Now Reading
ভারতীয় অর্ধনগ্ন নাচ আমাদের কাছে সংস্কৃতি, দেশী ব্যান্ডগুলো অসভ্য?



ভারতীয় অর্ধনগ্ন নাচ আমাদের কাছে সংস্কৃতি, দেশী ব্যান্ডগুলো অসভ্য?

আমরা যখন ছোট ছিলাম। বড় ভাই বোন দের কাছে গানের মানুষ বলতে পরিচিত হয়েছিলাম এন্ড্রু কিশোর, রুনা লাইলা, আইয়ুব বাচ্চু, জেমস। ছোট থেকেই আমরা দেশি মিউজিশিয়ান দের সাথে গভীর ভাবে পরিচিত নিজেদের পরিবার থেকেই। এখন বাচ্চারা পরিবার থেকে পরিচিত হয় হানি সিং, মিকা সিং, অরিজিৎ সিং এর সাথে। এই দিনটা আমরাই তৈরি করেছি। ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে একাত্ব ভাবে আমরা মিশে গেছি। আমরা এখন বাচ্চাদের শেখাই সানি লিওন এর বেবি ডল গান। এখন নতুন প্রজন্ম বাংলা থেকে হিন্দি ভাষা বেশি শিখছে। কেনই বা আমরা নিজেদের গান ছেড়ে অন্য দেশের সাথে মিশে যাচ্ছি। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ ছেলে মেয়েরাই এখন বেজবাবা সুমন কে চেনেনা, অনেকেই হয়তো জানেনা এশিয়ার সেরা গীটারিস্ট কে। একটু বিট বেশি আর ধুম ধাড়াক্কা টাইপের অর্ধনগ্ন নৃত্য থাকলেই তারা ঝুকে পড়ে। দেশি গানে তো আর মর্ডান কাপড়ের অস্বাভাবিক ভঙ্গিমার নৃত্য দেখতে পাবে না। তাহলে কেনই বা তারা দেশি গান ফলো করবে ? বাচ্চারাও দিনে দিনে ঝুকে পড়ছে সেইসব জিনিসের প্রতি। তাহলে কি আর ২০ বছর পর আমরা এমন এক প্রজন্ম পাবো যারা আজম খান নামের কাওকে চিনেই না। আমরা ছোটবেলায় বড় ভাই বোন দের দেখতাম বাংলা গান শুনতো, আমরাও সেই গান মুখস্ত করে বাইরে গেয়ে বেড়াতাম। আপনি হয়তো বলবেন বাংলা সিনেমার গান এর লেভেল অনেক নিম্ন তাই হিন্দি সিনেমার গান শুনি। তাহলে আমরা যেগুলা গাইতাম আগে, “ভালো আছি ভালো থেকো”, “পড়েনা চোখের পলক”, “এক যে ছিল সোনার কন্যা” এগুলা কি চাইনিজ গান ? না এগুলা ভাল গান না। কারণ এই গানে তো কোন বেড সিন নাই, অটো টিউন এর খেলা নাই। ভারতীয় রা সবসময় কি আফসোস করে জানেন ? তারা ভাবে, আমাদের যদি একটা আইয়ুব বাচ্চু থাকতো, আমাদের যদি একটা বেজবাবা সুমন থাকতো, আমাদের যদি একটা মাইলস, এল আর বি থাকতো। যদি জেমস থাকতো তাহলে আর গল্প বানিয়ে রক্সটার মুভি বানানো লাগতো না। আর আমরা সারাদিন তাদের পিছনেই ঘুরতে থাকি। অটো টিউন দিয়ে যারা গান করে তারা যদি দেশে আসে সেই শো এর টিকিটের দাম হয় আকাশচুম্বি। অথচ দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে, প্রতিভা কে কাজে লাগিয়ে একটা ব্যান্ড যখন এলবাম বাজারে আনে তখন তার দাম মাত্র ৫০ টাকা হওয়া সত্বেও আমরা মুখ ফিরিয়ে নিই। নিজেরা যদি নিজেদের রত্ন গুলোকে এমন অবহেলা করি তাহলে এই যে গর্ব আর ঐতিহ্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে একদিন ভাবতে পারেন ? আমাদের কি নেই বলুন তো ? যিনি আমাদের দেশে ব্যান্ড সঙ্গীতের সূচনা করে গেলেন “পপ সম্রাট আজম খান” তাকে আমরা নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় না করিয়ে পরিচয় করাচ্ছি হানি সিং এর সাথে। এশিয়া মহাদেশ এর মধ্যে আইয়ুব বাচ্চুর, কমল দের মতো একজন গীটারিস্ট নাই। বেজবাবা সুমন এর মত একজন জন্ম দিতে ভারতীয় দের যুগ যুগ লাগবে। জেমস এর মত রকস্টার নাই বলে তারা তিনবেলা আফসোস করে। আপনি কি নাম শোনেননি সেইসব কালজয়ী ব্যান্ড এর যারা সারা বিশ্বে পরিচিত এক নামে। সেই মাইলস, এল আর বি, নগর বাউল, অর্থহীন, ফিডব্যাক, ও্যারফেজ, শিরোনামহীন, আর্টসেল আর পপ গুরু শুরু করে দিয়ে গেছিলেন উচ্চারণ দিয়ে। আমার খুব আফসোস হয় যখন দেখি তরুণ ছেলেমেয়েরা সঞ্জীব চৌধুরী কে চিনেনা, লাকি আখন্দ কে চিনে না। কোন সমাজে বাস করছি আমরা ? কোন প্রজন্ম নিয়ে গর্ব করি? কোন আধুনিকতা নিয়ে বড়াই করি ?

আপনি হয়তো আমার এত ধারালো কথার জবাবে বলবেন বাংলা ব্যান্ড মানে অপসংস্কৃতি। ব্যান্ড যারা করে সবাই বাংলা গান এর মান সম্মান ডুবানোর জন্য গান করে। বড় বড় এলোমেলো চুল, অভদ্র পোষাক, অসভ্য বাদ্যযন্ত্র। আমি আপনাকে বলবো হ্যা এগুলা অভদ্র। আমরা সানি লিওনের ড্রেসের মত অতটা সভ্য নই, আমরা হানি সিং এর গান এর মত অতটা আধুনিক নই, আমরা হিন্দি গানের মত অটো টিউন করতে পারি না, আমরা ওদের মত সাউন্ড এডিট করে বাদ্যযন্ত্র সভ্য বানাতে পারি না, আমরা অভদ্র কারণ আমাদের ব্যান্ড মিউজিশিয়ান রা আইটেম সং বানায় না। কথাগুলো পড়ে হয়তো আপনি হাসছেন। আমি হাসির কিছু বলি নি। আমরা অর্ধনগ্ন কাপড়ে নৃত্য গ্রহণ করতে পারি কিন্তু জেমস এর সূরের আর কথার যাদুতে ভরা গান গ্রহন করতে পারি না কারণ সে অসভ্য। বাহ !!

বাংলাদেশের সিনেমা গুলোতে এখন ভারতীয় দের সাথে তাল মিলিয়ে আইটেম গান করা শুরু করেছে। কেন ভাই ?? আমরা কেন তাদের কে অনুসরণ করবো ? সালমান শাহ কে চিনেন ? তার ছবিতে কোন আইটেম গান ছিল না। ছিল কিছু কালজয়ী গান তাতেই তার সিনেমাতে একটা সীট এর জন্য সিনেমা হল গুলোতে মারামারি হতো। নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখুন।

আপনি হয়তো বাংলা গান শোনেন না। কখনো ফরিদা পারভিন এর গলায় দুই একটা লালন এর গান শুনে দেখেছেন ? না আপনি দেখেননি। লালন এর মত এমন সম্পদ আছে আমাদের আমরা সেটা ভুলে যাই। আর মনে রেখেই বা কি লাভ। প্রতি সপ্তাহে হিন্দি নতুন নতুন গান আসছে। কি সুন্দর নাচ!! কি সুন্দর বিট ওয়ালা গান!! তারা তো আমাদের প্রতিদিনই গান উপহার দিচ্ছে কত সহজেই। আর বাংলা ব্যান্ড গুলো কত খাটা খাটনির পর আমাদের গান দেয়। থামেন ভাই, নিজের দেশের জিনিস যদি নিজে সামনে না আনেন তাহলে কিভাবে হবে ? দেশকে ভালোবাসুন, বছরে একদিন পান্তা ইলিশ খেয়ে না। শুধু মাত্র বিদেশী গান এর আগে দেশি মিউজিশিয়ান দের স্থান দিন। পরের প্রজন্ম কে শেখান।

About The Author
Ahmmed Abir
জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বাচতে শিখেছি। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করে সামনে এগিয়ে যেতে শিখেছি। পছন্দ করি গান গাইতে গীটার বাজাতে আর গেইম খেলতে।
0 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment