নাটকে ন্যাকামোপনা কবে শেষ হবে? ( পর্ব-১ )

Please log in or register to like posts.
News

বাংলাদেশী সিনেমা যখন সিনেমা হলগুলোতে মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করলো, মানুষ বাংলা সিনেমা থেকে মুখ সরিয়ে নিতে লাগলো, টিভি বা মিডিয়াতে বিনোদনের একমাত্র উৎস হিসেবে বাংলা নাটক তখনও এই দেশে তুমুল জনপ্রিয়। একটা সময় বিটিভিই ছিল ভরসা; পরিবারের সবাই মিলে ধারাবাহিক আর এই সপ্তাহের নাটক দেখতাম; তখন পরিবারের সবাই মিলে নাটক দেখা যেত এক সাথে বসে। আমরা দেখেছি আফজাল হোসেন, আসাদুজ্জামান নূর, শমী কায়সার, সূবর্ণা মোস্তফা, শম্পা রেজা, আফসানা মিমি, তারানা হালিম, তরু মোস্তফা, ডলি জহুর, সাদিয়া ইসলাম মৌ, জাহিদ হাসান, আজিজুল হাকিম, আবদুল্লাহ আল মামুন, তানিয়া আহমেদ, মাহফুজ আহমেদ, তানভীন সুইটি, তারিন সহ অনেক অনেক গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিনয় যাদের অনেকের নাম এই মুহূর্তে মনে আসছে না। যাদের নাম উল্লেখ করেছি, তাদের অনেকেই এখনো দাপটের সাথে অভিনয় করে যাচ্ছেন। আবুল হায়াত, এ.টি.এম শামসুজ্জামান, আমিরুল হক চৌধুরী, মাসুদ আলী খান, হাসান ইমামদের মতন শক্তিমান অভিনেতারা বৃদ্ধ বয়সেও তরুণদের সাথে চিরতরুণের মত পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন।

সত্যিই, পুরোনো দিনের সিনেমার মতই নাটক গুলোও যেন পুরোনো দিনের হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই দিনগুলো বেশিদিন আগের নয়। আজ থেকে ১৫ বছর আগেও বাংলা নাটক মানেই ছিল নির্মল বিনোদন, বিনোদনে আবেগ-আনন্দ-হাসি-বেদনার সঞ্চার, নাটক মানেই ছিল শিক্ষার বিষয়বস্তু, সামাজিক অবক্ষয়কে তুলে ধরে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী করা- অবক্ষয়কে প্রমোট করা নয়; শিল্প আর সাহিত্যের মিশ্রণে গড়া একটা সমৃদ্ধশালী ভান্ডার। মানুষের আবেগের স্থান ছিল এই নাটক, বাকের ভাই তার সেরা নিদর্শন, মানুষের অপেক্ষা ছিল কবে কখন হুমায়ুন আহমেদ কিংবা হানিফ সংকেতের নাটক প্রচার করা হবে।

নাহ! এখন আর সেইদিন নেই; বাংলা নাটকের সুদিনও হারিয়ে যেতে বসেছে। এটা ঠিক, ডিজিটালাইজেশানের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত অনেক উন্নয়ন ঘটেছে, অনেক ভালো নাটকও নির্মিত হচ্ছে, ভালো মেধাবী নির্মাতাদেরও আগমন ঘটেছে, দর্শকপ্রিয় হচ্ছে, কিন্তু কোথায় যেন একটা বিশাল ঘাটতি রয়েই যাচ্ছে। সেই ঘাটতিটা অভিনয় শিল্পীদের ভেতর প্রকট আকারে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এইবার আসা যাক, আমাদের আজকের মূল টপিকে। যেটা বলছিলাম আরকি, শিল্পীদের ভেতরে শিল্পের একটা বিশাল ঘাটতি; আর এই ঘাটতি পূরণে ন্যাকামোর আশ্রয়! নাকি অভিনয়ে ন্যাকামো করাটাও এখন শিল্পের আওতায় পড়ে গেছে? আসলেই যে কি, তা শিল্পী আর পরিচালকরাই ভালো বলতে পারবেন! তবে আমি এইটুকু নিশ্চিত করতে পারি, সত্যিকার দর্শকেরা এই ন্যাকামো আর লুতুপুতু প্রেমের গল্পে সত্যিকার বিনোদন খুজেঁ পাচ্ছেন না, শুধুমাত্র শিল্পীদের ন্যাকামো আর হাত পা মাথা নাড়ানোর ভেতর দিয়েই অনেক নাটক শেষ হচ্ছে, ভালো গল্প হলেও ভালো শিল্পীর অভাবে সেই গল্প প্রকাশ পাচ্ছে না- এমনই যদি হয়, তাহলে মানুষ কেন এই বাংলা নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেনা বলুন?

এখন আমি সেই সকল লুতুপুতু প্রেমের গল্পের ন্যাকার ষষ্ঠিদের উপস্থাপন করছিঃ

এই তালিকায় প্রথমেই যিনি আসবেন বা আসা উচিত বলে মনে করি, তিনি আর কেউ নন- হালের জনপ্রিয় সেনসেশান মিডিয়া অলরাউন্ডার তাহসান রহমান খান। তাহসান নামেই তিনি পরিচিত। একদিকে তিনি বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অন্যদিকে তিনি গান, মডেলিং, টিভিসি, এমনকি নাটকে অভিনয়ও করেন। অসম্ভব রকমের মেধাবী এই মানুষের কন্ঠে গান শুনেই বাংলাদেশের মানুষ তাকে চিনেছে। তার গান আর কম্পোজিশান নিঃসন্দেহে অসাধারণ। ভিন্ন একটা ছোঁয়া আছে যেন তাতে। তিনি মডেলিং করেন, টিভিসি করেন, সবকিছুই ঠিক আছে, কারণ তিনি সুদর্শন আকর্ষণীয় একজন পুরুষ এবং এতে তেমন মেধার প্রয়োজন হয়না যেটা নাটকের ক্ষেত্রে প্রয়োজন; কিন্তু অভিনয়ে এসে উনি কেমন যেন একটা তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। সত্যি কথা হলো, অভিনয়টা সবার দ্বারা হয়না, এটি এমন একটা শিল্প যা রপ্ত করতে মানুষের বছরের পর বছর লেগে যায়! যতদূর জেনেছি, তাহসান মূলত ছায়ানট আর শিশু একাডেমী থেকে গান শিখেছেন। আশা করি, আমার এই জানাতে ভুল নেই। ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তো, একজন গান শেখা মানুষ পরবর্তীতে বন্ধুদের নিয়ে তৈরী করলেন ব্যান্ড; পরে নিজের থেকে গান করতে লাগলেন। আমি জানিনা, শিশু একাডেমীতে কিংবা ছায়ানটে ব্যান্ড সংগীত শেখানো হয় কিনা; আশা করি হয়না, কিন্তু যে ব্যাসিক থাকার দরকার , শেখার দরকার, সেইটা যে তার ভেতর আছে তা স্পষ্ট। এই নিয়ে আমি কিছুই বলতে পারিনা। কিন্তু আমি এটা নিয়ে অবশ্যই কথা তুলতে পারি যে , তিনি আসলে নাটকের যোগ্য কিনা! কারণ, একজন মানুষ গানের সারগাম শিখে নিজেকে বিভিন্ন ধাচেঁর গানের জন্য রপ্ত করতেই পারেন; কিন্তু অভিনয়ের অ আ ক খ না জেনেই কিভাবে একজন অভিনয়ে আসেন? একজন অভিনয় শিল্পী হতে কত সাধনার প্রয়োজন সেটা একজন মঞ্চ-অভিনেতা বা অভিনেত্রীর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন পেয়ে যাবেন। কিন্তু আজকাল তো মঞ্চ অভিনয়ই উঠে যাচ্ছে। কেন যাবেনা বলেন? শিল্পী যদি হুট করে অভিনেতা বনে যেতে পারেন; দুইদিন মঞ্চ করা ছেয়েমেয়েরা তো বলেই বসবে, “মঞ্চে গিয়ে কেউ কোনোদিন শিল্পী হতে পেরেছে?” আসলেই আমরা শর্টকাটের যুগে বাস করছি, সবাই শুধু শর্টকাট খুজঁতে যাই।

যাইহোক, যা বলছিলাম আরকি! তাহসান খানের নাটক আমি প্রায়ই দেখি, হ্যাঁ, ইউটিউবে দেখি, আমি বাংলা নাটকের অন্ধ ভক্ত, হিন্দি-উর্দু-তামিল-তেলেগু মুভি দেখি না, ওগুলা আমার কাছে বস্তাপঁচা; একটু ভালো বাংলা সিনেমা পেলে দেখি আর ইংরেজি ছবি দেখি। ইংরেজি একসেন্ট গঠনে আর ইংরেজি শিখতে ভালো কাজেও আসে বটে। তো, তাহসানের প্রথম নাটক দেখেছিলাম যেটা ছিল “অফবিট” নামে। একপ্রকার মিউজিক্যাল ড্রামা বলে তার নতুন অভিনয় বেশ ভালোই লেগেছিল; সাবলীল ছিল। এরপর আবার তাকে বহুবছর পর পর্দায় দেখি “নীলপরী নিলাঞ্জনা” নামে একটি নাটকে। সত্যি কথা, আমি সেই নাটক আরো তিনবার দেখেছি মম আর তাহসান এর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে। মনে মনে বলেছিলাম, এই লোকটা ( তাহসান ) আসলেই একটা জিনিয়াস! অভিনয়ে এসেও ফাঁটিয়ে দিচ্ছে পুরো। কেন এই কথা বলেছিলাম? কারণ তিনি তখনও অভিনয়ে নতুন। ইউটিউব ঘেঁটে দেখি মাঝে তার আরো কয়েকটা নাটক প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু মাঝের সময়ের “আমাদের গল্প”, “মনসুবা জাংশন”, “মনফড়িং এর গল্প” নাটকগুলো দেখে আমার মন ভেঙ্গে গেলো। তার সেই ফাঁটিয়ে দেয়াটা ঐ “অফবিট” কিংবা “আমাদের গল্প” পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। নাহ! আমি বলছিনা তার নাটক হিট বা দর্শকপ্রিয় হয়নি, অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু অভিনয়ের স্কিলটা ঐ পর্যন্তই আটকে আছে। আর তেমন উন্নতি হয়নি; কোন ভ্যারিয়েশান আসেনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই তার অভিনয় দেখতে এক ঘেয়ে লাগে। এটা শুধু আমার কথা না; দেশের আর ৫০জন মানুষের কাছে শুনে দেখুন, তারাও একই কথা বলবে। তারা তার অভিনয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েছে; কারণ কোনো নতুনত্ব নেই; সেই একই টাইপের প্রেমের গল্প ঘিরে কাহিনীর সুতো এদিক সেদিক নড়েচড়ে  আরকি! পরিচালকেরাও দেখেন, খুব জনপ্রিয় তাহসান ভাইকে নাটকে নিলেই হিট, তার আগের করা হিট নাটকের মতই কাহিনী রেখে নাটক টেনে নিয়ে যান। এইতো কয়েকদিন আগের কথা বলছি, এই বছরেই ভালোবাসা দিবসে বোধহয় ইউটিউবে তাহসান আর মিমের একটা নাটক দেখলাম যেটা কিনা সম্পূর্ণ প্রকার ন্যাকামোতে ভরা। সেই পুরোনো স্টাইলে ডায়লগ ছোড়া, ২০০৪ এর মতই মুখের এক্সপ্রেশান- অবাক হবার চিরচেনা অভিব্যক্তিঃ “গাল গোল করে হা করা “ – অঙ্গভঙ্গি আরকি! সব মিলিয়ে মনে হলো বাচ্চা ছেলে শরিফুলও উনার চাইতে ভালো অভিনয় করতে জানে। তাহসানের “এলিয়েন ও রুম্পার গল্প” নাটকটা দেখেছেন? সেখানে এলিয়েনের কোনো এক্সপ্রেশান কিংবা আবেগ অনুভূতি ছিলো না; থাকেনা নাকি! আসলে তাহসান কে অমন এক্সপ্রেশানহীন চরিত্রেই ভালো মানায়! কারণ সেখানে তো আর মেধার প্রয়োজন হয়না, রোবটের মত হেঁটে গেলে আর মেশিনের মত মুখ ঘোরালেই হয়ে যায়……..

আমি জানিনা, আমার লেখা কখনো তাহসান খান এর চোখে পড়বে কিনা! আমি আমার এই কথা গুলো বলার জন্যে উনার নাম্বারে কল দিয়েছিলাম সেই ২০১৪ সালে “কথা বন্ধু মিথিলা” নামক নাটকটা দেখার পরে। ফোন ধরেছিলেন মিথিলা ভাবী। অফিসে ছিলেন। জানতাম না ঐ নাম্বার তখন মিথিলার কাছে।

যাইহোক, একটা কথাই শেষে বলতে চাই, তাহসান খান, আপনি একজন অসম্ভব মেধাসম্পন্ন মানুষ। কাজ করতে করতেও নাকি মানুষ শেখে; কাজ রপ্ত করতে পারে। আজ ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আপনি আপনার সেই ২০০৪ এর এক্সপ্রেশান কিংবা “নীলপরী নীলাঞ্জনা” টাইপ থেকে বের হয়ে আসতে পারলেন না? সবকিছুর তো একটা লিমিট থাকা চাই , নাকি? কেন সেই একই অভিব্যক্তি? কেন সেই ভালোবাসার নাটকে একই ধরণের ন্যাকামী?

এগুলা দ্বারা কি তবে- “তাহসান অভিনয় পারেন না”– এটাই প্রকাশ করেনা?

দুই লাইন আগেই লিমিটের কথা বলছিলাম, আমাদের দেশেই এমন একজন অভিনয়শিল্পী আছেন যিনি একদম লিমিটলেস ন্যাকামোতে ওস্তাদ। তিনি তাহসানকেও হার মানান এই ক্ষেত্রে, তিনি অবশ্যই ভালো অভিনয় করেন, তার সেই যোগ্যতাও আছে কিন্তু তার ব্যাপারে মানুষের অভিযোগ আরেকটু বেশি শোনা যায়; আমার কথা না, আমজনতা উনাকে ভালোবেসে সজল আপু  নামেই চিনে থাকেন। তার কারণ উনার রোবোটিক অভিনয়। শুধু আমজনতা না, উনি নিজেও খুব ভালো করে জানেন তার এই বিশেষ গুণের কথা; আই মিন তার কাছে ন্যাকামো একটা আর্ট, উনি এটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

সজল নূরের প্রতিটা নাটকে তার অভিনয় ঠিক একই ধরণের, সেই চিরাচরিত সংলাপ বলা, হাত ও পায়ের অস্বাভাবিক কম্পন সৃষ্টি, আহ্লাদী কন্ঠে মেয়েলী স্টাইলে কথা বলা, মনে হয় যে নায়িকার জায়গায় উনি থাকলেই বোধহয় বেশি ভালো করতেন।

সজল কে নিয়ে খুব বেশি কথা বাড়াতে চাচ্ছি না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ এসব খুব ভালো করেই জানে আর তার একঘেয়ে ন্যাকামোর জন্য অনেক মানুষই তার নাটক দেখা বাদ দিয়ে দিয়েছে। নাটকে তার কান্নার দৃশ্যগুলো দেশের প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে ব্যথার ঝড় তোলে, একজন মেয়েও হয়তো অত সুন্দর করে কাদঁতে পারে কিনা সন্দেহ!

সজল, আপনাকে প্রশ্ন আমার, কত দিন এভাবে চলবেন? হাত-পা আর ঘাড় এদিক সেদিক করে কয়টা ডায়লগ দিলেই কি অভিনয় হয়ে গেল?

আচ্ছা, আপনারা কি আপনাদের সিনিয়রদের কাছ থেকে শিখতে পারেন না? আমি সঠিক জানিনা আপনার অভিনয় বিষয়ে পূর্ব জ্ঞান আছে কিনা; থাকলে তো এমন হবার কথা নয়।

অভিনয় একটা শিল্প, অভিনয়ে ন্যাকামো করা অসভ্যপনা, দর্শকদের সাথে প্রতারণা করা। আমি আসলেই জানিনা, দোষটা কি শুধুই আপনাদের নাকি সাথে পরিচালক বা নির্মাতাদেরও? আপনারা দেশের অতি পরিচিত, জনপ্রিয় মুখ, নতুনদের কাছে সিনিয়র, আপনারাই যদি এমন অভিনয় করেন, তারা কি শিখবে তবে?

হ্যাঁ, এর নমুনা আমরা অলরেডি দেখতেই পাচ্ছি, অভিনয়ের অক্ষরজ্ঞানহীন বেশ কয়েকজন মিডিয়াতে ঢুকে একদম মেইনষ্ট্রিম মিডিয়াকে শেষ করে ফেলছে।

আসছি তাদেরকে নিয়ে পরের পর্বগুলোতে!

( পাঠক /পাঠিকাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমি নিজেও তাহসান আর সজল ভাই এর ভক্ত; তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমার এই লেখা। এখানে আমি সম্পূর্ণভাবে কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। পরের পর্বগুলোতে কোন কোন ন্যাকার-ষষ্ঠিকে দেখতে চান কমেন্টে জানাবেন )

চলবে………………………..

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?