেই মারা গেল। তখন যদি আপনি বলে আমার কপালের দোষ ছি, কথা টা কি মানাবে ? জীবনে সফল হওয়ার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করা লাগে। অলসতার অযুহাত দেখিয়ে কাজ ফেলে রাখলে সে কাজ কখনও শেষ করা যায় না। অনেক কাজ আছে যা মন থেকে না চাইলেও করা লাগে, নিজের বা অন্যের ভালোর জন্য।

সে কাজগুলো করার জন্য আপনার নিজের মনকে বশ করা শিখতে হবে। মন এর উপর নিজের কন্ট্রোল রাখা শিখতে হবে। এখন যে পরিমাণ গরম পড়ছে এই গরমের মধ্যেও যারা রিক্সা চালিয়ে বেড়াচ্ছে একবার তাদের কথা ভাবুন তো। তারা চাইলেই তো ঘরে বসে আরাম করতে পারে। কিন্তু তাদের পেট চালাতে হবে, সন্তানদের পড়ালেখা করাতে হবে। একদিন বসে থাকা মানে অনেক কিছু তাদের কাছে। কিন্তু আপনাকে রোদে বের হতে বলছি না। আপনাকে বলছি নিজের মন এর সাথে যুদ্ধ করুন, অলসতা কে জয় করুন। একটা কাজ করতে একদমই ইচ্ছা করছে না, কিন্তু আপনাকে করতেই হবে। সেক্ষেত্রে কি করবেন? কাজটাকে ভাগ করে নি কয়েকটা ভাগে। তারপর আস্তে আস্তে ভাগ ভাগ করে কাজ টা শেষ করে ফেলুন। দেখবেন মনে অনেক শান্তি লাগবে। কাজ শেষে নিজেকে পুরষ্কৃত করুন। নিজেকে নিজে ট্রীট দিন, কোথাও ঘুরতে যান। অতিরিক্ত আবেগ মানুষকে অলস করে ফেলে, এজন্য আপনাকে বেশি বেশি রোমান্টিক সিনেমা বা নাটক দেখা বাদ দিতে হবে। মোটিভেশনাল বই পড়ুন আর ভিডিও দেখুন। হাসির মুভি দেখুন। মন কে শান্তি দিন দেখবেন মনও আপনার সব ডাকে সাড়া দিবে। আবারো বলছি সক্রিয় হয়ে যান। অলসতা কে জয় করুন। অযুহাত দিবেন না। শেষ করছি একটা জোক দিয়ে।

আমি একটা জোক শুনেছিলাম। এক লোক কোন কাজ কর্ম করেনা সারাদিন বসে টিভি দেখে আর ঘুমায়। তার বউ এর বাপের বাড়ি থেকে যা আসে তাই খাই। একদিন ওই লোকের বউ বিরক্ত হয়ে বললো। “তুমি কি কোন কাজ করতে পারো না ? আমাদের খাবার কিনে দেয় আমার বড় আপা, ছোট আপা বাসা ভাড়া দেয়, আমাদের কি লজ্জা হওয়া উচিত না ?” লোকটি জবাব দিল “হ্যা আসলেই তোমার লজ্জা হওয়া উচিত। তোমার দুই বোন কতকিছু দেয় কিন্তু তোমার ভাই দুইটা কিছুই দেয় না। এটা আসলেই লজ্জার ব্যাপার”

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আজব মানুষের আজব শখ

Sharmin Boby

‘প্যানগায়া’ রহস্য অতঃপর ৭টি মহাদেশের জন্ম

MP Comrade

অশ্রুত, অপরিচিত রথসচাইল্ড পরিবার

Raihan Tanvir

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy