Now Reading
ইনসেপশন বিশ্লেষণ (পর্ব ১)



ইনসেপশন বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

এই মুভিটা বানানো হয়েছে পুরোপুরি ড্রিমবেসড আইডিয়া দিয়ে। আমি ইন্টারস্টেলার নিয়ে লিখার পর, এই মুভি বিশ্লেষণ এর জন্য রিকুয়েস্ট এসেছে, আমি যতটুকু পারছি আমার জ্ঞান থেকে এবং বিভিন্ন ইনফরমেশন থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এক্সেক্টলি রেফারেন্স দিতে পারছিনা কারন একেক সময় একেক বই থেকে তথ্য গুলো পড়েছিলাম। কোনো ভুল তথ্য দিয়ে ফেললে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টি তে দেখবেন আশা করি, তবে অবান্তর তথ্য দেয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ। শুরু করি..

 

স্বপ্ন জিনিস টা আসলে কি? স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীরা কম ঘাটাঘাটি করেন নি,কিন্তু এর একেবারে পারফেক্ট ব্যাখ্যা এই পর্যন্ত কেউ দিতে পারেন নি। স্বপ্নের অদ্ভুত কিছু উদাহরণ আছে যেমন অনেকে দাবি করে সে স্বপ্নে যা দেখে তাই হয়..তা কিন্তু সবসময় মিথ্যা না,

আবার, অনেক ছোট বাচ্চারা এক্সিডেন্টাল ভাবে বিছানা ভিজিয়ে ফেললে তারা অজুহাত দেয় সে স্বপ্নে দেখেছে সে বাথরুম এ গেছে। কথাটা কিন্তু মিথ্যা না,অনেকের এই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে।

কিছুটা অবাক করা হলেও সত্যি স্বপ্নের সাথে আমাদের বাস্তব জীবনের স্মৃতি গুলোর সম্পর্ক থাকে। যাবতীয় স্মৃতি গুলো আমরা স্বপ্নে দেখি, অনেক সময় আবার আমাদের কোনো কিছুর প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলে তা আমরা স্বপ্নে দেখি। কোনো ব্যাপারে ভীত থাকলেও আমরা স্বপ্নে দেখি। যেমন, অনেক মানুষ এর কমন একটা স্বপ্ন হচ্ছে অঙ্ক পরীক্ষা দিচ্ছে কিন্তু কিছু পারছে না, আবার আরেকটা কমন স্বপ্ন হচ্ছে খুব উপর থেকে কেউ পরে যাচ্ছে। এ ধরনের অনেক অদ্ভুত ব্যাপারের মধ্যে আরেকটি হলো অনেক সময় এমন হতে পারে, স্বপ্নে আমরা দেখলাম কেউ খুচিয়ে খুচিয়ে আমাদের হাতের আংগুল ফুটো করছে,ঘুম থেকে ওঠার পর হাতে খোচা খোচা দাগ পাওয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা টা এভাবে দেয় যে, আমাদের শরীর এর কোনো অংশে আমরা ব্যাথা পেলে সেটি স্নায়ুর মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কে যায়,তারপর ব্যাথার অনুভূতি আমরা পাই, এখন স্বপ্নের পুরো ব্যাপার টা ঘটে আমাদের মস্তিষ্কে,তাহলে সেখান থেকে ব্যথার অনুভূতি রিভার্স করে শরীরেও আসতে পারে।

স্বপ্নের দৈর্ঘ্য কিন্তু খুব বেশী হয়না, সাধারনত এর সময় থাকে ৩-৪ সেকেন্ড। কিন্তু আমাদের কাছে কিন্তু মনে হয় স্বপ্নে আমরা বিরাট বিরাট সিনেমা সমান কাহীনি দেখে ফেলি।

 

এগুলো শুধু স্বপ্নের বেসিক কিছু ধারনা,পুরোটাই থিওরিটিকাল। এখন মুভির অংশে আসি..

 

মুভিতে আরো বেসিক এবং ডিপ কিছু ধারনা ক্রিস্টোফার নোলান ব্যবহার করেছেন।

 

আগে একটু মূল কাহীনি টা বলে নেই, তারপর ব্যাখ্যায় যাবো, এখানে একদল ড্রিম ইঞ্জিনিয়ার থাকে,এরা স্বপ্ন বা চিন্তা চূরি করে। এখানেই খটকা লাগলো তাইনা? স্বপ্ন বা চিন্তা আবার কিভাবে চুরি করে? হ্যা ব্যাখ্যায় আসছি একটু পর। (১)

 

তাদের এই কাজ টা লিগাল না। তাদের দলে একজন থাকে আর্কিটেক্ট (লিওনার্দো ডিক্যপ্রিও) যে স্বপ্ন টা গোছাবে,বিল্ডিং,রাস্তা,সব কিছু। (২)

 

একজন এর দায়িত্ব থাকে যার স্বপ্নে তারা প্রবেশ করেছে তার ভেতরের গোপন তথ্য গুলো বের করে আনা। (৩)

 

একজন থাকে কেমিস্ট, যে ঠিক করবে যে ধাপে ধাপে স্বপ্নের কতটা গভীরে তারা যাবে? (৪)

 

ব্যাখ্যা ১ : স্বপ্ন চুরি করা বা চিন্তা চুরি করা: একজন মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে সে কিন্তু স্বপ্নের ভেতর জানেনা যে সে স্বপ্ন দেখছে, সে তখন সবাইকে বিশ্বাস করে, তার সবচেয়ে গোপন থেকে গোপন কথা গুলো সে বলে দেয়। আর সেগুলি কি হতে পারে? হতে পারে তার ব্যাংক একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড, হতে পারে তার গোপন ভল্ট এর পিন নাম্বার, হতে পারে এমন কোনো তথ্য যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীর কাছে মারাত্মক মূল্যবান।

 

ব্যাখা ২ : স্বপ্নের আর্কিটেকচার এর কাজ কি? সে স্বপ্ন টা এমন ভাবে গোছাবে যেনো তারা সবাই জানে কোথায় কোন রাস্তা টা আছে, যার স্বপ্নে তারা প্রবেশ করছে সে সন্দেহ জনক কিছু টের পেলে তারা পালাবে কোনদিক দিয়ে,অর্থাৎ তারা “কিক” টা স্বপ্নের ঠিক কোথায় রাখবে?

 

এখন প্রশ্ন আসে “কিক” কি?

আচ্ছা আমরা যখন স্বপ্ন দেখি তখন আমরা ধরমর করে ঘুম থেকে উঠি কখন? কোনো এক্সিডেন্ট হলে, ওপর থেকে ধপ করে পড়লে, বা স্বপ্নে মারা গেলে। আর্কিটেক্ট স্বপ্নে “কিক” এর ব্যাবস্থা রাখবে যেনো তারা জরুরি মুহুর্তে বের হয়ে যেতে পারে।

 

এখন আসি ব্যাখ্যা ৩ এ: গোপন তথ্য এক্সট্রাক্ট করবে কিভাবে? মানুষ কাকে তার সব গোপন কথা বলে দেয়? যাকে সে সবচেয়ে বিশ্বাস করে। আমি যদি কারো স্বপ্নে প্রবেশ করি বা তার চিন্তায় প্রবেশ করি, তাহলে আমার নিজেকে এমন একজনের পরিচয়ে উপস্থাপন করতে হবে যাকে সে বিশ্বাস করে। এবং অভিনয় এর মাধ্যমে তার ভেতরের কথা বের করতে হবে, এই দায়িত্ব পালন করে তৃতীয় জন।

 

এখন আসি ব্যাখ্যা ৪ এ, কেমিস্ট এর দায়িত্ব কি: এই অংশ টা হচ্ছে সবচেয়ে কমপ্লেক্স অংশ। ইনসেপশন মুভিতে এই দল টা শুধু একটা স্বপ্নে প্রবেশ করেই তথ্য পেয়ে যায়না, তারা স্বপ্নের ভেতর স্বপ্নে প্রবেশ করে। সময় এর ধীরতা বাড়তে থাকে। প্রথমে তারা একজন কে ঘুম পাড়িয়ে তার সাথে ইনসেপশন কানেক্ট করে স্বপ্নে প্রবেশ করে। ওই স্বপ্নে আর্কিটেক্ট “কিক” রেখে স্বপ্নের ভেতর সবাই আবার ঘুমায়, এবং দ্বিতীয় লেয়ার এ প্রবেশ করে, সেখান থেকে তারা প্রয়োজন মত তথ্য সংগ্রহ করে।

 

কিন্তু তারা যদি যার মাথায় তথ্য নিতে ঢুকছে শুধু তথ্য নিয়েই ক্ষান্ত না হয়? তারা যদি তার মাথায় কোনো আইডিয়া প্ল্যান্ট করে আসতে চায়? তখন কি করতে হবে?

আরো গভীরে যেতে হবে, তৃতীয় লেয়ার থেকে চতুর্থ লেয়ার। আর সে লেয়ার থেকে ধপ করে তারা জেগে উঠতে পারবেনা, প্রতি লেয়ার এ তাদের নির্দিষ্ট একটি “কিক” স্থাপন করে যেতে হবে, এবং লেয়ার বাই লেয়ার জেগে উঠতে উঠতে তারা রিয়েলিটি তে পৌছাবে। এবং কোন লেয়ারে ঘুমের গভীরতা কতটা হবে, তা নির্ধারন করে হচ্ছে কেমিস্ট..

 

আজকে বেসিক ধারনা গুলো দিয়ে শেষ করছি, পর্ব ২ এ মুভির বিস্তারিত আলোচনায় যাবো ইনশাল্লাহ।

 

About The Author
Kakon sultana Sultana
Mrinmoyi Jahan
0 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment