সাহিত্য কথা

হাওর এক্সপ্রেস – পর্ব 2

বাহিরের অন্ধকারে ট্রেনের সাথে আমিও মিলিয়ে যাচ্ছি. হঠাৎ করে আবিষ্কার করলাম ট্রেনের মধ্যে জোনাকি পোকা. আচ্ছা, জোনাকি পোকার ভিতরে কি সোডিয়াম থাকে নাকি রেডিয়াম থাকে? তাহলে সবুজ বাতি জ্বলে কেন? আচ্ছা থাকে, থাকে না সে বিষয়. যে যার মতো জ্বলুক

ততক্ষনে পাশের লোকের সাথে জম্পেশ আড্ডা শুরু
কি করেন আপনি? প্রশ্নটা দিয়েই আমি শুরু করলাম.
কাল জেল থেকে ছাড়া পেয়েছি, এখন বাড়ি যাচ্ছি.
আপনি আপনার স্ত্রীকে খুন করলেন কেন?
কি করবো ভাই? দিনে দিনে তার অত্যাচারের পরিমান এতো বেড়ে গিয়েছিলো যে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছিলো. তাই অপরাধটা করেই ফেললাম.
মন্টু ভাই, আপনার মেয়ে কোথায় ?
মন্টু মিয়া এই কথার উত্তর দেওয়া মাত্রই ট্রেন স্টেশনে আসলো. মন্টু মিয়া নেমে গেলো. তার কিছুক্ষন পরেই ট্র্রেন ছেড়ে দিলো. আমি দাঁড়িয়ে তার বিদায় দিচ্ছিলাম. কি মনে করে যেন পিছন ফিরে তাকালো, আর কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলো. কিন্তু ট্রেনের হুইসেলের কারণে তার কথা শোনা যাচ্ছিলো না.
সে হয়তো বলতে চাচ্ছিলো কিভাবে আমি তার নাম জানলাম?

যেসব লোকেরা বউ মেরে জেলে যায় তাদের চোখ সবসময় লাল থাকে. আর জেল থেকে বের হওয়ার সময় তার পকেটের সিল মোহরটি এখনো যায়নি. সেখানেই তার নাম স্পট বোঝা যাচ্ছে.

আমার দাদা বলে গিয়েছিলো,
মানুষকে তার চোখ দেখে বিবেচনা করবে, বিবেক দেখে নয়
বিবেক তোমাকে ধোঁকা দিবে, চোখ তা নয়

একটা সময় ট্রেন থেমে গেলো. বুঝতে পারলাম ট্রেন বোধয় আর সামনে যাবে না. যাত্রীদের সাথে আমিও নেমে গেলাম. ভোরের আলো উঁকি দিচ্ছে আকাশে. বুঝতে পারলাম অন্ধকার এখনই হারিয়ে যাবে. আশেপাশে তাকিয়ে দেখতে পেলাম, আমি এখন মোহনগঞ্জে.

একটা খাবার হোটেলে ঢুকে পড়লাম. একটা পিচ্চি ছেলেকে ডেকে বললাম,
এই পিচ্চি, এই দিকে আয়.
জ্বি সার , কন
আমার জন্য একটা পরোটা , একটু চিনি আর এক গ্লাস পানি নিয়ে আয়
জ্বি সার , আনতাছি
একটা পরোটা আর একটা বাটিতে করে চিনি নিয়ে আসলো. আমি পানির মধ্যে চিনি গুলিয়ে পরোটা তা পানির মধ্যে পরোটা চুবিয়ে চুবিয়ে খাচ্ছিলাম. অদ্ভুত এক মজা!
পরোটা খেতে খেতে পেপার হাতে নিয়ে একটা জায়গায় চোখ আটকে গেলো. নিচে দেখি আমার ছবি! লেখা আছে,

একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি, একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি
ছেলেটির নাম ইমন মাহমুদ ইমু.
পরনে ছিল লাল প্যান্ট আর সাদা শার্ট
বয়স: ২৪ বছর
কেউ তাহার সন্ধান পেলে নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করুন.
সৌজন্যে তাহার বাবা

আমি বিজ্ঞাপনটা দেখে অবাক হইনি,, অবাক হয়েছি আমার নামটা দেখে. বাবা খুব রেগে গেলে আমাকে ইমু বলে ডাকতেন. যাই হোক এতো শত চিন্তা না করে চুপচাপ খেয়ে উঠলাম. খাওয়া শেষে পিচ্চিটাকে ডাক দিলাম,
এই পিচ্চি, এই দিকে আয়
সার , আমারে পিচ্চি কইবেন না
আমার নাম মজনু
ওরে দেখতো এইটাকে চিনিস কিনা
সার, এইডা তো আপনে . সার, আপনে কি হিরু নাকি ?
হুম, বল কত টাকা বিল আসছে ?
আরে না সার, টেকা লাগবো না. আপনে আমাগো দোকানে আইসেন এইডাই আমগো কপাল

আমি আর কথা না বাড়িয়ে বাহির হয়ে গেলাম . স্টেশন থেকে বের হয়ে হাঁটা শুরু করলাম গন্তব্যহীন পথে . আজ কোনো কারণে মনে হয় সূর্য রেগে আছে . মনযোগ সূর্য থেকে সরিয়ে রাস্তার দিকে দিলাম . খেয়াল করলাম কিছু পুলিশ একত্রে দাঁড়িয়ে আছে আর আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে . আমি বিষয়টা না দেখার ভান করে তাদের সামনে দিয়ে যাওয়া মাত্রই কে যেনো বলে উঠলো

স্যার এই হালায় না ?
হুম এইডাই তো . ডাক দে

ওই এই দিকে আয়
স্যার আমারে ডাকছেন
হুম তোরে ডাকতেছি
বলেন স্যার .
কিরে এই এলাকায় নতুন নাকি ?
জ্বি স্যার
বাড়ি কি ঢাকা ?
জ্বি স্যার
ওই ওরে গাড়িতে উঠা . ওরে থানায় নিয়ে ডলা দিলে আসল কথা বের হইয়া আসবো.
স্যার আমার কাছে কিন্তু ভাড়া নাই .
ওই ইয়ার্কি করস. দাড়া থানায় নিয়া মুরগি ডলা দিলে ইয়ার্কি বাইর হইবো .

আমি উঠে গেলাম গাড়িতে .

বল বাসা থেকে কেন পালাইছোস . চক্র কি ?
স্যার পালাই নাই মেজাজ খারাপ ছিল বাইর হইয়া আইসা পড়ছি . স্যার মেডাম নাকি আপনার জন্য ঘুমাইতে পারে না , আপনি নাকি নাক ডাকেন ?

ওই ওরে হাজতে ঢুকা. ওরে মুরগি ডলা দিতে হইবো

অরে মন্টু মিয়া তুমি হাজতে ?
স্যার আমি তো আপনেরে খুজতাছি . আমার মেয়েটা তার মারে খুজতাছে . পরে আমি উপায় না পেয়ে আমার বোনের কাছে রেখে আবার ট্রেনে উঠে পড়ি .এক হালায় আমার নাকে হাত দিয়ে গুতা মারসে , হেরে আমি ইচ্ছা মতো মারি . হের্ লাইগা আমারে ধইরা নিয়ে আসছে .
স্যার আপনে এইখানে কেন .
জানি না, শুধু জানি এখন আমারে মুরগি ডলা দিবো .

এই কথা বলতে বলতে আমার আর মন্টুর উপর শুরু হইলো মুরগি ডলা

মন্টুরে মুরগি ডলার সাথে সাথে ডিম্ পেরে দিয়েছে . ডলার পর দেখি সে ডিম্ খাচ্ছে .
মন্টু ডিম্ পারতে কি বেশি কষ্ট হইছে?
স্যার মজা কইরেন না ডিমটা অনেক গরম ছিল .আপনি চিল্লান নাই কেন . ডলা যত জোরে হইবো চিল্লান তার থেকে আরো বেশি জোরে হইবো , তাইলে ডলার পরিমান কমে যায় .

চলবে

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আমার ভালবাসার রাজকন্যা : পর্ব -০২

TANVIR AHAMMED BAPPY

গল্পঃ চন্দ্রকথন

Rockib Hasan

প্রতিবিম্বঃ পর্ব ৪

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy